ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারবাসী আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ৬০ বছরের অপেক্ষা বনাম ক্রোয়াট ধারাবাহিকতা সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় শাহরাস্তিতে নারীর পেট থেকে ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা! স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ মিশনে রোনালদো নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায় বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতি ধ্বংসের বোমা: ফরিদা আখতার প্রায় ৫ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ ইবি ছাত্রদল কমিটি পবিত্র আশুরা ২৬ জুন জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে ব্রহ্মপুত্র কমবে পানি, বাড়বে খরার ঝুঁকি দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী ১৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল মেসির জোড়া গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ সময়ের দাবি ১৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া: স্বপ্ন বনাম প্রত্যাবর্তন কর্মসংস্থানের রূপরেখা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন জ্যোতিদের প্রতিপক্ষ আজ অস্ট্রেলিয়া এবার কত দূর যাবে পর্তুগাল?
Nagad desktop

শেরপুরে মেয়ে হত্যায় আদালতে বাবার আত্মসমর্পণ

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:০৫ পিএম
আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:০৫ পিএম
শেরপুরে মেয়ে হত্যায় আদালতে বাবার আত্মসমর্পণ
ছবি: খবরের কাগজ গ্রাফিকস

শেরপুর জেলার সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের সাহাব্দীরচর দশানীপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী সাদিয়া বেগম হত্যা মামলার মূল আসামি পাষণ্ড বাবা জামাদার মিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। 

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে স্বেচ্ছায় জি.আর আমলী আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল বাহারের আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত জামাদার মিয়াকে শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার সাহাব্দীরচর দশানীপাড়া গ্রামের কমর আলীর ছেলে মো. জামাদার মিয়া পেশায় জুয়ারী। পূর্বশত্রুতা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে তার সৎ ভাই আ. আজিজ ও আ. হালিমকে ফাঁসাতে ৬ জানুয়ারি রবিবার ঔরসজাত বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়ে সাদিয়া বেগমকে ধারালে অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে হত্যা করে এবং তার বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে লাশ একটি ক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার তিনদিন পর জামাদার মিয়া আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন।

শাকিল মুরাদ/মাহফুজ

 

সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে বুধবার মৌলভীবাজার যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই তাকে স্বাগত জানানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট মহানগর বিএনপি। এ উপলক্ষে নগরীর চারটি পয়েন্টে নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেবেন।

 বুধবার  (১৭ জুন) মৌলভীবাজার সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি সড়কপথে সিলেট নগরী হয়ে মৌলভীবাজার যাবেন। সেখানে তিনি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সিলেট বিভাগ সফর করছেন তারেক রহমান। তার সফরকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের পাশাপাশি সিলেট জেলাতেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

সিলেট মহানগর বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সিলেট নগরীর চৌকিদেখী পয়েন্ট, আম্বরখানা পয়েন্ট, কুমারপাড়া-নাইরপুল পয়েন্ট এবং উপশহরের রোজভিউয়ের সামনে থেকে হুমায়ুন রশিদ চত্বর পয়েন্টে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেবেন। প্রতিটি পয়েন্টে মনিটরিংয়ের জন্য দুইজন সহ-সভাপতি ও দুইজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন।

চৌকিদেখী পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি এবং স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন সহ-সভাপতি জিয়াউল গনি আরিফিন জিল্লুর ও সাদিকুর রহমান সাদিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদার ও মাহবুবুল হক চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব।

আম্বরখানা পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে ১, ২, ৩, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ৩৬, ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। নেতৃত্ব দেবেন সহ-সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া ও মাহবুব কাদির শাহী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা বেলায়েত হাসান লিটন, শাহনেওয়াজ বক্ত তারেক ও মতিউল বারী খুর্শেদ।

কুমারপাড়া থেকে নাইরপুল পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ৩২, ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। নেতৃত্ব দেবেন সহ-সভাপতি আমির হোসেন ও সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শুয়াইব আহমদ শোয়েব ও রেজাউল করিম আলো।

উপশহরের রোজভিউয়ের সামনে থেকে হুমায়ুন রশিদ চত্বর পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি এবং ছাত্রদল, তাঁতীদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। নেতৃত্ব দেবেন সহ-সভাপতি সৈয়দ মঈন উদ্দিন সোহেল ও আফজাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হাসান মঞ্জু, নাদির খান ও আবুল কালাম।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে উৎসবমুখর পরিবেশে সফল করতে মহানগর বিএনপি ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সভা করেছে। সভায় সিলেট নগরীর চারটি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নেতা-কর্মীদের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সফল ও উৎসবমুখর করতে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

রিফাত/

শাহরাস্তিতে নারীর পেট থেকে ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
শাহরাস্তিতে নারীর পেট থেকে ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রায় ৩ কেজি ওজনের একটি টিউমার অপসারণ। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় ২২ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রায় তিন কেজি ওজনের একটি টিউমার অপসারণ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে একই হাসপাতালে আরেক নারীর পেট থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের বিশাল টিউমার অপসারণ করা হয়েছিল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওই তরুণী দীর্ঘদিন ধরে পেটে অস্বাভাবিক ফোলাভাব ও ব্যথা অনুভব করছিলেন। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার পেটে বড় আকারের টিউমার শনাক্ত করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেড় ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচারে রোগীর পেট থেকে টিউমারটি অপসারণ করা হয়।

অস্ত্রোপচারকারী সার্জন ডা. মো. আরিফ উল হাসান বলেন, রোগী দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর অস্ত্রোপচার করা হয়। সফলভাবে টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। রোগী এখন শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত
ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) নুরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড় এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) নুরুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়ক এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. ত‌রিবুর রহমান আহত হয়েছেন। তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার মৃত সিরাজউদ্দিনের ছেলে। এঘটনায় পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড় এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছিলেন এটিএসআই নুরুল ইসলাম। এ সময় ঢাকা অভিমুখী একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকটি রং সাইড ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দায়িত্ব পালনরত এটিএসআই নুরুল ইসলামকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ট্রাকচালককে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক মোফাকখারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটিএসআই নুরুল ইসলাম অত্যন্ত কর্মঠ, দায়িত্বশীল ও সৎ একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বিকেলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ঢাকা অভিমুখী একটি ডিসট্রিক্ট ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শিশির/রিফাত/

ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা
পীরজাদা হাম্মাদ চৌধুরী ও বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাদ্রা দরবারের দুই পীরজাদা হাম্মাদ চৌধুরী ও বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওমরাহ যাত্রীদের বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনার নামে সংগ্রহ করা প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

এ ঘটনায় ওমরাহ কাফেলার প্রধান মাওলানা মো. গোলাম মাওলা চেক ডিজঅনারের মামলা করেছেন। এ ছাড়া নিবন্ধনবিহীনভাবে ‘এসবি ওভারসিজ’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, মামলার নথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া অভিযোগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, জেলার কচুয়া উপজেলার আইনগিরি গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মাওলানা মো. গোলাম মাওলা বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে অভিযুক্ত হাম্মাদ ও মিশকাতের সঙ্গে পরিচিত হন। এর আগে তিনি বিভিন্ন ওমরাহ এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ যাত্রী সৌদিতে পাঠিয়েছেন। নিজ জেলা ও পীরজাদা হিসেবে হাম্মাদ এবং মিশকাতের ওপর বিশ্বাস রেখে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ওমরাহ যাত্রীদের পাঠানোর জন্য টাকা লেনদেন শুরু করেন। ৬৫ জন ওমরাহ যাত্রীর জন্য গোলাম মাওলা নগদ এবং ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা লেনদেন করেন। এর মধ্যে অর্থ লেনদেন হয় হাম্মাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এবং বাকি নগদ টাকা দেওয়া হয় হাম্মাদের বাবা মুহাম্মদ যাকারিয়া চৌধুরীর হাতে।

ভুক্তভোগী গোলাম মাওলা জানান, তিনি এর আগে ‘হোসাইনিয়া হজ্জ কাফেলা’ নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সফলভাবে বেশ কয়েকবার ওমরাহ যাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। ২০২৫ সালে হাম্মাদ ও মিশকাত চৌধুরীর অনুরোধে তাদের মাধ্যমে যাত্রীদের ওমরায় পাঠানোর কাজ শুরু করেন তিনি। ওই বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত হাম্মাদ ও মিশকাত তার কাছ থেকে মোট ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রীদের ওমরায় পাঠাতে তারা গড়িমসি করতে থাকেন। এতে তাদেরকে সন্দেহ হয় এবং তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ‘এসবি ওভারসিজ’ নামের তাদের ওই প্রতিষ্ঠানটির কোনো নিবন্ধন নেই।

তিনি বলেন, ‘তারা ওমরাহ যাত্রীদের পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে আমাকে ভুয়া ভিসা ও এয়ার টিকিট দেন। এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হলে একপর্যায়ে আমাকে ২০ ও ২৫ লাখ টাকার দুটি চেক দেন ইসলামী ব্যাংকের। ওই চেকগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় শেষ পর্যন্ত হাম্মাদ চৌধুরীকে আসামি করে ঢাকার আদালতে পৃথক দুটি মামলা করি। মামলায় দুটি হাজিরার নির্ধারিত তারিখে হাম্মাদ উপস্থিত হননি। তার বাবা যাকারিয়া চৌধুরী সন্তানদের অপরাধের দায়ভার নিতে নারাজ। হাম্মাদ ঢাকায় আত্মগোপনে এবং মিশকাত চৌধুরী বিদেশে রয়েছেন। এসব বিষয় আমি মৌখিকভাবে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এবং লিখিত অভিযোগ দিয়েছি পুলিশ সুপারের কাছে।’

এই ভুক্তভোগী বলেন, তাদের কাছ থেকে আমি হজযাত্রীদের টাকা উদ্ধারে সামাজিকভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। তারা শুধু আমার নয়, বহু ওমরাহ যাত্রীর টাকা নিয়ে আত্মগোপনে গেছেন। এখন বড় সমস্যা হচ্ছে যারা আমাকে ওমরাহ করার জন্য টাকা দিয়েছেন তাদের আমি টাকাও ফেরত দিতে পারছি না এবং ওমরাহ করার ব্যবস্থা হচ্ছে না। তাদের জীবনের সর্বশেষ স্বপ্ন ভেঙেছে। যার ফলে আমি এখন পথে বসার উপক্রম। এই প্রতারক চক্রের কাছ থেকে যাত্রীদের টাকা উদ্ধারের জন্য আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি।’

আরেক ভুক্তভোগী কুমিল্লার মুরাদ নগরের নছরুল্লাহ হুসাইন বলেন, ‘আমার ১৭৬ জন ওমরাহ যাত্রীর ভিসা ও এয়ার টিকিট বাবদ মিশকাত চৌধুরী তার দুই ভাই হাম্মাদ ও ইয়াহিয়া চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব নম্বরে নিয়েছেন ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। যাত্রীদের কাজ করে দিতে না পেরে আমাকে ৭৫ লাখ টাকার চেক দিয়েছেন। সময় পার হয়ে যাওয়ার পর আমি ওই দুই চেকের বিপরীতে কুমিল্লা আদালতে দুটি মামলা করেছি।

ওই মামলায় শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হবে। তাদের এই ধরনের প্রতারণায় আমি পথে বসার উপক্রম। দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও লোকের সঙ্গে তারা এই ধরনের প্রতারণা করেছে। এসব বিষয়ে বক্তব্যের জন্য হাম্মাদ চৌধুরী ও মিশকাত চৌধুরীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। তারা ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাদের পরিচয় দিয়ে কথা বলার জন্য খুদে বার্তা দেওয়া হয়, তাতেও তারা কোনো সাড়া দেননি। যার ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

এসব ঘটনার বিষয় জানেন হাম্মাদ ও মিশকাতের বাবা মুহাম্মদ যাকারিয়া চৌধুরী। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘ছেলেরা প্রাপ্তবয়স্ক। তারা ব্যবসা করেন লোকজনের সঙ্গে। এসব বিষয়ে আমাকে জড়াবে কেন। মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে। বলা হচ্ছে আমি নগদ অর্থ নিয়েছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার সঙ্গে কোনো লেনদেন হয়নি। এসব ঝামেলার কারণে আমি ছেলেদের সঙ্গে এখন যোগাযোগ রাখি না। কারণ লোকজন আমার সঙ্গে ঝামেলা করে।’

ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা
ভালুম আতাউর রহমান খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের জরাজীর্ণ পুরোনো একটি কক্ষে চলছে কালামপুর সাব-পোস্ট অফিসের কার্যক্রম। ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকার ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস। জনবহুল এই এলাকার ডাকঘরটিতে এখনও আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া লাগেনি। কক্ষ জরাজীর্ণ, নোংরা ও দুর্গন্ধময়। নেই পর্যাপ্ত জনবলও। নামমাত্র সম্মানীতে এখানে তিনজন কাজ করেন। অফিস খোলা থাকে প্রতি কার্যদিবসে মাত্র দুই ঘণ্টা। বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে চিঠিপত্র বিলি করা হয়। এতে গ্রাহকরা দুর্ভোগের শিকার হন। সবচেয়ে বড় সমস্যা পোস্টঅফিসের সামনের অংশে। পাশের একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রসাব করে। সুযোগ পেলে বহিরাগতরাও জায়গাটি নোংরা করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভালুম আতাউর রহমান খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি জরাজীর্ণ কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে পোস্ট অফিসটি পরিচালিত হচ্ছে। এর সামনেই কালামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ডাকঘরের দরজার পাশেই রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শৌচাগার। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় খোলার আগে শৌচাগারে না গিয়ে পোস্ট অফিসের সামনেই প্রস্রাব করে থাকে। অফিসের সামনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। কেউ পোস্ট অফিসের সেবা নিতে গেলে দুর্গন্ধে নাক চেপে রাখেন।

জানা গেছে, সাব-পোস্ট অফিসটির কোড-১৩৫১। তবে এটি কত সালে নির্মিত হয়েছে তা জানা যায়নি। অনেকে বলেন, এটি পাকিস্তান আমলে স্থাপন করা হয়েছে। যদিও আজও এটি সরকারি রাজস্বের আওতায় আসেনি। এখানে কর্মরতদের নামমাত্র সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়। অফিস খোলা হয় সপ্তাহে ৫ দিন। ২ ঘণ্টা কাজ শেষে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে চিঠিপত্র বেশির ভাগ সময় কালামপুর বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে বিলি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, নিতে আসা লোকজন ফোন দিলে প্রয়োজনীয় চিঠি বা পার্সেল বাজারের চায়ের দোকান থেকেই বিলি করা হয়। সকাল ১০টায় অফিস খুলে বেলা ১২টা বাজার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কালামপুর সাব-পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার দুলাল হোসেন জানান, দেলোয়ার হোসেন নামে একজন বিলিকারক ও শফিকুল ইসলাম নামে একজন রানার রয়েছেন। এই তিনজন দিয়েই চলছে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিসে জনবল কম। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এটির কোনো সংস্কার করা হয় না। পোস্ট অফিসটিতে আজও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। ডিজিটাল বা আধুনিক যুগে একটি পোস্ট অফিসে ওয়াই-ফাই সংযোগ, কম্পিউটার থাকার কথা। কিন্তু এখানে সেই প্রাচীন বা অ্যানালগ সিস্টেমেই কার্যক্রম চলছে। এতে হাজারও গ্রাহকের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কথা হয় পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পিয়ন দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, পোস্ট অফিস ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। অনেক সময় এর কমও থাকে। লোকজন সেবা নিতে এসে প্রতিদিন ফিরে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, বাজারে একটি চায়ের দোকান থেকে দেলোয়ার নামে একজন চিঠিপত্র বিলি করেন। গ্রাহকরা অফিস বন্ধ পেলে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে ওই চায়ের দোকান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যান। আর যারা তার নম্বর জানেন না, তারা সেবা পান না।

পোস্ট অফিসটিতে কর্মরত পোস্টমাস্টার, বিলিকারক ও রানার সরকারের কাছ থেকে খুবই কম সম্মানী পেয়ে থাকেন। পোস্টমাস্টার পান ৫ হাজার ৮৪৩ টাকা সম্মানী, বিলিকারক ৪ হাজার ৩০০ টাকা ও রানার পান ৪ হাজার ১০০ টাকা সম্মানী ভাতা।

বিলিকারক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেখানে একজন মানুষ দিনে কাজ করলে হাজার টাকা মজুরি পান, সেখানে আমরা সারা মাস কাজ করে পাই মাত্র ৪ হাজার ৩০০ টাকা। তাও এটা বেতন না, সরকার আমাদের সম্মানী ভাতা দেয়।’ তিনি দাবি করেন, ‘অনেক সময় গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়।’

পোস্টমাস্টার দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা অফিস সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখি।’ নোংরা পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একদিকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অফিসের সামনে নোংরা করে, অন্যদিকে অফিস বন্ধ থাকার সময় বহিরাগতরাও নোংরা করে থাকে।’
সম্মানী ভাতার বিষয়ে তিনি জানান, তাদের রাজস্বের আওতায় আনতে একাধিকবার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি।