ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চুলের সিঁথি কাটতেন মাধবদীতে অবৈধ বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিনাজপুরে চুরির প্রস্তুতির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা বাজেট বাস্তবায়নের ত্রিমুখী পথনকশা: অর্থ পাচার রোধ, দুর্নীতি দমন ও জনসচেতনতা বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যনিলামে বিক্রির উদ্যোগ স্বপ্নের রাজপুত্র ইয়ামাল শান্তি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নে অবদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বীকৃতি পেল আইপিডিসি সজীবতার গান গেয়ে এল বর্ষা বন্ধ চিনিকল চালুর উদ্যােগ ১৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সোনারগাঁওয়ে মামলার পর আতঙ্কে ঘরছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ১৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার চীনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু তাইওয়ানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আতঙ্কে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিরা বাজেট প্রস্তাবের পর শেয়ারবাজারে উত্থান চমৎকার জয়ফুল মথ টাকা সাদা করার সুবিধা আছে, না নেই! সেনাসংকটে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে চাপে পুতিন নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমোদন দেয়নি ভারত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি তিন মাসেও ট্রিলিয়নিয়ার হলেও ইলন মাস্ক থাকেন ৪০০ ফুটের ছোট্ট বাড়িতে সোনালি দিনের খোঁজে স্পেন একসময়ের দাতা এখন গ্রহীতা নীল হাঙরের নাবিক রায়ান মেন্দেস লা রোজার সামনে রূপকথার নায়ক! ১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
Nagad desktop

চট্টগ্রামে কমেনি ডিমের দাম

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৪৮ এএম
চট্টগ্রামে কমেনি ডিমের দাম
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বাজারে আসা ডিম গাড়ি থেকে নামিয়ে দোকানে রাখছেন শ্রমিকরা। ছবি: খবরের কাগজ

সরকার নতুন করে ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিলেও চট্টগ্রামে বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। এদিকে চট্টগ্রামের আড়তদাররা জানিয়েছেন, সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দামে তারা ডিম কিনতে পারছেন না। এ কারণে ডিম বাড়তি দামে বিক্রি করেতে হচ্ছে।  

আড়তদাররা জানিয়েছেন, গত ১৫ অক্টোবর উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম নতুন করে নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এতে উৎপাদক পর্যায়ে ১০ টাকা ৯১ পয়সা, পাইকারিতে ১১ টাকা ১ পয়সা ও খুচরায় ১১ টাকা ৮৭ পয়সায় ডিম বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। গত বুধবার থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বাজারে ১২ ট্রাক ডিম এসেছে। এতে প্রতিটি ডিম ১১ টাকা ২০ টাকায় কিনতে হয়েছে।

এর সঙ্গে গাড়ি ভাড়া, শ্রমিক মজুরি যোগ করে পাইকারিতেই ১১ টাকা ৭০ থেকে ৮০ পয়সায় প্রতিটি ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে। কাজেই সরকার নতুন দাম নির্ধারণ করে দিলেও এর প্রভাব উৎপাদক, পাইকার থেকে খুচরা কোনো জায়গায়ই পড়ছে না। 

চট্টগ্রাম ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল শুক্কুর লিটন খবরের কাগজকে বলেন, “আমরা সরকারি দামে ডিম কিনতে না পারায় গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর দোকান বন্ধ রেখেছিলাম। ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। ‘ডিম কিনতে সমস্যা হলে প্রশাসনকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’- ডিসির এমন আশ্বাসে আমরা ১৬ অক্টোবর থেকে দোকান চালু করি। তবে বৃহস্পতিবারও বাড়তি দামে ডিম কিনে আনতে হয়েছে। এখন প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা অভিযানে এসে আমাদের আড়তদারদের জরিমানা করবে। তাই আমরা বিষয়টি আবারও জেলা প্রশাসনকে জানাব।”  

তিনি আরও বলেন, ‘আগের দামের সঙ্গে তুলনা করলে ডিমের দাম অনেকটাই কমে এসেছে। সরকার যেভাবে নজরদারি বাড়িয়েছেন, আশা করছি পণ্যটির দাম আরও কমে আসবে।’ 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের আড়তদাররা যদি সরকারনির্ধারিত দামে ডিম কিনতে না পারেন, সেটা অবশ্যই প্রশাসনকে জানাতে হবে। বিশেষ টাস্কফোর্স টিম যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে, তাহলে শুধু ডিম নয়, অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামও কমে আসবে।’

দিনাজপুরে চুরির প্রস্তুতির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
দিনাজপুরে চুরির প্রস্তুতির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুর নবাবগঞ্জের একটি আদিবাসী পল্লীতে চুরির প্রস্তুতির অভিযোগে হীরা মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। ফলে পুরো পল্লীটি এখন প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) ভোরে উপজেলার পুঁটিমারা ইউনিয়নের শ্যামপুর টঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হীরা মিয়া জাটিহার গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষিশ্রমিক ছিলেন। 

পুলিশ জানায়, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পূর্বে একটি মামলায় কারাভোগও করেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল হক ও পুলিশ জানায়, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা অনীল টুডু তার বাড়ির একটি ঘরের জানালা ভাঙার শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। ঘর থেকে বের হয়ে তিনি জানালার পাশে হীরা মিয়াকে দেখতে পান। এ সময় তাকে আটক করে আশপাশের লোকজনকে ডাক দেন।

পরে স্থানীয় গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে এসে হীরা মিয়াকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ভোর ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কুদ্দুস এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) ডেভিড হিমাদ্রি বর্মনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সুলতান মাহমুদ/তামান্না রুপা/

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যনিলামে বিক্রির উদ্যোগ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যনিলামে বিক্রির উদ্যোগ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ১০২টি অব্যবহৃত কনটেইনারের পণ্য অনলাইন নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এই উদ্যোগ বন্দরের কনটেইনার জট কমানোর পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগামী ১৭ জুন দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে এ ই-অকশন।

জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে আমদানিকারকদের একটি অংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের পণ্য খালাস করেন না। ফলে এসব কনটেইনার দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরে অবস্থান করে মূল্যবান স্থান দখল করে রাখে। এর ফলে বন্দরের ধারণক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং নতুন কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ই-অকশন বা অনলাইন নিলামের জন্য নির্ধারিত কনটেইনারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে রাসায়নিক দ্রব্য, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ, কাগজজাত পণ্য, ফ্রিজার, জেনারেটর, কাপড়, গৃহস্থালি সামগ্রী, ট্রান্সফরমার এবং কোয়ার্টজ পাউডারসহ নানা ধরনের আমদানিকৃত পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে অনলাইন ই-অকশন ব্যবস্থার মাধ্যমে নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে অংশ নিতে পারবেন। নিলাম-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও শর্তাবলি কাস্টমসের নির্ধারিত ই-অকশন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বন্দরের ইয়ার্ডে ৯ হাজার ৩১৪ টিইউএসএস নিলামযোগ্য কনটেইনার জমা রয়েছে। নিলামের মাধ্যমে বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমসকে বার বার তাগাদা দেওয়া হয় বন্দর থেকে। কিন্তু কিছু নিলাম হলে পরে আবার নিলাম যোগ্য কনটেইনার ইয়ার্ডে এসে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে।

বন্দর কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব কনটেইনার দ্রুত অপসারণ করা গেলে বন্দরের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে কনটেইনার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, পণ্য খালাসের গতি বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে। পাশাপাশি নিলাম থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিয়মিত নিলামকারী বা বিডার ইয়াকুব চৌধুরী বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিতভাবে অব্যবহৃত ও অখালাসকৃত পণ্য অপসারণের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারিতা আরও উন্নত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমে গতি আসবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার (নিলাম) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, চলতি বছরের চতুর্থ ই-অকশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ১৭ জুন। ই-অকশনে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবেন। বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার লক্ষ্যে দ্রুত ই-অকশন দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পচনশীল পণ্য প্রকাশ্যে অকশন দেওয়া হয়। নিলামের মাধ্যমে কাস্টম হাউসের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা আমাদের লক্ষ্য। অনেক সময় নানা জটিলতায় পণ্য নিলামে তুলতে পারি না। অনেক চালানের মামলা থেকে যায়। সেগুলো মামলা নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাই দেরি হয় নিলাম করতে।

সোনারগাঁওয়ে মামলার পর আতঙ্কে ঘরছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
সোনারগাঁওয়ে মামলার পর আতঙ্কে ঘরছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূ এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভয়ে তিনি নিজের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। বর্তমানে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে আছেন। অবশ্য পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

এই ঘটনায় এরই মধ্যে স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত আরেকজন এখনো পলাতক। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- জামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ মিয়া (৪০) এবং তার সহযোগী একই এলাকার শাহিন মিয়া (৩৮)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের সিরাবো গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় দুই সন্তান নিয়ে ওই দম্পতি থাকেন। গত বুধবার বিকেলে রাজমিস্ত্রি স্বামী যখন কাজে ছিলেন, তখন অভিযুক্তরা বাড়িতে ঢোকে। তারা দুই শিশুসন্তানকে ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে। এরপর পাশের বাড়ির একটি বিল্ডিংয়ের কক্ষে নিয়ে ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী সোনারগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তবে ওই নারীর স্বামীর দাবি, থানায় মামলা করতে গেলে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতা বাধা দেন। সেখানেও তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তিনি ওই নেতার নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এদিকে গত শনিবার ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। তার স্বামীর দাবি, মামলা করায় এলাকায় ফিরলে তারা নানা সমস্যায় পড়বেন। এ ছাড়া নিজের পরিবারের সদস্যদেরও তারা এখনো বিষয়টি জানাননি। ফলে কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।

ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জানান, অভিযুক্তদের পরিবার ওই এলাকায় প্রভাবশালী এবং তারা সরকারদলীয় রাজনীতি করেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পর থেকে তারা আতঙ্কে আছেন। এই মামলার কারণে তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে।

সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, মামলা হওয়ার পর দ্রুত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকেও ধরার চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে তারা নিজ বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা
বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। ছবি: খবরের কাগজ

বগুড়ার সান্তাহারে ৪ লাখ মানুষের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল। প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটি দীর্ঘ ২০ বছর পার হলেও এলাকার মানুষ এখনো পুরোপরি চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। ১০ শয্যা করে নারী ও পুরুষের জন্য দুটি ওয়ার্ড ও অপারেশনের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুবিধা থাকার কথা থাকলেও এখানে এখন শুধু বহির্বিভাগে দিনে ৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়া হয়। আর সেখানে রোগীদের দেওয়া হয় শুধু মলম আর ব্যথানাশক ট্যাবলেট। তবে চিকিৎসার এই বেহাল পরিস্থিতির মাঝেও একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার একজন কর্মী এখানে নিয়মিত যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছেন।

আদমদিঘী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে রাব্বি জানান, হাসপাতাটিতে ২৩টি পদ থাকলেও জনবল আছেন মাত্র ১৩ জন। এখনো ইনডোর বা ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়নি। তিনি বলেন, ‘২০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আরও ২০টি পদ সৃষ্টির জন্য কয়েক মাস আগে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য ১০টি পদ ফাঁকা থাকার বিষয়টিও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ হাসপাতালের জন্য পাঠানো যন্ত্রপাতি বগুড়ায় মোহাম্মদ আলীতে রাখা হয়েছে।’

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, দুটি ওয়ার্ড ও অপারেশন ইউনিট তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। একটি কক্ষে বসেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মোছা. ফরিদা খাতুন। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে এখানে যক্ষ্মা প্রতিরোধে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রোগীর যক্ষ্মা হয়েছে কি না পরীক্ষার পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় পরবর্তী চিকিৎসার জন্য।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘বহু বছর আগে উদ্বোধন হলেও চিকিৎসা না পাওয়ায় আদমদিঘীসহ আশপাশের উপজেলার রোগীদের সাধারণ চিকিৎসার জন্যও বগুড়া, নওগাঁ ও রাজশাহীতে যেতে হচ্ছে। এখানে চিকিৎসা বলতে রোগীরা যা পান তা হলো ২-৩টি ব্যথানাশক ট্যাবলেট আর মলম। আর সেটি পেতে হাসপাতালে আসতে হয় দুপুরের আগেই, কারণ দুপুরের পর আউটডোর বন্ধ হয়ে যায়।’ 

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে রাব্বি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকারিভাবে পাওয়া সব ধরনের ওষুধ বহির্বিভাগ থেকে দেওয়া হয়।’

স্থানীয় একটি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল জোব্বার বলেন, ‘হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হলে বগুড়া ও নওগাঁ জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চিকিৎসা খরচ কমবে। একই সঙ্গে দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে।’ তিনি বলেন, ‘উদ্বোধনের পর স্থানীয়ভাবে আমরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আশা করছি, এবার এ হাসপাতালটি চালু হবে। কারণ এ হাসপাতালটি নির্মাণ হয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়।’

হাসপাতালটিতে গিয়ে আরও দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তৈরি কোয়ার্টারগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। হাসপাতালের বারান্দায় জমেছে বালুর পুরু স্তর। অপারেশন ইউনিটের যন্ত্রপাতি এখনো লাগানো হয়নি। পুরো হাসপাতাল চত্বর জঙ্গলে ভরে গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছোটখাটো অপারেশনের জন্যও তাদের জেলা সদরে যেতে হয়। জটিল কোনো রোগের চিকিৎসা বা পরামর্শ পাওয়ার কোনো সুযোগ এখানে নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই হাসপাতালে ডাক্তার আছেন মাত্র তিনজন। চাহিদামতো কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। রোগী না থাকায় নার্সদেরও দেখা মেলে না। ইনডোর সুবিধা না থাকায় ভেতরের দুটি ওয়ার্ডের তালা কত বছর ধরে খোলা হয় না, তা হাসপাতালসংশ্লিষ্ট কেউই জানেন না।

চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫)।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে আনোয়ারার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড চেনামতি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। নিহত প্রিয়ন্তী মাহাতা পাঠনিকোটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুসন্তান পিয়াস বড়ুয়াকে (৫) উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

জানা গেছে, বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া ধারালো ছুরি হাতে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে সে প্রিয়ন্তীর ওপর চড়াও হয় এবং তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। মেয়ের চিৎকার শুনে মা এ্যানি বড়ুয়া বাঁচাতে এলে তেজপ্রিয় তাকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। এরপর মায়ের কোলে থাকা পাঁচ বছরের শিশুসন্তান প্রিয়াসকেও আছাড় দিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় সে। তাদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসতে থাকলে অভিযুক্ত যুবক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। 

নিহত এ্যানি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া জানান, অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া বিদেশ থেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসে। তার কোনো চাকরি বা আয়ের উৎস না থাকায় আত্মীয়তার খাতিরে তাকে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা দিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনে দেই। টাকা পরিশোধের ব্যাপারে তেজপ্রিয় মাঝেমধ্যে কিছু টাকা দিত, আবার কখনো দিত না। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কখনো কোনো বড় ঝগড়াবিবাদ হয়নি। তবে রিকশা কেনার সময় আমাদের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিপত্র বা স্ট্যাম্প করা হয়েছিল। আমার ধারণা, ওই লিখিত কাগজটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিতেই সে রাতে আমাদের ঘরে ঢুকেছিল। আমার স্ত্রী-সন্তানরা বাধা দেওয়ায় তাদের এভাবে নৃশংসভাবে খুন করা হলো। আমার গোছানো সোনার সংসারটা নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। আমি এই ঘাতকের ফাঁসি চাই।

এদিকে রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, ঘটনার বিবরণ শোনেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসপি মাসুদ আলম বলেন, নিহতের পরিবারের তথ্য ও আমাদের প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, হত্যাকাণ্ডের সাথে তেজপ্রিয় বড়ুয়া নামের ওই যুবক সরাসরি জড়িত। সে ভুক্তভোগী পরিবারের খুবই কাছের পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে পরিকল্পনা করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তেজপ্রিয় এর সাথে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার একটি লেনদেন ছিল ভুক্তভোগী পরিবারের। মাসিক কিস্তির মাধ্যমে এসব টাকা পরিশোধের কথাও রয়েছে। এসব নিয়ে প্রথমে মেয়েকে এবং পরে মাকে কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে হত্যা করে। সে বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম ও ডিবি ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নিহত মা ও মেয়ের লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং এই ঘটনায় আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এসএন/