ছয় মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামের হালদা নদীতে আবারো একটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। পঁচে যাওয়ায় ডলফিনটির মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করা যায়নি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কাগতিয়া আজিমের ঘাট এলাকায় নদীতে মৃত ডলফিনটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করেন।
২০২৪ সালের মধ্যে চতুর্থ মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে হালদা নদী থেকে ৪৩টি ডলফিনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর আগে, সর্বশেষ চলতি বছরের ২৫ জুন হালদা নদী থেকে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল।
এবার উদ্ধারকৃত ডলফিনটি পঁচে যাওয়ায় রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের উপস্থিতিতে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘৪৫ ইঞ্চি দীর্ঘ ডলফিনটির ওজন প্রায় ১৩ কেজি। ধারণা করা হচ্ছে এটি তরুণ বয়সী ডলফিন। বেশ কয়েকদিন আগে এর মৃত্যু হয়েছে। শরীর পচে গেছে। এজন্য মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করা যায়নি। মৃত ডলফিনটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।’
গাঙ্গেয় প্রজাতির ডলফিনের বিচরণ আছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও হালদা নদীতে। ২০১৭ সাল থেকে কর্ণফুলী ও হালদা নদীর ডলফিন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন গবেষকরা। তখন থেকে হালদা ও কর্ণফুলীতে মৃত ডলফিনের সংখ্যা গণনা শুরু হয়।
কর্ণফুলী ও হালদা নদীপাড়ের বাসিন্দারা স্থানীয়ভাবে একে হুতুম বা শুশুক নামে অভিহিত করেন।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) গাঙ্গেয় ডলফিনকে বিপন্ন হিসেবে লাল তালিকায় রেখেছে। ২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুসারে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।
আবদুস সাত্তার/মাহফুজ/এমএ/