সরকার নতুন করে ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিলেও চট্টগ্রামে বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। এদিকে চট্টগ্রামের আড়তদাররা জানিয়েছেন, সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দামে তারা ডিম কিনতে পারছেন না। এ কারণে ডিম বাড়তি দামে বিক্রি করেতে হচ্ছে।
আড়তদাররা জানিয়েছেন, গত ১৫ অক্টোবর উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম নতুন করে নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এতে উৎপাদক পর্যায়ে ১০ টাকা ৯১ পয়সা, পাইকারিতে ১১ টাকা ১ পয়সা ও খুচরায় ১১ টাকা ৮৭ পয়সায় ডিম বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। গত বুধবার থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বাজারে ১২ ট্রাক ডিম এসেছে। এতে প্রতিটি ডিম ১১ টাকা ২০ টাকায় কিনতে হয়েছে।
এর সঙ্গে গাড়ি ভাড়া, শ্রমিক মজুরি যোগ করে পাইকারিতেই ১১ টাকা ৭০ থেকে ৮০ পয়সায় প্রতিটি ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে। কাজেই সরকার নতুন দাম নির্ধারণ করে দিলেও এর প্রভাব উৎপাদক, পাইকার থেকে খুচরা কোনো জায়গায়ই পড়ছে না।
চট্টগ্রাম ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল শুক্কুর লিটন খবরের কাগজকে বলেন, “আমরা সরকারি দামে ডিম কিনতে না পারায় গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর দোকান বন্ধ রেখেছিলাম। ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। ‘ডিম কিনতে সমস্যা হলে প্রশাসনকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’- ডিসির এমন আশ্বাসে আমরা ১৬ অক্টোবর থেকে দোকান চালু করি। তবে বৃহস্পতিবারও বাড়তি দামে ডিম কিনে আনতে হয়েছে। এখন প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা অভিযানে এসে আমাদের আড়তদারদের জরিমানা করবে। তাই আমরা বিষয়টি আবারও জেলা প্রশাসনকে জানাব।”
তিনি আরও বলেন, ‘আগের দামের সঙ্গে তুলনা করলে ডিমের দাম অনেকটাই কমে এসেছে। সরকার যেভাবে নজরদারি বাড়িয়েছেন, আশা করছি পণ্যটির দাম আরও কমে আসবে।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের আড়তদাররা যদি সরকারনির্ধারিত দামে ডিম কিনতে না পারেন, সেটা অবশ্যই প্রশাসনকে জানাতে হবে। বিশেষ টাস্কফোর্স টিম যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে, তাহলে শুধু ডিম নয়, অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামও কমে আসবে।’