নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ময়নাদ্বীপ লেকের চারপাশে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ছোট দোকান। যেখান থেকে প্রতিদিন পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, ময়লা ও অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য লেকে ফেলা হচ্ছে। এতে সেখানকার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া দোকানের অপচনশীল বর্জ্যসহ রান্না করা খাবার ফেলায় লেকে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েই চলেছে।
এতে শান্তিনিকেতন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দোকানিরা বলছেন, দ্বীপের আশপাশে কোথাও ময়লা সংরক্ষণের পাত্র ও বর্জ্য শোধনাগার নেই। তাই বাধ্য হয়েই তারা ময়নাদ্বীপে ময়লা ফেলছেন।
স্থানীয়রা জানান, ‘টং দোকানের সব ময়লা এই ময়নাদ্বীপে ফেলা হয়। ফলে দ্বীপের সৌন্দর্য নষ্টসহ মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। পাশাপাশি বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়ানোর মাধ্যমে পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে সেখানকার মেডিকেল সেন্টারে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
প্রশাসনের এমন উদাসীনতায় উদ্বেগ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, আগে গানের আড্ডায় শান্তিনিকেতন লোকারণ্য হয়ে থাকত। টং দোকানিদের ময়লা এবং রান্নার নানা বর্জ্য ফেলার কারণে এখন মশা-মাছির উপদ্রব ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এর কারণে এখন আর সেখানে বসে থাকা যায় না। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত ময়লা সংরক্ষণাগার, শোধনাগার নির্মাণ ও সচেতনতা বাড়ানো উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তফা ফয়সাল নাঈম বলেন, ‘ময়নাদ্বীপ নোবিপ্রবির অন্যতম একটি আকর্ষণীয় জায়গা। প্রতিবছর অতিথি পাখির বিচরণের কারণে এর পরিচিতি ক্যাম্পাস পেরিয়ে সারা দেশে ছড়িয়েছে। কিন্তু এর পরিবেশ যদি আমরা প্লাস্টিকসহ অন্য ময়লা-আবর্জনা ফেলার মাধ্যমে নষ্ট করে ফেলি, তাহলে এর সৌন্দর্য নষ্ট হবে। পাশাপাশি এখানে গড়ে ওঠা জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। শুনেছি সম্প্রতি ময়নাদ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাদের কাছে দাবি জানাব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাট ও হাউজিং শাখার প্রধান ডেপুটি রেজিস্টার গোলাপ হোসাইন বলেন, ‘ময়নাদ্বীপে কোনো প্রকার ময়লা না ফেলার জন্য প্রতিটি টং দোকান মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে তারা ময়নাদ্বীপে ময়লা ফেলছে। নির্দিষ্ট বিনে ময়লা জমা করে রাখার জন্য তাদের বলা হয়েছে। সেখান থেকে গাড়ি ময়লা নিয়ে আসবে। আমরা আরও ১০টি ডাস্টবিনের জন্য আবেদন করেছি। ময়নাদ্বীপকে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য আমরা কার্যকরী পদক্ষেপ নেব।’
ময়লা ফেলার বিষয়টি স্বীকার করে টং দোকানিরা জানান, দোকানের সামনে ময়লা রেখে দেওয়ার বিষয়ে তারা জানতেন না। এখন থেকে ময়নাদ্বীপে ময়লা ফেলবেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ছাড়া টং দোকানিরা যেন দ্বীপে ময়লা-আর্বজনা না ফেলে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’