চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে জাহাজের মাস্টারসহ সাত শ্রমিকের হত্যার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। সংগঠনটির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চট্টগ্রামেও সব ধরণের পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১২টা থেকে চট্টগ্রাম থেকে সব ধরণের পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে লাইটারেজ জাহাজসহ সব পণ্যবাহী নৌযান চট্টগ্রামের পতেঙ্গার সি-বিচ থেকে রাসমণিঘাট পর্যন্ত নোঙর করা আছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের অফিস সচিব আতিকুল ইসলাম টিটু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে নৌযানে লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। ওই বিবৃতিতে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি নবী আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাত ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরণের পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র সাধারণ যাত্রীবাহী নৌযান চলবে। তবে আমাদের একটা নিয়ম রয়েছে। লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হওয়ার আধাঘন্টা আগেও কোন নৌযান পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম ছেড়ে গেলে সে তার গন্তব্য যেতে কোনো বাধা দেওয়া হয় না। আমাদের কিছু নৌযান গত রাতে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়েছে। সেগুলো পণ্য পৌঁছে দিয়ে আর চলাচল করবে না।’
চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- মেঘনা নদীতে হরিনা ঘাটের কাছে এম ভি আল-বাখেরা জাহাজে সন্ত্রাসী কায়দায় নির্মম হত্যাকাণ্ডে মাস্টারসহ সাত শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, মৃত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা এবং নৌপথে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-ডাকাতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। চার দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ২৬ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকে মালবাহী, তৈল-গ্যাসবাহী, বালুবাহীসহ সব ধরণের পণ্যবাহী নৌযান শ্রমিকরা লাগাতার কর্মবিরতি সফল করতে সব বেসিক ইউনিয়ন ও শাখাসমূহের নেতারা সব নৌযান শ্রমিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে। তবে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয় বিবেচনা করে আপাতত সব ধরণের যাত্রীবাহী নৌযান কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে।
তারেক মাহমুদ/সাদিয়া নাহার/