খুলনায় মৌসুমি বায়ুসহ লঘুচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে অধিকাংশ সড়কে পানি জমে গেছে। এ ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরীর খালিশপুর মুজগুন্নি, বাস্তুহারা কলোনি, আড়ংঘাটা, মহিরবাড়ি খালপাড়, হাউসিং এলাকাসহ নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষ।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ সপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ৭৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত নগরীতে ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। কিন্তু দুপুরের পর আবারও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর খুলনায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বৃষ্টিতে গোবরচাকা নবীনগর, রয়েল মোড়, বাইতিপাড়া, মৌলভীপাড়া, টিভি বাউন্ডারি রোড, পিটিআই মোড়, মহিরবাড়ি খালপাড়, রূপসা ঘাট, নতুন বাজারসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এদিকে কখনো মুষলধারে আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে গেছে। সড়কে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারা বের হয়েছেন তারা পড়েছেন বিপাকে।
নগরীর পিটিআই মোড়ের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সাদি বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই মোড়ের ছয়টি রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। গত দুই বছর আগে করা উঁচু স্থানগুলোর কারণে পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। নদীতে ভাটা শুরু না হলে এ পানি সরে না। এ কারণে এই নোংরা পানির মধ্যেই চলাচল করতে হয়। প্রতি বর্ষায় নগরীর এমন জলাবদ্ধতার জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনই দায়ী। একটু বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আমাদের চলাচলে অনেক কষ্ট হয়। রাস্তায় গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায় পানিতে।’
মুজগুন্নি এলাকার আব্দুর রহমান বলেন, ‘সড়ক ও ড্রেনের কাজ হলেও আমাদের ভোগান্তির কোনো কমতি হয়নি। বৃষ্টি হলেই নিচু এলাকা ডুবে যায়। সড়কটির পানি আবু নাসের হাসপাতাল ও নেভি স্কুলের মাঝখান দিয়ে যে ড্রেন চলে গেছে, সেখান দিয়ে গিয়ে ময়ূর নদীতে পড়ে। ড্রেন পাকা হয়ে যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানে এক সময় বড় একটি খাল ছিল। অবৈধ দখলের কারণে এটি এখন একটি নালায় পরিণত হয়েছে। এ জন্য পানি নামতে পারছে না।’
অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিত, অনিয়ন্ত্রিত এবং ত্রুটিযুক্ত পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কাজে ধীর গতির কারণে নগরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। মহানগরীর ২২টি খালের অধিকাংশই দখলে। এ কারণে বেশির ভাগ খালের আয়তন সংকুচিত হয়েছে। খালগুলোর এ অবস্থার কারণে শহরে পানির চাপ বাড়ছে। ফলে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘কিছু জায়গায় উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় সেখানে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া শহরের তুলনায় ভৈরব ও রূপসা নদীর তলদেশ উঁচু হওয়ায় জোয়ারের সময় উল্টো নদীর পানি নগরীতে প্রবেশ করে। এ কারণে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে সময় লাগছে।’