কয়েক দিন ধরে শরীয়তপুরে শীতের প্রকোপ বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। এতে জেলার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
গত সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ জন ডায়ারিয়ায় রোগী ভর্তি হন। স্বাভাবিকের চেয়ে চার গুণেরও বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় ওয়ার্ডের মেঝেতে শুয়ে অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাড়তি চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে উপচে পড়া ভিড়। গত এক সপ্তাহে ৩০০ থেকে ৪০০ শিশু ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১০ শয্যায় গাদাগাদি করে জায়গা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়েও চিকিৎসা নিচ্ছে তারা। রোগীর অতিরিক্ত চাপ থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। হসপাতালের পরিবেশ নোংরা হওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের কষ্ট হচ্ছে।
ডোমসার থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু রিফাতের বাবা সালেউদ্দিন বলেন, ‘হঠাৎ করে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে, এখনো তেমন ভালো হয়নি। হঠাৎ করেই পাতলা পায়খানা বা বমি শুরু হয়। অতিরিক্ত রোগীর কারণে হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কম। পরিষ্কারের জন্য বললেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আসতে চান না।’
ভোজেশ্বর চান্দনী থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু কলির মা সুমাইয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে হঠাৎ পাতলা পায়খানা আর বমি শুরু করে। দুই দিন হলো হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি, বমি কমলেও এখনো পাতলা পায়খানা কমেনি। বাচ্চাকে নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।’
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স সারমিন বলেন, ‘ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডের শয্যার চেয়ে বেশি রোগী হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোগী বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে সময় লাগলে রোগীর স্বজনরা চেঁচামেচি করেন।’
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ রাজেশ মজুমদার বলেন, ‘শীতের প্রকোপ বাড়ায় রোটা ভাইরাসের কারণে হঠাৎ করে ডায়রিয়া ও শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বেশি রোগীর কারণে বেডে জায়গা না পেয়ে মেঝেতে অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছে। অল্প জনবলের কারণে শিশু ওয়ার্ডের ডাক্তার ও নার্সরা চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।’
রোগীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জরুরি না হলে বাসায়ও চিকিৎসা করাতে পারেন। সুস্থ হতে কমপক্ষে পাঁচ দিন সময় লাগবে, তাতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।