কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করা এক চীনা নাগরিকের টাকা-পয়সা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আত্মসাত করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
চীনা নাগরিক আন হংওয়েই-এর দাবি, সম্প্রতি ফুলবাড়ীর মোর্শেদা খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু মোর্শেদা প্রতারণা করে চার হাজার মার্কিন ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে স্ত্রী মোর্শেদা বেগমের খোঁজে চীনা নাগরিক আন হংওয়েই ফুলবাড়ীতে তার শ্বশুরবাড়ি এসে এই অভিযোগ তোলেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে মোর্শেদা বেগমের প্রায় ১০ বছর আগে একই এলাকার আবুল গহুরের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। তাদের আট বছর বয়সী একটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়ে রয়েছে।
দিনমজুরের পরিবারে নানা টানাপোড়েনে তাদের দাম্পত্য জীবনে বনিবনা হচ্ছিল না। পরে ঢাকায় গিয়ে পোশাক কারখানায় চাকরি নেন মোর্শেদা। সেখানে চীনা নাগরিক আন হংওয়েইর সঙ্গে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং চলতি বছরের ২০ এপ্রিল বিয়ে করেন।
বিয়ের পর চীনা স্বামীকে নিয়ে গ্রামে এলে তাকে দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। এরপর স্বামীর টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে গাঢাকা দেন মোর্শেদা। খুঁজে না পেয়ে তার বাড়িতে চলে আসেন চীনা নাগরিক আন।
মোর্শেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রথম স্বামী আব্দুল গহুরেরও। তিনি জানান, সামান্য পারিবারিক বিরোধের জেরে সন্তানকে ছেড়ে চলে যায় মোর্শেদা।
আব্দুল গহুর বলেন, ‘সে (মোর্শেদা) আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নেয়। বাড়িতে আসার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর আর যোগাযোগ নেই’। চীনা নাগরিককে বিয়ে করে টাকা হাতানোর বিষয়ে গহুর বলেন, ‘সে এটা করেছে। সে ওই প্রকৃতির মানুষ এবং বিষয়টি আমি শুনেছি।’
এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থানরত মোর্শেদার এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘চীনা নাগরিককে বিয়ের পর তার কাছ থেকে অনেক টাকা হাতিয়েছে মোর্শেদা। আগে এক যুবকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, তাকে বিয়ে করে অন্যখানে চাকরি করার কথা শোনা যাচ্ছে।’
ধর্মপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফেরদৌস ইসলাম বলেন, ‘প্রথম স্বামী ও সন্তান রেখে চীনা নাগরিককে বিয়ে করার সময় এলাকাবাসী ধারণা করেছিল মোর্শেদা প্রতারণার শিকার হতে পারেন। এখন উল্টো অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তবে এটা নিন্দনীয় কাজ হয়েছে।’
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান নাঈম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ঘটনাটি ঢাকার সাভার এলাকায় ঘটেছে। তাই অভিযোগকারীকে সাভার থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাষাগত সমস্যার কারণে তার বক্তব্য পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হয়নি, তবে ইশারার মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন।
জিএম সিরাজ/তামান্না রুপা/