খাগড়াছড়িতে সহিংসতার ঘটনার জেরে ‘বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতার’ ডাকে ৭২ ঘণ্টার সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলছে।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিএইচটি ব্লকেড’।
টানা তিনদিনের এই অবরোধের ঘোষণায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে খাগড়াছড়ি থেকে দূরপাল্লার এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যান চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
তবে অবরোধ চললেও বর্তমান পরিস্থিতি গত দুই দিনের তুলনায় অনেকটা স্বাভাবিক। পুরো জেলার মানুষরা আতঙ্কিত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সংঘাত-সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। পুরো জেলায় জোরদার করা হয়েছে সেনা, পুলিশ ও বিজিবির টহল।
খাগড়াছড়ির বুধবারের সহিংসতার রেশ শুক্রবার পার্শ্ববর্তী জেলা রাঙামাটিতেও ছড়িয়েছে। সংঘর্ষ-সহিংসতায় খাগড়াছড়িতে তিনজন এবং রাঙামাটিতে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক পাহাড়ি-বাঙালি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই জেলায় জারি করা হয়েছিল ১৪৪ ধারা।
এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শনিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলা পরিদর্শনে আসবেন বলে জানা গেছে।
খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শালবন এলাকা থেকে মোহাম্মদ মামুন (৩৪) নামের একজনকে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে নোয়াপাড়া এলাকায় নিয়ে হাত-পা বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে কয়েকজন পাহাড়ি যুবক। নির্যাতনের একপর্যায়ে মামুন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আরও আঘাত পান। বুধবার ভোরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশের সহযোগিতায় মামুনকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বুধবার বিকেলেই খাগড়াছড়ি সদরে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ বাঙালিরা। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবিতে দীঘিনালা উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেন বাঙালি ছাত্ররা। মিছিল নিয়ে তারা লারমা স্কয়ারের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই সময় পাহাড়িরা তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তা রূপ নেয় সংঘাতে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে দীঘিনালা বাসস্ট্যান্ড ও লারমা স্কয়ার এলাকার ১০২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয় চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। দীঘিনালার ওই ঘটনার জেরে রাতে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও পানছড়ি উপজেলা। বৃহস্পতিবার সাড়ে ১০টার পর থেকে জেলা শহরের নারানখাইয়া, স্বনির্ভর ও খবংপুড়িয়া এলাকায় থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যায়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়তে থাকে৷ একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাল্টা গুলি চালালে বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে দুই পাহাড়ি যুবকের মৃত্যু হয়।
দিদারুল রাজু/জোবাইদা/অমিয়/