আইন অমান্য করে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ২৫টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিপ্তর পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ১২টি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ১৩টি ইটভাটাকে ২১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও সরকারি কোন অনুমোদন না থাকায় ১৩টি ইটভাটার মালিককে ২১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া কোন কাগজপত্র না থাকায় ১২টি ইটভাটার চুলাসহ ভেকু মেশিন দিয়ে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজিদ আহমেদ ও সুলতানা সালেহা সুমি ও লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহাকরী পরিচালক মো. হারুনুর রশিদ পাঠানের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
রামগতি উপজেলার চর আফজাল ও বিবিরহাট এলাকার ফাতেমা ইটভাটায়, ফারদিন আনাম ব্রিকস, শাওন সোহাগ ব্রিকস ও আমানত ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় দুইটি ইটভাটায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এনিয়ে ২৪ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোর সন্ধ্যা পর্যন্ত গত এক সপ্তাহ ২৫টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ১৩টিকে ২১ লাখ টাকা জরিমানা ও ১৩টি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হারুনুর রশিদ পাঠান।
মো. হারুনুর রশিদ বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় দেড় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার বেশিরভাগই অবৈধ। পাশাপাশি, সরকারি আইন মানা হয়নি বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নেই। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযান শুরু হয়েছে। এটি অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজিদ আহমেদ বলেন, অবৈধভাবে গড়ে উঠা যে সব ইটভাটা রয়েছে। প্রত্যেকটি ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এসব অবৈধ ইটভাটার কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র বিপন্ন হচ্ছে। কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব অবৈধ ইটভাটা বছরের পর বছর চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। প্রতিটি ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হয় কাঠ। এতে সৃষ্ট ধোঁয়া ও ছাই থেকে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বিভিন্ন ফসলের। ফলে শিশু, নারী পুরষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এসব ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়ায় প্রশাসনকে অভিনন্দন জানান এলাকাবাসী।
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম/এমএ/