নতুন ব্যাগ আর জামা পেয়ে বেজায় খুশি ফারিহা আক্তার ঊষা। সে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেছে। ঊষা বলে- ‘বাবা একটি দোকানে কাজ করেন। মা গৃহিণী। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় ব্যাগ ছিঁড়ে যায়। ওই ব্যাগ সেলাই করেই স্কুলে যেতাম। এবার মাকে বলেছিলাম নতুন ব্যাগ কিনে দিতে। কিন্তু নতুন ক্লাস শুরুর আগেই দুই সেট নতুন জামা, ব্যাগ আর স্কুলে ভর্তির জন্য টাকা পেয়েছি। নতুন বইয়ের সঙ্গে নতুন ব্যাগ, নতুন জামা পরে স্কুলে যাব, ভাবতেই আমার খুব আনন্দ লাগছে।’ ঊষার মা সাজেরা খাতুন বলেন, ‘গরিব মানুষ হওয়াতে ঠিকমতো বাচ্চাদের শখ মেটাতে পারি না। নতুন ব্যাগ পেয়ে বাচ্চাটা খুব খুশি হয়েছে।
তহমিনা খাতুনের স্বামী দিনমজুর। অসুস্থতার কারণে তিনি এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। তিন সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ে লেখাপড়া করে। অন্যটি ছোট। পড়ালেখা করা দুই মেয়েই আগামী নতুন বছরে নতুন ক্লাসে উঠবে। দুই মেয়েরই স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ ছিঁড়ে গেছে। নতুন বছরে নতুন ক্লাসে যাওয়ার আগে মেয়েদের নতুন ড্রেস, ব্যাগ কিনে দেওয়া তহমিনার জন্য বেশ কষ্টকর ছিল। সেই কষ্ট সহজ করে তার দুই সন্তানের হাতে নতুন জামা, স্কুল ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ক্লাসে ভর্তি হওয়ার জন্য দুই মেয়েকে দেওয়া হয়েছে ছয় হাজার টাকা। নতুন ক্লাস শুরুর আগে নতুন জামা ব্যাগ পেয়ে ওই দুই শিশু ভীষণ খুশি।
শুধু তারা নয়, তাদের মতো শহরের দরিদ্র পরিবারের দেড় শ শিশুর হাতে রঙিন দুই জোড়া করে নতুন জামা, একটি ব্যাগ ও স্কুলে ভর্তি হতে তুলে দেওয়া হয়েছে তিন হাজার করে টাকা। গত শনিবার বিকেলে যশোর শহরের নলডাঙ্গা রোডের রিপন অটোস মিলনায়তনে আসাদ স্মৃতি ইনস্টিটিউট এ উদ্যোগ নেয়। এ সময় শিশুদের পড়াশোনা নিশ্চিত করতে মাসিক এক হাজার টাকা করে শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণাও দেন আয়োজকরা।
যশোর শহরের আরএন রোড এলাকায় একটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন তহমিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘স্বামী আরএন রোডে একটি দোকানে লেবারের কাজ করেন। তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে অস্টম শ্রেণিতে পড়ে। আর ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেছে। দুই মেয়ে নতুন জামা আর ব্যাগের বায়না ধরেছিল। কিন্তু কিনে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। স্কুলে যাওয়ার আগে নতুন জামা, ব্যাগ আর ভর্তির টাকা পেয়ে ওরা এখন অনেক খুশি। একই সঙ্গে আমার চিন্তাটাও দূর হলো।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব শিশুর শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নার্গিস বেগম। যশোর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ‘মহল্লা সুরক্ষা কমিটি’ আহ্বায়ক খান মোহাম্মদ শফিক রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক তানভিরুল ইসলাম সোহান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোকছেদ আলী, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মাছুম, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক রানা, রিপন অটোস ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আসাদ স্মৃতি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আইয়াজ উদ্দীন রিপন।
আইয়াজ উদ্দীন রিপন জানান, ২০০৫ সাল থেকে আসাদ স্মৃতি সমাজ উন্নয়নে কাজ করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এসব শিশুদের দুই সেট নতুন পোশাক, স্কুলে ভর্তির জন্য তিন হাজার করে টাকা ও একটা ভালো মানের স্কুল ব্যাগ দেওয়া হয়েছে। এ শিশুদের লেখাপড়া যাতে বন্ধ না হয়; প্রতি মাসে এক হাজার করে টাকা শিক্ষাবৃত্তিও দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এভাবে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য যার যার অবস্থান থেকে যদি এগিয়ে আসে; তাহলে সমাজে আর বৈষম্য থাকবে না।’