ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অ্যামচেমের নতুন সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন সরকার ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে: কৃষিমন্ত্রী ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২১৬৭ মামলা কিয়ামতের আদালতে সবচেয়ে ভয়ংকর সাক্ষী কে জানেন? ট্রাফিক মামলা নিষ্পত্তি করলেই ২৫ শতাংশ ছাড় বাজেটে ইতিবাচক উদ্যোগের পাশাপাশি উদ্বেগ জানিয়েছে রিহ্যাব জনবল নেবে ব্র্যাক ব্যাংক ম্যাচ শেষেই নির্বাসন, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বিধিনিষেধে ক্ষুব্ধ ইরানের কোচ ধর্ষণচেষ্টায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, দল থেকে বহিষ্কার ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান নীল, সাদা রঙে রাঙা রংপুর, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস তারপরও টুর্নামেন্ট উপভোগের বার্তা কুরাসাও কোচের বিশ্বকাপের পুরো পারিশ্রমিকই পাচ্ছেন সোমালির রেফারি আরতান দেশে ফিরলেন ৫৬ হাজার ৮৬৮ হাজি, মারা গেছেন কতজন? রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব: জিএম কাদেরের মার্কিন-ইরান যুদ্ধের আবহে ফিফা বিশ্বকাপ কম আনন্দময়: ইরান অধিনায়ক ধোবাউড়ায় ৫ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, শরীরে ধর্ষণের আলামত রবীন্দ্র সরোবরে উদীচীর বর্ষা উৎসব রাঙামাটিতে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে মানববন্ধন ঢাকা-ময়সনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ তামাক ও নিকোটিনের প্রলোভন থেকে প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাম উপসর্গে ময়মনসিংহ মেডিকেলে আরও ২৮ শিশু ভর্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রামপুরায় ২ জনকে হত্যা মামলার রায় ২৮ জুন নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন ইসিবি প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনে ভয়াবহ বিমান হামলা রাশিয়ার, নিহত ৯ দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন ডা. জাহেদ ব্রাজিলে দুই হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৬ যে ১১ প্রতিষ্ঠানে দান করলে মিলবে আয়করে ছাড়
Nagad desktop

আনিসুলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই দিতেন মামলা

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৫২ পিএম
আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৫৭ পিএম
আনিসুলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই দিতেন মামলা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় টানা তৃতীয়বারের মতো জায়গা করে নিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি পরপর তিন মেয়াদে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে করেছেন অনেক অপকর্ম। নিজ সংসদীয় এলাকায় অনেক কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়েছে। মসজিদে দাঁড়িয়ে বলা কথাও রাখতে পারেননি। তাকে নিয়ে কেউ সমালোচনা করলে তার বিরুদ্ধে দেওয়া হতো ডিজিটাল আইনসহ বিভিন্ন মামলা।

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মালিকানাধীন সিটিজেন্‌স ব্যাংক পিএলসির একটি শাখা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর চালু হয়। এরপর থেকে আনিসুল হকের সংসদীয় আসন কসবা ও আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বড় ব্যবসায়ীদের ওপর নেমে আসে অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা এফডিআর, ডিপিএস করার চাপ। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে চাপ দিয়ে অন্য ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির টাকা সিটিজেন্‌স ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে নিয়ে যাওয়া হতো। আখাউড়ার বাসিন্দা ওই ব্যাংকের এক কর্মকর্তা রাজনীতিবিদদের এ কাজে সহায়তা করতেন। কার কার বেশি টাকা আছে এসব তথ্য ওই কর্মকর্তা রাজনীতিবিদদের দিতেন। এরপর রাজনীতিবিদরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের চাপ দিতেন।

আবার কেউ কেউ আনিসুল হককে খুশি করতে তার ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, এফডিআর কিংবা ডিপিএস করেছেন। আখাউড়ায় এক ডজনের মতো সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থাকলেও ওই পৌরসভার টাকার একটি বড় অংশ রাখা হতো কসবার সিটিজেন্‌স ব্যাংকের শাখায়। কেননা, ওই সময় পৌর মেয়র ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল। আখাউড়াতে তাকজিল খলিফাই মূলত প্রভাব খাটিয়ে সিটিজেন্‌স ব্যাংকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টাকা রাখতে বাধ্য করাতেন। কসবাতে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান দৃঢ় করতে কাজ করতেন সাবেক আইনমন্ত্রীর আরেক ঘনিষ্ঠজন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবন।

তবে গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। চাপ দিয়ে যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল তাদের অনেকেই টাকা উঠাতে শুরু করেন। অনেকে আবার ব্যাংক কী অবস্থায় পড়ে- সেই ভয় থেকেও টাকা উঠিয়ে ফেলেন। চাপ দিয়ে টাকা আনার কাজে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা এক ব্যাংক কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই ওই শাখা থেকে বদলি হয়ে ঢাকায় চলে গেছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিটিজেন্‌স ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পায় ও এটিকে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন আনিসুল হকের মা বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহানারা হক। তিনি মারা যাওয়ার পর মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন তৌফিকা আফতাবকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান বানানো হয়। ২০২২ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই কসবার নয়নপুর বাজার শাখার উদ্বোধন হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের টাকা তার এখানে এফডিআর করা ছিল। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন তাকজিল খলিফা প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের চাপ দিয়ে ওই টাকা সিটিজেন্‌স ব্যাংকে নিয়ে যান। আখাউড়া পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, তৎকালীন মেয়র একক সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অঙ্কের টাকা সিটিজেন্‌স ব্যাংকে নিয়ে রেখে দেন। তখন এ বিষয়ে কেউ কিছু বলারও সাহস পাননি। তবে শিগগিরই ওই টাকা সেখান থেকে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাগারে আছেন। তার ঘনিষ্ঠজন সিটিজেন্‌স ব্যাংকের চেয়ারম্যান তৌফিকা আফতাবও বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তিনি সন্তানদের সঙ্গে কানাডায় অবস্থান করছেন বলে আলোচনা আছে। তৌফিকা আফতাব দেশ থেকে হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ বিষয়ে তদন্ত করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

মসজিদে দাঁড়িয়ে বলা কথাও রাখতে পারেননি, আওড়াতেন ফাঁকা বুলি

‘আমি যা বলি তা করি’ নিজ নির্বাচিত এলাকায় আয়োজিত বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নিয়মিতই এ কথাটা বলতেন সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর কথা ও কাজের মিল রেখে তার নির্বাচনি এলাকা কসবা ও আখাউড়া উপজেলার মানুষের মন জয় করে নেন। নির্বাচনে জেতার পর সারা দেশে যখন মন্ত্রী-এমপিরা দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে স্বর্ণ কিংবা রুপার নৌকাসহ এটা-সেটা নেওয়া শুরু করেন, তখন গণসংবর্ধনায় উপস্থিতদের মধ্যে পাঁচ হাজার গাছের চারা বিতরণ করে প্রশংসা কুড়ান আনিসুল হক। সাধারণ মানুষের ফোন তিনি ধরেন- এ প্রশংসাও ছিল মুখে মুখে।

তবে দিন যত যায় এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে থাকে। তার কথা ‘ফাঁকা বুলি’ হিসেবে প্রমাণিত হতে থাকে। চাটুকারবেষ্টিত থাকা সাবেক এ মন্ত্রী মিল রাখতে পারেননি কথা ও কাজের। তিনি নিজে কিছু বললেও চাটুকারদের স্বার্থ উদ্ধার না হলে তারা ওই কাজটি করতে দিতেন না। নিয়মিত ফোন ধরার বিষয়টি থেকেও তিনি সরে আসেন । সবচেয়ে খারাপ বিষয় হয়ে দাঁড়ায় চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে টাকা না নেওয়ার যে কথা বলতেন, সেটি শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। মন্ত্রী সরাসরি টাকা না নিলেও তার একাধিক ঘনিষ্ঠজন চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ একটা সময় ছিল যখন মন্ত্রী হাতে থাকা ইন্টারভিউ কার্ড দেখে কে গরিব সেটি খোঁজ করতেন। পরবর্তী সময়ে সেই প্রক্রিয়া তিনি ধরে রাখতে পারেননি।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আখাউড়ায় একটি মিনি স্টেডিয়াম করার ঘোষণা দিয়েছিলেন আনিসুল হক। একাধিক সভা-সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। কোথায় করবেন সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথাও জানান। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতি দীর্ঘ পাঁচ-সাত বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। এ বছরের নির্বাচনে আগে তিনি এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আখাউড়া উপজেলার আজমপুর রেলওয়ে স্টেশনে দুটি আন্তনগর ট্রেন যাত্রাবিরতির প্রতিশ্রুতি দেন। এমনও বলেন যে, ‘নির্বাচিত হয়ে আমি যেদিন আসব এর আগে থেকেই এখানে ট্রেন থামবে। অর্থাৎ আমি যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করেই আসব।’ ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি এলাকায় একাধিকবার এলেও ট্রেনের যাত্রাবিরতির বিষয়টি ফাঁকা বুলি হিসেবেই রয়ে যায়।

বছরখানেক আগে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে রাস্তার বেহাল দেখে বেশ চটেন আনিসুল হক। এ সময় তিনি হাসপাতালটি দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্যত্র স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে কাগজে-কলমে এ কাজ বেশি দূর এগোয়নি। তবে আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠজন তাকজিল খলিফা চাচ্ছিলেন তার মালিকানাধীন জায়গা যেখানে আছে, সেখানে যেন হাসপাতালটি হয়। দলীয় রাজনীতিতেও বেশ অপরিপক্বতার পরিচয় দেন আনিসুল হক। কথায় কথায় কসবা ও আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা তিনি করতে পারেননি। নিজেই বনে যান কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ঘনিষ্ঠজন ও এপিএস অ্যাডভোকেট রাশেদুল কায়সার জীবনকে বানান সাধারণ সম্পাদক।

আখাউড়ায় প্রবীণ সব রাজনীতিবিদকে তিনি ‘মাইনাস’ করে রাখেন। সাধারণ সম্পাদক করেন আরেক ঘনিষ্ঠজন পৌর মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজলকে। আর পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদদের বাদ দিয়ে তাকজিল খলিফার পছন্দের লোক মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়াকে সভাপতি করেন। যে কারণে আখাউড়া আওয়ামী লীগের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে আসে তাকজিল খলিফা কাজলের হাতে। কয়েক মাসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক বছরেও আখাউড়া আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি আনিসুল হক। মূলত, তাকজিল খলিফা তার নিয়ন্ত্রণকে হাতছাড়া না করতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে দিতেন না। তাকজিল খলিফা একই সঙ্গে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়কের পদ ধরে রাখেন। প্রায় ১০ বছর ধরে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার কথা বললেও আনিসুল হক সেটা করতে পারেননি।

চলতি বছরে কসবা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের সময় মসজিদে দাঁড়িয়ে বলা প্রতিশ্রুতিও রাখতে পারেননি আনিসুল হক। চেয়ারম্যান পদে আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই মো. সাইদুর রহমান স্বপন ও সাবেক এপিএস রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মন্ত্রী ভোটকে সামনে রেখে গত ১৭ মে স্থানীয় মডেল মসজিদে দেওয়া বক্তব্যে দুজনকে আপনজন উল্লেখ করে নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করে সুষ্ঠু ভোটের আশ্বাস দেন। তবে সেখানে সুষ্ঠু ভোট না হওয়ার বিষয়টি ছিল ওপেন সিক্রেট। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান প্রার্থী রাশেদুল কায়সার ভোট কারচুপির অভিযোগ আনেন আনিসুল হক ও তার ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে।

আনিসুল হকের গ্রেপ্তারের খবরে ওই সময়ে কসবা ও আখাউড়ায় একাধিক আনন্দ মিছিল-সভা বের করে বিএনপি। এসব কর্মসূচি থেকে অভিযোগ করা হয়, আনিসুল হক মুখে রাজনৈতিক সহাবস্থানের কথা বললেও কসবা ও আখাউড়ায় বিএনপিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেননি। তিনি অনেককে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। চাকরি দেওয়ার নাম করে তার লোকজন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এলাকার রাস্তাঘাট দেখলেই বোঝা যায় তিনি উন্নয়নের নামে ফাঁকা বুলি আউড়ে গেছেন। 

মন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করলেই হতো ডিজিটাল আইনসহ বিভিন্ন মামলা

শুধু বিএনপি নেতা-কর্মীই নন, সাবেক আইনমন্ত্রীর খড়্গ থেকে রক্ষা পাননি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও। এমনকি আওয়ামী লীগদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ আলমের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়। এসব মামলার বেশির ভাগই আইনমন্ত্রী কিংবা তার ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখির কারণে করা হয়।

নেতা-কর্মীরা জানান, মন্ত্রী কিংবা তার কোনো ঘনিষ্ঠজনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখা ছাড়াও সভা-সমাবেশে মন্তব্য করে হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছেন। দলীয় নেতা-কর্মীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে কসবা ও আখাউড়া থানায় ডিজিটাল আইনে অন্তত ২০টির মতো মামলা ও জিডি হয়। এসব মামলায় অনেককেই জেল খাটতে হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলার অভিযোগেও ঢাকাতে জিডি হয়। 

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের মার্চ মাসেই সাতটি মামলা করা হয় কসবা থানায়। রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবনসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযাগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় এসব মামলা করা হয়। মামলায় আওয়ামী লীগদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহআলম, এমপি প্রার্থী শ্যামল রায়, সৈয়দ মো. মহসীন, তসলিমুর রেজাসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। 

২০২০ সালের জুন মাসে ‘হক কথা তিতা লাগে’ নামে একটি ফেসবুক আইডিতে তৎকালীন আইনমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় মামলা হয়। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিম মিয়ার করা মামলায় উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে মাঈন উদ্দিন সরকারকে আসামি করা হয়।

আনিসুল হকের বিরুদ্ধে বলায় ২০২০ সালের ২ জুলাই আখাউড়াতে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি (তৎকালীন ডাকসুর ভিপি) নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে মিছিল হয়। মিছিল শেষে নূরের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এ সময় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ট্রাফিক মামলা নিষ্পত্তি করলেই ২৫ শতাংশ ছাড়

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
ট্রাফিক মামলা নিষ্পত্তি করলেই ২৫ শতাংশ ছাড়
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে ‘ট্রাফিক আইন মানবো, নিরাপদ সিলেট গড়বো’ এই স্লোগানে চলছে ট্রাফিক সপ্তাহ ২০২৬। এ উপলক্ষে বিশেষ জরিমানা ছাড় দিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। ১৪ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালীন মোটরযান আইনে মামলা নিষ্পত্তি করলে ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।

রবিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় এসএমপি মিডিয়া সেল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর নির্দেশনায় ১৪ জুন হতে ২০ জুন পর্যন্ত ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক মোটরযান আইনে করা মামলার জরিমানা আগামী ২০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করলেও সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় পাবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজরুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, মোটরযান আইনে করা মামলা নিষ্পত্তি ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে মানুষজনকে উদ্বুদ্ধ করতেই মামলা নিষ্পত্তিতে জরিমানা আদায়ে এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই ছাড় তারাও পাবেন, যাদের ১৪ জুনের আগে মোটরযান আইনে মামলা হয়েছিল।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া ট্রাফিক মামলা নিষ্পত্তি করে এই বিশেষ সুবিধা নিতে নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

শাকিলা ববি/খাদিজা রুমি/

নীল, সাদা রঙে রাঙা রংপুর, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
নীল, সাদা রঙে রাঙা রংপুর, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস
ছবি: খবরের কাগজ

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১টায় ঘোষণা দেওয়া হলেও ৯টা থেকে টাউন হল মাঠে জড়ো হতে থাকেন আর্জেন্টিনা ভক্তরা। পরনে আকাশি সাদা রঙের জার্সি হাতে আর্জেন্টিনার নানা আকৃতির পতাকা। প্রিয় দেশের পতাকা ব্যানার নিয়ে ও বাঁশি ফুঁকে হাঁটাচলা শুরু করেছে ফুটবল প্রেমিরা।

প্রথমে টাউনহল মাঠে প্রিয় খেলোয়াড় মেসিকে উৎসর্গ করে মুখোশ পড়ে সম্মান জানানো হয়। বিশাল আকৃতির পতাকা আর ছোট-বড় অনেকের হাতে ভুভুজেলা বাঁশি। শোভাযাত্রায় নারী-পুরুষ বয়স্ক ও আধা বয়স্ক মানুষের উপস্থিতি আর পিছনে আর্জেন্টিনার রঙে সাজানো মোটরসাইকেল, আর্জেন্টিনার পতাকায় মোড়ানো ছোট কার, হালকা গতিতে চলছে আর্জেন্টিনা প্রেমিরা। নিজ দেশের জাতীয় পতাকা উড়াতেও ভোলেনি ভক্তরা। শহরকে জানান দিতে আগের দিন থেকে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং করে জড়ো হতে জানান দেওয়া হয়।

রংপুরে সোমবার সকালে এভাবেই নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ভক্ত সমর্থকরা। এবার বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের প্রতি প্রিয় দলকে সমর্থন ও উৎসাহ জোগাতে এ আয়োজন। শোভাযাত্রাটি রংপুর টাউনহল মাঠে শুরু হয়ে পুলিশ লায়ন্স, কাচারিবাজার, জেলা স্কুল হয়ে আবার টাউনহল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে রং উদযাপনের জন্য স্মোক বম্ব ব্যবহার করে উদযাপন করা হয়।

নগরীর গুপ্তপাড়া থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনার ভক্ত রেজওয়ান রনি খবরের কাগজকে বলেন, 'আজকে এই শোভাযাত্রা হবে তার যে প্রচার প্রচারণা এবং গতকালকের মাইকিং সব মিলিয়ে মনে হয়েছে আর্জেন্টিনা এবার বিশ্বকাপ জয়ী হবে। আর এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই প্রচার প্রচারণার অংশ হিসেবে শোভাযাত্রার অংশীদার হয়েছি।

শোভাযাত্রার আয়োজন করতে গত কয়েক দিন দৌড়ঝাপ করেছেন ব্যান্ড শিল্পী ও আর্জেন্টিনা ভক্ত হৃদয় জে জে। তিনি বলেন, 'প্রতিবারই প্রিয় দল আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উৎসাহ জোগাতে এমন আয়োজন করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে প্রচার প্রচারণা বেশি হওয়ায় এবারে রংপুর শহরে আর্জেন্টিনার শোভাযাত্রায় মানুষের ঢল নেমেছে। গত কয়েকদিনে অনেকেই ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় যোগদান করেছেন। প্রিয় দলের খেলা দেখতে আগামী ১৭ তারিখ রংপুর টাউন হল মাঠে জমকালো আয়োজন করেছে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাব'।

রংপুর আর্জেন্টিনা ফ্যান্স ক্লাবের সভাপতি জহির আলম নয়ন খবরের কাগজকে বলেন, 'প্রতিবারই উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে এই টাউন হল মাঠে যে জমকালো আয়োজন করা হয় এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এবারে আগাম প্রচার-প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে, মাইকিং পোস্টার ব্যানারে ছেঁয়ে গেছে শহর। প্রচার-প্রচারণা দেখে কয়েকদিনে অনেক ব্রাজিল ভক্ত টাউন হল মাঠে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনায় যোগ দান করেছে। এ বছর শোভাযাত্রায় এক হাজার লোকের আয়োজন হলে পরের বছর দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে এবার আর্জেন্টিনাই বিশ্বকাপ নিয়ে ঘরে ফিরবে'।

সেলিম সরকার/থিও

ধোবাউড়ায় ৫ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, শরীরে ধর্ষণের আলামত

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
ধোবাউড়ায় ৫ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, শরীরে ধর্ষণের আলামত
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নিখোঁজের পর ৫ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণের আলামত থাকায় ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে নিহতের পরিবার।

রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কংস নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শিশুটির বাড়ি গোয়াতলা ইউনিয়নে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা খবরের কাগজকে জানান, রবিবার বিকেলে নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়রা কংস নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন। মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই গোসল করানোর সময় তারা শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এতে তাদের সন্দেহ হয় যে শিশুটিকে নির্যাতনের আগে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যাই। শিশুটির শরীরে কিছু আলামত পাওয়া যাওয়ায় শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ধারণা করছি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/থিও

রাঙামাটিতে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে মানববন্ধন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:০২ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
রাঙামাটিতে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে মানববন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনে বিভিন্ন নীতিগত অঙ্গীকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও এটি বড় ধরনের সামাজিক সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে- বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি করেছেন রাঙামাটির বিশিষ্ট নাগরিকরা।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখাই : শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) রাঙামাটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। 

এ সময় বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, আইন ও নীতি থাকলেও বাস্তবায়নের ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর উদাসীনতার কারণে শিশুশ্রম এখনো বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

‎মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- রাঙামাটি সনাকের সভাপতি প্রফেসর বাঞ্চিতা চাকমা, টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা, সদস্য নিরূপা দেওয়ান, সদস্য সীমা দেওয়ান, ইয়েস দলনেতা মো. মোস্তফা, রেডক্রিসেন্ট রাঙামাটি ইউনিটের উপ-যুবপ্রধান ফাহিম উদ্দিন ও আপন চাকমা প্রমূখ।

মানববন্ধনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা অংশ নেন।

প্রফেসর বাঞ্চিতা চাকমা বলেন- কোনো শিশু যেন শ্রমে জড়িত না থাকে। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক যে চাহিদাগুলো আছে সেগুলো মিটিয়ে তারা যেন সমাজে সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সেজন্য রাষ্ট্র, সরকার ও সাধারণ জনগণকে দৃষ্টি দেওয়া উচিৎ।

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান বলেন- শিশুশ্রম বন্ধ করার জন্য যে আইন আছে, আন্তর্জাতিক আইন থেকে আমাদের শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন যাতে যথাযথভাবে প্রয়োগ হয়।

জিয়াউর রহমান/খাদিজা রুমি/

ঢাকা-ময়সনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:০০ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
ঢাকা-ময়সনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন-সংযোগকারী বাফার ভেঙে যাওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) বেলা সোয়া ১২টায় উপজেলার মশাখালিতে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশনের স্টেশন সুপারিন্টেন্ডেন্ট আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরের দিকে যাচ্ছিল।

বেলা সোয়া ১২টার দিকে মশাখালির কাছাকাছি পর্যন্ত আসতেই হঠাৎ ট্রেনের ইঞ্জিনের বাফার (কাপলিং) ভেঙে যায়। এতে বগি থেকে ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন হয়ে গফরগাঁও-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রিলিফ ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছে। এতে কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। তাই দ্রুত এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে রেলওয়ের উদ্ধারকর্মীরা চেষ্টা করছে।

কামরুজ্জামান/আমান