সিলেট নগরীর চাঁদনিঘাট এলাকায় রয়েছে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান। এসব দোকানে মাটির বিভিন্ন জিনিসপত্রের পাশাপাশি হাতপাখা বিক্রি করা হয়। সম্প্রতি স্কুল থেকে ফেরার পথে সেখানকার একটি দোকানে দুই শিক্ষার্থীকে হাতপাখা কিনতে দেখা যায়।
তাদের মধ্যে একজন বলে, ‘গরম বেশি। এখন বিদ্যুৎও বেশিক্ষণ থাকে না। এ কারণে মা বলেছিলেন হাতপাখা কিনতে। তাই কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’
সিলেটে গত আট দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছিল। তীব্র এ দাবদাহে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। এতে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গরমে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। এ গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে হাতপাখার বাতাস। ফলে নগরীতে হাতপাখা বিক্রি বেড়েছে। যদিও মঙ্গলবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হলে তামপাত্রা কিছুটা কমতে থাকে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী গতকাল বুধবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এক দিন আগে অর্থাৎ গত মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত সোমবার ছিল ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত রবিবার ছিল ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া গত শনিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬.২ ডিগ্রি এবং শুক্রবার ছিল ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সিলেটের বন্দরবাজার, ওসমানী মেডিকেল কলেজ রোড, মহাজনপট্টি, কাজিরবাজার, বেতেরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানগুলোতে এখন হাতপাখা বিক্রি হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাও হাতপাখা বিক্রি করছেন। তালপাতা, বাঁশ, সুতা এবং কাপড়ে বোনা পাখা পাওয়া যাচ্ছে দোকানগুলোতে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের তৈরি পাখাও বাজারে বিক্রি হচ্ছে। প্রকারভেদে একেকটি পাখা ৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাঁদনিঘাট এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল খালিক বলেন, ‘গত এক মাস ধরে প্রতিদিনই হাতপাখা বিক্রি হচ্ছে। কাপড়ের তৈরি পাখার দাম কম। এ কারণে মানুষজন কাপড়ের পাখাই বেশি কিনছেন।’ নগরীর ঘাসিটুলা এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। দিন আনি, দিন খাই। চার্জার ফ্যান কেনার সামর্থ্য নেই। তাই এ গরমে হাতপাখাই আমার পরিবারের ভরসা।’
মদিনা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা রনজিৎ তালুকদার বলেন, ‘গরমে আমরা নাজেহাল। একদিকে যেমন গরম, অন্যদিকে লোডশেডিং। ঘরে ছোট দুটি বাচ্চা আছে। চার্জার ফ্যানও বেশি সময় ব্যবহার করা যায় না। তাই এখন বিকল্প হিসেবে ঘরে হাতপাখাও রেখেছি।’
নগরীর অটোরিকশাচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘একদিকে দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, অন্যদিকে তীব্র গরমে জীবন অতিষ্ঠ। তাই একটি হাতপাখা কিনেছি। অন্তত সাময়িক সময় কিছুটা গরম থেকে স্বস্তি পাব।’
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসাইন গত মঙ্গলবার দুপুরে খবরের কাগজকে বলেন, ‘নগরীর তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। তবে এ মৌসুমে এটা স্বাভাবিক তাপমাত্রা। চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও তাপমাত্রা এ রকমই থাকবে। বৃষ্টির আভাস আছে। যদি বৃষ্টি হয়, তা হলে তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় হবে। এমন তাপমাত্রা অক্টোবর মাস পর্যন্তও চলমান থাকতে পারে।’ এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে সিলেটে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় জেলার তাপমাত্রা কমতে শুরু করে।