পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সাত গ্রামের কৃষি জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকার কারণে ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা দাবি করছেন, দ্রুত কালভার্ট ও স্লুইসগেট নির্মাণ না হলে তাদের রোপিত ধান ও রবিশস্য নষ্ট হবে। প্রশাসন বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন করেছেন।
জানা গেছে, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। স্থানীয়ভাবে রবিশস্য ও বোরো ধান চাষ করে জীবনধারণ করেন ওই এলাকার কৃষকরা। কয়েক দিন আগে অতিবৃষ্টিতে রবিশস্য- মরিচ, বাদাম, মুগের ডালসহ অন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই ক্ষত এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি আবারও অতিবৃষ্টিতে বোপণ করা বোরো ধানের বীজ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
কলাগাছিয়া ইউনিয়নের খারিজ্জমা, কুমারখালী, দক্ষিণ ও পশ্চিম কল্যাণ কলস গ্রামের কৃষি জমি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষক আব্দুল জলিল সিকদার জানান, বিগত সময়ে সরকারি জমি দিয়ে পানি নিষ্কাশনের যে ব্যবস্থা ছিল, তা এক শ্রেণির মানুষ বাঁধ দিয়ে মাছচাষ করছে। আর কৃষিজমির পানি নিষ্কাশনের জন্য একমাত্র ভরসা ঝাটিবুনিয়া স্লুইসগেটের একটি মাত্র কপাট থাকায় দ্রুত পানি নামানো অসম্ভব। ফলে কৃষকের জমির চাষ করা ধানের চারা ও রবিশস্য ধ্বংসের মুখে। এর ফলে প্রতিবছর কৃষকরা নিঃস্ব হচ্ছে। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য কুমারখালী বটতলা এলাকায় বিকল্প কালভার্ট ও স্লুইসগেট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘খারিজ্জমার খালে অবৈধ বাঁধের কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এটি দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ‘বৃষ্টির পানির চাপের স্লুইসগেটের একটি কপাট দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও খালের মধ্যে বাঁধ দেওয়ার কারণে পানির প্রবাহ বেড়ে গিয়ে কৃষকের আমন ধান পানির নিচে রয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘গলাচিপা উপজেলার খারিজ্জমা এলাকায় জলবদ্ধতার যে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশন দিবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।’
এদিকে সম্প্রতি পানি নিষ্কাশনের জন্য বিকল্প কালভার্ট ও স্লুইসগেট নির্মাণের দাবিতে ভুক্তভোগী কৃষকরা মানববন্ধন করেছেন।