সিলেট নগরীর চৌকিদেখি খাসদবির এলাকায় হঠাৎ একটি মিনি ট্রাক থামে। পুলিশ গাড়িটিতে কী আছে দেখতে গিয়ে পায় চোরাই চিনি। এ সময় পুলিশকে ঘিরে ধরে চোরাই চিনির কারবারিরা। তারা ট্রাকটি ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পথ চলতি এ ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ফেসবুক লাইভে দেন এক ইউপি চেয়ারম্যান।
ফেসবুকে লাইভ করা হচ্ছে দেখে পালায় চোরাকারবারিরা। এরপর পুলিশ চিনিভর্তি ট্রাকটি বিনা বাধায় জব্দ করতে সক্ষম হয়। শুক্রবার (১২ জুলাই) জুমার নামাজের পর সিলেট নগরীর খাসদবির পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে যোগাযোগ করলে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুনু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, পুলিশ আগে থেকেই সেখানে ছিল। মিনি ট্রাক থেকে ৫৮ বস্তা চোরাই চিনি জব্দ করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ট্রাকে থাকা দুই ব্যক্তিকে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের ঠিক পরক্ষণে একটি মিনি ট্রাক ঘিরে একদল লোক পুলিশের সঙ্গে বচসা করছিল। তারা ট্রাকে থাকা চোরাই চিনি ছাড়িয়ে নেওয়ার নানা রকম চেষ্টা চালাচ্ছিল। এ পথ দিয়ে তখন জুমার নামাজ পড়ে যাচ্ছিলেন সিলেটের সীমান্ত উপজেলা গোয়াইনঘাটের ডৌবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম নিজাম উদ্দিন। চোরাই চিনির ট্রাকটি ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে দেখে তিনি পুলিশের পাশে থেকে তার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ দেওয়া শুরু করেন। লাইভ হচ্ছে দেখতে পেয়ে আড়ালে চলে যায় চোরাই চিনির কারবারিরা।
ইউপি চেয়ারম্যান এম নিজামউদ্দিনের ফেসবুকে ঢুকে দেখা গেছে, তাৎক্ষণিকভাবে লাইভটি দেড় হাজার দর্শক দেখেছেন। ‘আমার সামনে দিনেদুপুরে ভারতীয় চিনির গাড়ি আটক, খাসদবির পয়েন্ট...’ শীর্ষক লাইভটিতে স্থানীয় মানুষজনও কথা বলেছেন। তারা চোরাচালানের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানকে স্বাগত জানান এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ারও আহ্বান জানান। ঝুঁকি নিয়ে ‘লাইভ’ কেন করলেন? জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন সীমান্ত এলাকার পাশে। চোরাচালান এখন সামাজিক নয়, মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এ অবস্থায় কেবল মহানগরের পুলিশ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে দেখে আমি পুলিশের সহায়তায় লাইভটি করেছি। লাইভ দেখে চোরাকারবারিরা পালিয়েছে এবং পুলিশ নির্বিঘ্নে তার দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়েছে।’
চৌকিদেখি এলাকার খাসদবির নামের জায়গাটি সিলেট বিমানবন্দর সড়কের পাশে। সড়কটি সিলেট নগরীর মূল পয়েন্ট আম্বরখানায় গিয়ে মিলিত হয়েছে। চৌকিদেখি থেকে আরও দুটো ফাঁড়িপথ রয়েছে। আম্বরখানা বড় বাজার ও পীরমহল্লা এলাকা দিয়ে গেছে রাস্তাটি। এই তিন পথের মিলনস্থল থেকে গত বৃহস্পতিবার বিকালে একটি মিনি ট্রাক আটক করে ৪৪ বস্তা চোরাই চিনি জব্দ করে পুলিশ। এই গাড়িটিও স্থানীয় জনতা ধরিয়ে দিয়েছিল।
শুক্রবার (১২ জুলাই) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের টিম-১ টহল ডিউটির সময় এয়ারপোর্ট থানাধীন খাসদবির রূপসা আবাসিক এলাকায় প্রবেশ গেটের সামনে কোম্পানীগঞ্জ-সিলেট থেকে একটি মিনি ট্রাকে করে মোট ৪৬ বস্তা ভারতীয় চিনি নিয়ে যাওয়ার সময় জব্দ করা হয়। দুই হাজার ২০৮ কেজি চিনির মূল্য আনুমানিক দুই লাখ ৬৪ হাজার ৯৬০ টাকা।
এসএমপির এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, চোরাই চিনির সঙ্গে জালাল উদ্দিন (৫৩), মো. রিপন মিয়া (২৫) ও রাসেল আহমদ (২৪) নামের তিন ব্যক্তিকে আটক করে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়ি গোয়াইনঘাট উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের লেংগুড়া গ্রামে।