বাঁশের লাঠিতে ৩ থেকে ৪টি জাতীয় পতাকা বাঁধা। হাতেও বেশ কয়েকটি ছোট ছোট জাতীয় পতাকা। বাতাসে পতাকা উড়ছে আর তিনি রাস্তায় হাঁটছেন। অনেকেই তার কাছ থেকে পতাকা কিনছেন। বলছিলাম, হাসান আলীর কথা। পতাকা বিক্রি তার অন্যতম শখের বিষয়।
দিনাজপুর শহরের ঘাসিপাড়ার বাসিন্দা দীর্ঘ ২৬ বছর বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস এবং পহেলা বৈশাখে হাসান আলী লাল-সবুজের পতাকা বিক্রি করছেন। হাসান আলী বলেন, ‘বছরের চারটি দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা বিক্রি করি। বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ৭ দিন আগ থেকেই পতাকা বিক্রি শুরু করছি। প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা বিক্রি, আজ (রবিবার) ৫ হাজার টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছি। গোড়-এ-শহিদ ময়দানে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জাতীয় পতাকাসহ ছোট-বড় অনেক পতাকা বিক্রি হয়ে যাবে।’
পতাকা বিক্রি প্রসঙ্গে হাসান আলী বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং পহেলা বৈশাখের সাত দিন আগে থেকে ফেরি করে পতাকা বিক্রি করি। দেশের প্রতি ভালোবাসায় এই চারটি দিবস উপলক্ষে পতাকা বিক্রি করি। আগামী প্রজন্মের কাছে দেশের প্রতি ভালোবাসা, মমত্ব, গুরুত্ব ও দেশপ্রেম বিলিয়ে দেওয়ার জন্যই লাল-সবুজের পতাকা বিক্রি করি। দেশের জাতীয় পতাকা বা লাল-সবুজের পতাকা বিক্রি করে অর্থ উপার্জন হলেও আমি এটিকে পবিত্র দায়িত্ব ও দেশপ্রেমের অংশ মনে করি। বিজয় দিবস উপলক্ষে গত এক সপ্তাহ আগে ঢাকা থেকে ৩০ হাজার টাকার পতাকা কিনে নিয়ে আসি। বড় আকারের পতাকা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, মাঝারি ১০০, ছোট আকারের পতাকা ৫০ এবং ছোট ছোট বাচ্চাদের হাতে পতাকা ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করি।’ বছরের অন্য সময়ে কী করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্টেশনের রানওয়েতে আমার একটি স্টেশনারি দোকান রয়েছে। স্টেশনারির আয় থেকেই সংসার চলে।’
জেলার নিমতলার ব্যবসায়ী গোলাম রব্বানী বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন দিবসে আমরা হাসান আলী চাচার কাছ থেকে জাতীয় পতাকা কিনি। পতাকা বিক্রির মাধ্যমে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, এমন বিশ্বাস থেকেই তিনি পতাকা বিক্রি করছেন।’
পতাকা কিনতে আসা মাইনুল ইসলাম মনু বলেন, ‘আমাদের দেশের জাতীয় দিবস এলেই হাসান আলী ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করেন। ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করাটা তার ব্যবসা না হলেও তিনি অনেকটা শখের খাতিরে এই কাজটি করেন। তার কাছ থেকে ভিন্ন আকারের দুটি জাতীয় পতাকা কিনেছি।’
দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল হুদা দুলাল বলেন, ‘পতাকা বিক্রি ব্যবসা নয়; এটি হচ্ছে দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। হাসান আলীর মতো অনেকেই শহরের অলিগলিতে জাতীয় পতাকা বিক্রি করছেন। তারা দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধ থেকেই এ পতাকা বিক্রি করেন। এখানে ব্যবসা থেকে দেশপ্রেমটাই বড়। পতাকা বিক্রি করে বেশি লাভ হয় না। তবে তারা দেশপ্রেম, মর্যাদা ও দেশের প্রতি মমত্বের বহিঃপ্রকাশ করেছেন। তাদের অবশ্যই স্যালুট দেওয়া উচিত।’