শরীয়তপুরে হঠাৎ করে বেড়েছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত কয়েক দিন ধরে শীতের প্রকোপ বাড়ছে জেলায়। এতে জেলার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে বেড়েই চলেছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা।
চিকিৎসকরা জানান, ঠাণ্ডার কারণে বেড়েছে এসব রোগী। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ৪৫-৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে।
গত ২৪ ঘন্টায় ৪৯ জন ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ডায়ারিয়া ওয়ার্ডে স্বাভাবিকের চেয়ে চারগুণের বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে শিশুসহ নানা বয়সের রোগীদের। বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
সরজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে উপচে পড়া ভিড়। গত এক সপ্তাহ ধরে ঠাণ্ডার কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু স্বাভাবিকভাবে ভর্তি হলেও গত তিন-চার দিনে প্রতিদিন ৪৫-৫০ জন করে শিশু ভর্তি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০-এর বেশি শিশু ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১০ শয্যায় গাদাগাদি করে জায়গা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতে, চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা। স্বাভাবিকের চেয়ে রোগীর সংখ্যা তিনগুণ বেশি হওয়ায় দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। তাই মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে।
এ ছাড়া রোগীর অতিরিক্ত চাপ হওয়ায় হাসপাতালে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। এতে চিকিৎসা নিতে কষ্ট হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিভাবকরা বলছেন, হঠাৎ করেই তদের বাচ্চাদের পাতলা পায়খানা বা বমি শুরু হয়। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা বলেন,অতিরিক্ত রোগীর কারনে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কম হাসপাতালে। পরিস্কারের জন্য বললেও তারা তেমন আসে না।
ডোমসার থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু রিফাতের বাবা সালেউদ্দিন জানান, হঠাৎ করে তার বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিন দিন যাবৎ হাসপাতালে ভর্তি আছে, এখনো তেমন ভালো হয়নি।
ভোজেশ্বর চান্দনী থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু কলির মা সুমাইয়া বলেন, হঠাৎ বাচ্চা পাতলা পায়খানা আর বমি শুরু করলে দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি করি, বমি কমলেও এখনো পাতলা পায়খানা কমেনি। বাচ্চাকে নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।
সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন জানান, ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডের শয্যার চেয়ে বেশি রোগী হওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত রোগী হওয়ার কারনে চিকিৎসা সেবা দিতে সময় লাগলে রোগীর স্বজনরা চেঁচামেচি করে।
হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ রাজেশ মজুমদার বলেন, শীত বেড়ে যাওয়ায় রোটা ভাইরাসের কারনে হঠাৎ করে ডায়েরিয়া ও শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বেশি রোগীর কারণে বেডে জায়গা না পেয়ে মেঝেতে অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছে। অল্প জনবলে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন শিশু ওয়ার্ডের ডাক্তার ও নার্স।
রোগীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, সিরিয়াস না হলে বাসায় বসে তারা চিকিৎসা করতে পারে। এটা সারতে কমপক্ষে পাঁচ দিন সময় লাগবে, তাতে হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই।
রাজিব হোসেন/নাবিল/এমএ/