ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪ গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের আধিপত্য হাবিপ্রবির গবেষণায় ব্যাগিং পদ্ধতিতে লিচুর ক্ষতিরোধ সম্ভব দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন বিচারিক প্রক্রিয়ার এটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লোডশেডিং ও বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজার পর্যটনে ধস খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পার: যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় সরকার, সোচ্চার শ্রমিক-কর্মচারীরা বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধিতে রডের দাম টনে বাড়তে পারে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার জীবনসংগ্রামে লোকগানের বরপুত্র অনিল হাজারিকা বাণিজ্য ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে চট্টগ্রামে শিক্ষকের ৮ হাজার পদ শূন্য সাক্ষাৎকার শেষ না করেই চলে গেলেন ট্রাম্প ১০ কার্যদিবস পর কমল সূচক, লেনদেনেও ভাটা বরিশাল বিভাগে কমেছে ইলিশের উৎপাদন ৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল শির উ. কোরিয়া সফরের নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চমৎকার ফুল ক্রোসান্দ্রা স্বাস্থ্য খাতে সংকট: বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় হয় না ৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত
Nagad desktop

আইফোন চেক করার কথা বলে জেলেদের ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় কোস্টগার্ড

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৪৩ পিএম
আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:২৭ পিএম
আইফোন চেক করার কথা বলে জেলেদের ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় কোস্টগার্ড
আটক অবস্থায় থাকা সময়গুলোর বর্ণনা করছিলেন ভারতীয় কোস্টগার্ডের হাতে আটক ফিশিং বোট এফবি মেঘনা–৫ এর ক্যাপ্টেন রাহুল বিশ্বাস। ছবি: খবরের কাগজ

আমরা বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করিনি। আমরা আমাদের বর্ডারে ছিলাম, তারাই আমাদের ডেকে নিয়ে আমাদের সবকিছু তল্লাশী করেছে। এরপর ছেড়ে দেয়। এর ঘণ্টাখানেক পর তারা আবার আমাদের বলেছে, তল্লাশীর সময় আমাদের ফিশিং বোটে তাদের (ভারতীয় কোস্টগার্ড) একটি আইফোন পড়ে গেছে। আইফোনটা নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদেরকে ফের তল্লাশী করবে। সে কথা বলে তারা আমাদেরকে তাদের বর্ডারে নিয়ে যায়। 

এভাবেই ভারতীয় কোস্টগার্ডের হাতে আটক, ভারতের আদালতের মাধ্যমে জেলে যাওয়া, ২৬ দিন জেলে থাকাসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ভারতীয় কোস্টগার্ডের হাতে আটক ‘এফবি লায়লা-২’ নামক ফিশিং ট্রলারের গ্রীজার মো. মঈনুদ্দিন রানা।

গত ৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে বঙ্গোপসাগরে খুলনায় হিরণ পয়েন্ট এলাকা থেকে নাবিকসহ মাছ ধরার দুটি ট্রলার ভারতীয় কোস্টগার্ড সদস্যরা আটক করে নিয়ে যায়। দুটি ট্রলারের মধ্যে এফবি লায়লা-২ একটি। 

মো. মঈনুদ্দিন রানা বলেন, যেহেতু প্রথমে আটক ও তল্লাশী করে আমাদের ছেড়ে দিয়েছে তাই দ্বিতীয়বার আমাদের ক্যাপ্টেন তাদের চালাকিটা ধরতে পারেনি। তারা আমাদের আটকাবে এমনটা জানা থাকলে ক্যাপ্টেন তো ফিশিং বোট তাদের বর্ডারে নিয়ে যেত না। তারা (ভারতীয় কোস্টগার্ড) ক্যাপ্টেনকে বলেছে পশ্চিম দিকে চালাতে। তারপর তারা আমাদেরকে কোস্টগার্ডের (ভারতীয়) আরেকটি দলের কাছে হস্তান্তর করে প্যারাদ্বীপ বন্দরের দিকে নিয়ে যায়। তখন বুঝতে পালাম, আমরা ভারতে চলে গেছি। তখন আমাদের হাহাকার দেখার কেউ নেই। 

মনে শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। একটা ভয় তো ছিলোই। ভারতীয় কোস্টগার্ড যদি না ছাড়ে। আমরা আদৌ দেশে ফিরে আসতে পারব কি না তারও কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, বাংলাদেশ সরকার ও কোস্টগার্ডের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা অনেক দ্রুত দেশে ফিরতে পেরেছি। 

ট্রলারে এক কোটি টাকার মাছ ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ট্রলারে প্রায় এক কোটি টাকার মাছ ছিল। ওগুলা জাহাজেই আছে। ওরা মাছ ধরেনি। 

ভারতীয় কোস্টগার্ডের হাতে আটক অপর ফিশিং বোট এফবি মেঘনা-৫। এই বোটের ক্যাপ্টেন রাহুল বিশ্বাস বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর ভারতীয় কোস্টগার্ড প্রথমে আমাদের আটক করে। এরপর আমাদের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞেস করে। ১০ ডিসেম্বর আমরা প্যারাদ্বীপ বন্দরে পৌছাই। ৪ জানুয়ারি সেখান থেকে ছাড়া পাই। তারা আমাদের কোনো প্রকার শারীরিক নির্যাতন করেনি। আমরা স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিলাম। তবে যেটা বুঝতে পারলাম, ভারতের ৯৫ জন জেলে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে আটক ছিল। তাদের উদ্ধার করতেই ইচ্ছাকৃত আমাদের ধরে নিয়ে যায়। অন্য কোনো কারণ ছিল না। 

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর বঙ্গোপসাগরে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার কাছে প্রতিকূল আবহাওয়ায় ডুবে যায় বাংলাদেশি ফিশিং ট্রলার এফবি কৌশিক। ওই ট্রলারে ছিলেন মো. শরীফ মিয়া। তিনি সাত বছর ধরে ফিশিং বোটে মাছ ধরার কাজ করছেন। 

শরীফ মিয়া বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে কুয়াকাটা মহিপুর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশে রওনা হই। আমরা কুয়াকাটা সীমানায় সাগরে জাল ফেলি। আমাদের সঙ্গে আরও দুটি বোট ছিল। গত ১২ সেপ্টেম্বর হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় তারা (দুটি বোট) আমাদের আগে চলে যায়। এদিকে হঠাৎ করে আমার বোট উল্টে যায়। আমরা ১৩ জন ছিলাম। এরমধ্যে একজনকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায় নি। বোটে কিছু বাঁশ ছিল। আমরা সেই বাঁশ ধরে পানিতে ভাসছিলাম। সেদিন সন্ধ্যায় ভারতীয় কোস্টগার্ড আমাদের উদ্ধার করে। তারা আমাদের জানায়, আমরা ভারত সীমানায় ঢুকে গেছি। তারা আমাদের নিয়ে যায়। 

পানিতে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন- একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা আমাদের ওষুধ, খাবার দিয়েছে। পরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সঙ্গে আলাপ করেছে। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড যেতে পারেনি। তাই ভারতীয় কোস্টগার্ড আমাদেরকে ওই দেশের থানায় হস্তান্তর করে। সেখান থেকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠায়। আমরা সেখানে তিন মাস ২১ দিন জেলে ছিলাম। তবে অবশেষে দেশে ফিরে আসতে পেরেছি, আমরা এতেই খুশি। 

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে বঙ্গোপসাগরে খুলনায় হিরণ পয়েন্ট এলাকা থেকে নাবিকসহ মাছ ধলার দুটি ট্রলার ভারতীয় কোস্টগার্ড সদস্যরা আটক করে নিয়ে যায়। অভিযোগ ছিল, তারা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করেছিল।

ট্রলারগুলো হল, এফভি লায়লা–২ ও এফবি মেঘনা–৫। এর মধ্যে এফভি লায়লা–২ এস আর ফিশিং নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। এফভি মেঘনা–৫ চট্টগ্রামভিত্তিক সিঅ্যান্ডএ অ্যাগ্রো লিমিটেডের মালিকানাধীন।

এফভি-মেঘনা ট্রলারটি গত বছরের ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম থেকে মাছ আহরণের জন্য খুলনায় গিয়েছিল। সেটি ১৪ ডিসেম্বর ফিরে আসার কথা ছিল। ওই ট্রলারে ৩৭ জন নাবিক ছিলেন। অন্যদিকে ৪১ জন নাবিক নিয়ে এফভি লায়লা-২ ট্রলারটি চট্টগ্রাম থেকে রওনা করেছিল গত ২৭ নভেম্বর। সেটি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ফিরে আসার কথা ছিল।

ভারতীয় কোস্টগার্ড তাদের আটকের পর ট্রলারগুলোর মালিক কর্তৃপক্ষ এবং নাবিকদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে গত ১০ ডিসেম্বর রাতে ভারতীয় কোস্টগার্ডের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে তিনটি ছবি প্রকাশ করে বলা হয়, ভারতীয় সমুদ্রসীমায় মৎস্য আহরণের অভিযোগে এক অভিযানে ট্রলার দু’টিসহ ৭৮ নাবিককে আটক করা হয়েছে। নাবিকসহ ট্রলার দুটি প্যারাদ্বীপের কাছে নেওয়া হয়েছে।

মুক্ত হওয়া ৯০ নাবিকের মধ্যে বাকি ১২ জন এফবি কৌশিক নামে একটি মাছ ধরা ট্রলারের জেলে। গত ১২ সেপ্টেম্বর বঙ্গোপসাগরে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার কাছে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নৌ যানটি ডুবে গিয়েছিল। সেখানে থাকা ১২ বাংলাদেশি জেলেকে ভারতীয় ট্রলার উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কাকদ্বীপে ভারতীয় কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল।

তারেক মাহমুদ/মাহফুজ 

সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২২ এএম
সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪
দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁশভর্তি ট্রাকে মুরগিবাহী একটি পিকআপভ্যানের ধাক্কায় চারজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার আবুল হাকিমের ছেলে নূরনবী (৬৪), নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার মো. পলাশের ছেলে রফিকুল (১৮), নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মো. এরশাদের ছেলে সাগর (২২) এবং ভোলা জেলার মো. সেলিমের ছেলে সুমন (২৬)। সুমন ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আহত হন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষীন্দর গ্রামের আফসার আলী মণ্ডলের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (৪০)। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়া বাজার-সংলগ্ন ঘোনারচালা এলাকায় একটি ট্রাকে বাঁশ বোঝাই করার কাজ চলছিল। এ সময় বড়চওনা থেকে আসা দ্রুতগতির মুরগিবাহী পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপে থাকা চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং বাঁশভর্তি ট্রাকে থাকা একজন গুরুতর আহত হন।

বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জুয়েল রানা/সালমান/ 

বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২০ এএম
বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি
বরিশালের ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

আগামী আগস্টে বরিশালে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য এখনো কোনো জনবল কাঠামো তৈরি করা হয়নি। বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আপাতত বিভাগের দুই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ছয়টি জেলা সদর হাসপাতাল ও ৪১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক এনে এটির কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

  • আগামী আগস্টে চালুর পরিকল্পনা থাকলেও এখনো জনবল কাঠামো তৈরি হয়নি
  • অবকাঠামোগত অনেক কাজ এখনো অসম্পূর্ণ
  • ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ৭ বছর পরও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়নি

এদিকে হাসপাতালটির ভবন স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চললেও পানি ও বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। ২০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে নির্মিত হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৬৫টি বেড স্থাপন করা হয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা, আইসিইউ বেড, আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজও শেষ হয়নি। ফলে আগস্টে হাসপাতালটি পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় উদ্বোধন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্টে দেশের নবনির্মিত শিশু হাসপাতালগুলো উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই তালিকায় বরিশাল শিশু হাসপাতালকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা হাসপাতালটি পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন।

বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। ১০ তলা ভিত্তির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৯ সালেই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের সাত বছর পরও হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উপযোগী করা যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবন প্রস্তুত হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল ছাড়া কার্যকর সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক শিশু বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভবন হস্তান্তরের পরও হাসপাতালটি চালুর আগে অনেক প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। শিশুদের জন্য আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), নবজাতক ইউনিট এবং কার্যকর জরুরি বিভাগ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু ভবন তৈরি হলেই হাসপাতাল চালু করা যায় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে সাময়িকভাবে হাসপাতাল চালানোর কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু ধার করা চিকিৎসক দিয়ে একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।’

এই চিকিৎসকের মতে, ২০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিতে আসতে পারে। সেই বিবেচনায় চিকিৎসক, নার্স, আয়া, টেকনোলজিস্ট, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ অন্তত ৬০০ জন জনবল প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখনই জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু না করলে আগস্টের মধ্যে কার্যকরভাবে হাসপাতাল চালু করা কঠিন হবে। শিশুদের জন্য আইসিইউ-সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স, আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের বিষয়েও পরিকল্পনা প্রয়োজন।’

বরিশালের নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালটির অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করতে হবে। শুধু উদ্বোধনের জন্য হাসপাতাল চালু করে পরে সেবাদান ব্যাহত হলে তার ভোগান্তি পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকে।

তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি জেলার শিশুরা এই হাসপাতালের ওপর নির্ভর করবে। তাই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া হাসপাতাল চালু করা উচিত হবে না।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবদুল মোনায়েম সাদ বলেন, আগে শিশু হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর ছিল। তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় সেই দায়িত্ব বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ১৭ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়, বরিশাল শিশু হাসপাতালের ভবন গ্রহণ, প্রশাসনিক অনুমোদন, পদ সৃজন, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ হাসপাতাল চালুর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব সম্প্রতি বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। তবে এখনো প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো অনুমোদন হয়নি। আপাতত বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসাসেবা চালুর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহী বলেন, ভবনের বেশ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানির সাবস্টেশন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ চলমান আছে। প্রয়োজনীয় জনবলসংক্রান্ত তালিকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে প্রাথমিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম বলেন, হাসপাতালটিতে অস্থায়ীভাবে তিন ফেজ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শুধু ছাদের জলরোধী কাজ এবং স্থায়ী সাবস্টেশন ও জেনারেটর স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অবশিষ্ট কাজগুলো জুন মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছি।’

জীবনসংগ্রামে লোকগানের বরপুত্র অনিল হাজারিকা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
জীবনসংগ্রামে লোকগানের বরপুত্র অনিল হাজারিকা
প্রখ্যাত লোকজশিল্পী অনিল হাজারিকা বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছেন। ছবিটি সম্প্রতি মাগুরার শালিখা উপজেলার তিলখড়ি গ্রামে তার বাড়ি থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

‘ঠিলে ধুয়ে দে বৌ, গাছ কাটতি যাবো’খ্যাত লোকসংগীতের প্রখ্যাত শিল্পী অনিল হাজারিকা আজ বার্ধক্য, অসুস্থতা ও চরম আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত। একসময়ে যিনি বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের হাসি-কান্না, ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক ভাষাকে গান ও সুরে রূপ দিয়েছেন, লোকজ কণ্ঠের সেই প্রাণপুরুষ আজ জীবনসংগ্রামে দিন কাটাচ্ছেন।

বাংলা লোকসংগীতের জন্য স্মরণীয় বছর ১৯৭৯ সালে অনিল হাজারিকা তার কালজয়ী অডিও ক্যাসেট ‘কিডারে’ প্রকাশ করেন। এর পর পরই অ্যালবামটি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে, যা এখনো বিরাজমান।

অনিল হাজারিকার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে–‘আমগাছে ঢেলা মারে কিডারে’, ‘এ যুগের ছেলেরা বোঝে না’, ‘বৌ বাবার বাড়িতে’, ‘আমাদের দৈনিক হাটবারে’, ‘খাজুরগাছে চোমর বারোইছে’, ‘রস গুড় পাটালি বেচে’, ‘সন্ধ্যা রস ঝাড়ে এনে’, ‘কাঁচিপুড়া পিটে বানায়ে’ ও ‘বালি চুঙো আগে আনে দে’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় লোকগান। এসব গানে সুর ও কণ্ঠ তিনি নিজেই দিতেন। তার বহু গান বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে।

বর্তমানে মাগুরার শালিখা উপজেলার ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের তিলখড়ি গ্রামে বসবাস করছেন এই গুণী শিল্পী। বয়স প্রায় ৭০ বছর। পাঁচ বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তিনি প্রায় কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। বেশির ভাগ সময় বিছানায় শুয়েই দিন কাটান তিনি।

শিল্পী অনিল হাজারিকা জানান, শৈশবে সংসারের অভাব-অনটনের কারণে মাত্র ১৫ বছর বয়সে লেখাপড়া ছেড়ে বাবার সঙ্গে কাজ শুরু করতে হয় তাকে। তার বাবা প্রয়াত হাজারী লাল বিশ্বাস ছিলেন সংগীতপ্রেমী মানুষ। বাবার কাছ থেকেই সংগীতের হাতে খড়ি। তিনি মাত্র ২০ বছর বয়সে গান লেখা শুরু করেন। স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই আঞ্চলিক উপভাষায় গান রচনা করতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার গান ছড়িয়ে পড়ে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে।

তিনি বলেন, ‘আমার লেখা গানের সংখ্যা এক হাজারের অধিক। আরও অনেক গান ছিল, যেগুলো সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে। মানুষের ভালোবাসাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

লোকসংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৫ সালে তিনি খুলনা বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগ, যশোরের নৃত্যবিতান ও মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি তাকে সম্মাননা প্রদান করেছে।

তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অসুস্থতা ও আর্থিক সংকট তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বর্তমানে পৈতৃক ভিটায় টিনের একটি সাধারণ ঘরে স্ত্রী জ্যোৎস্না হাজারিকাকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারের সামান্য সহায়তা ও এক বিঘা জমির ধানের ওপর নির্ভর করেই চলছে সংসার।

অনিল হাজারিকার স্ত্রী জ্যোৎস্না হাজারিকা বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে স্ট্রোক করার পর বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে ৪ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। এখন আর চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো আবার কিছুটা সুস্থ হয়ে গান লেখা ও গাওয়ার কাজে ফিরতে পারত।’

তবে এই শিল্পীর জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দেন শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীন হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘লোকশিল্পী অনিল হাজারিকার চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তার চিকিৎসার জন্য ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী ১২ তারিখে এই সহায়তার অর্থ তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

বরিশাল বিভাগে কমেছে ইলিশের উৎপাদন

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
বরিশাল বিভাগে কমেছে ইলিশের উৎপাদন
ছবি: খবরের কাগজ

একসময় দেশে ইলিশ মাছ উৎপাদনের দিক দিয়ে প্রধান কেন্দ্র ছিল বরিশালাঞ্চল সেই বরিশাল বিভাগে কমেছে ইলিশের উৎপাদন উৎপাদন কমার এই ধারাবাহিকতার কয়েক বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভরা মৌসুমেও অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ আর এই কারণে হতাশ হয়ে পড়ছেন জেলে-আড়তদার ব্যবসায়ীরা এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জেলেরা এদিকে নদ-নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ না ধরা পড়ার প্রভাব পড়েছে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ইলিশের দাম নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে ফলে বাজারে পছন্দের ইলিশ কিনতে গিয়ে তাদের হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ লাখ ৭২ হাজার ৩৪৩ টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল এরপর টানা তিন বছর উৎপাদন কমেছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয় লাখ ৪৮ হাজার ৮৩৪ টন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তা এসে দাঁড়ায় লাখ ৩৪ হাজার ৭৮৩ টনে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন নেমে আসে লাখ ২১ হাজার ৫৪৫ টনে অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় উৎপাদন কমেছে লাখ ১৩ হাজার ২৩৮ টন উৎপাদন কমার প্রভাব ইতোমধ্যে বাজারে পড়তে শুরু করেছে ভরা মৌসুমেও বরিশালের বাজারে ইলিশের সংকট দেখা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ মিলছে না ফলে এক সপ্তাহ ধরে বাজারে ইলিশের সরবরাহ প্রায় তলানিতে নেমে এসেছে

বরিশাল নগরের পোর্ট রোডের ইলিশ মোকাম ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি আড়তে অল্প কিছু ইলিশ সাজানো থাকলেও সেগুলোর বেশির ভাগই সাগর থেকে আগে ধরা অর্থাৎ সাগরের মাছ দিয়েই কোনোমতে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা

মেসার্স আক্তার ফিশ সাপ্লায়ার্সের স্বত্বাধিকারী মাসুম মৃধা বলেন, ঈদের পর থেকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে স্থানীয় নদী থেকে দুই-তিন মণের বেশি মাছ আসছে না চাহিদার তুলনায় এটি খুবই সামান্য আর সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়ে গেছে ইলিশের দাম

বরিশালের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে হাজার ৩০০ টাকা ধরে আর ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ হাজার ৬০০ টাকায়, সাড়ে ৭০০ গ্রাম ওজনের হাজার টাকায় এবং এক কেজি ওজনের ইলিশের বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত

ব্যবসায়ীদের দাবি, ইলিশ সংকটের অন্যতম কারণ জাটকা নিধন তাদের অভিযোগ, মেঘনা নদীসংলগ্ন হিজলা মেহেন্দীগঞ্জ এলাকায় এখনো অবাধে কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা ধরা হচ্ছে

ব্যবসায়ী মো. সুজন বলেন, ‘জাটকা রক্ষায় কঠোর অভিযান ছাড়া ইলিশ বাঁচানো সম্ভব নয় প্রজনন বেড়ে ওঠার সময় মাছ রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে সংকট আরও বাড়বে

মাছ না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জেলেরা হিজলা উপজেলার অরাকুল গ্রামের জেলে আরিফ বলেন, ‘সারা দিন নদীতে জাল ফেলেও মাছ পাই না তেলের খরচই ওঠে না এমন অবস্থা আগে দেখিনি

মেহেন্দীগঞ্জ ভোলার জেলেরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তাদের ভাষ্য, নদীতে মাছের উপস্থিতি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে

বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কামরুল হাসান বলেন, অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে অস্বাভাবিকভাবে ইলিশের উপস্থিতি কমে গেছে নদীর প্রবেশপথে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় সাগর থেকে মাছের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইলিশ গবেষক . মোহাম্মদ আনিছুর রহমানের মতে, নদীতে পলি জমা, নাব্যসংকট, চর ডুবোচর সৃষ্টি, জাটকা নিধন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীদূষণ–সব মিলিয়ে ইলিশের প্রজনন বিচরণক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

মৎস্য অধিদপ্তরেরইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাপ্রকল্পের পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ বলেন, নদ-নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় অনেক ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে ফলে তাদের বৃদ্ধি প্রজনন প্রক্রিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে একই সঙ্গে অগভীর সাগরে ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করে ছোট আকারের মাছ ধরার প্রবণতাও বাড়ছে

মৎস্যবিজ্ঞানী আবদুল ওহাব মনে করেন, দক্ষিণাঞ্চলের বিষখালী, পায়রা বলেশ্বর নদকে ঘিরে নতুন অভয়াশ্রম গঠন, নদীর মোহনা থেকে চর অপসারণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি

তিনি বলেন, ‘শুধু আইন প্রয়োগ করে জাটকা নিধন বন্ধ করা সম্ভব নয় নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের বিকল্প জীবিকা আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে একই সঙ্গে পুরো নদীব্যবস্থার নাব্য, ডুবোচর দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বিত জরিপ প্রয়োজন

দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য খাত, জেলে সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষা এবং জীবিকা উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী জহিরুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবিকা ইলিশনির্ভর উৎপাদন কমে যাওয়ায় শুধু জেলেরা নন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আড়তদার, ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে এর প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতি উপকূলীয় জনজীবনে

শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার
উদ্ধার হওয়া ছাত্ররা। ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় গত ১২ দিনের ব্যবধানে পাঁচজন মাদরাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ ও স্বজনরা।

সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার তিনানী বাজার বড় মসজিদ থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।

জীবিত উদ্ধার হওয়া ছাত্ররা হলো- উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের উকিল মিয়ার ছেলে রাব্বানী (১১), মানিক মিয়ার ছেলে তোফায়েল (১২) ও আব্দুল আওয়ালের ছেলে রাসেল (১৩)।

এর আগে, রবিবার দুপুরে একসাথে পাঁচগাঁও ইক্বরা মডেল হাফেজিয়া মাদরাসার এই তিন শিক্ষার্থী একযোগে নিখোঁজ হয়। এরপর সোমবার তাদের অভিভাবকরা নালিতাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করতে তৎপর হয়।

সোমবার বিকেলে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নালিতাবাড়ী সার্কেল আফসান আল আলম ও নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ফোর্স নিয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে মাঠে নামেন। সন্ধ্যার পর তিনানী বাজার বড় মসজিদে তাদেরকে পাওয়া যায়। 

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদেরকে তাদের পরিবারের কাছে হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শাকিল/নাঈম