মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের নারকেলতলা আবাসন সংলগ্ন পাকখালী এলাকায় ৮০ একরের একটি চিংড়ির ঘের যুবদল নামধারী একদল সশস্ত্র ক্যাডার জবর দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী শেখ আ. সালাম ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর এসএম জিহাদুজ্জামানের যৌথ মালিকানাধীন এ মাছের ঘেরে যুবদল নামধারী একদল ক্যাডার মোটরসাইকেলযোগে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে হামলা চালিয়ে ঘেরটি জবর দখল করে নেয়। এ সময় দখলে বাধা দিলে দখলকারী ক্যাডাররা চৌকিদারদের গালিগালাজ ও মারপিট করার চেষ্টাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘের থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশে অভিযোগ দেওয়া হলেও ঘেরটি ক্যাডার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়নি।
এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সাল থেকে মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আ. সালাম জমির মালিকদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে নিয়মিতভাবে হারির (ইজারা) টাকা পরিশোধ করে ওই জমিতে চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ চাষ করে আসছেন। এরপর ২০১৭ সালে শেখ আ. সালাম ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর এস.এম জিহাদুজ্জামান যৌথ মালিকানায় ওই জমিতে মাছের চাষাবাদ করে আসছেন। সর্বশেষ জমির মালিকদের কাছ থেকে আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত ওই ঘেরের লিজ নেওয়া হয়। চলতি মৌসুমে ঘেরে চাষের জন্য ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কয়েক দফায় কয়েক লাখ টাকার বাগদা, গলদা চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছের পোনা ছাড়া হয়।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে এ চিংড়ি ঘেরটির ওপর যুবদল নামধারী একটি মহলের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে ঘেরটি জবর দখলের কয়েকবার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রয়াত মোংলা পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ফকির আব্দুস সালামের ছেলে পৌর যুবদল নেতা মো. সুমন ফকির ও তার সহযোগী সোহাগ শেখের নেতৃত্বে যুবদল নামধারী ১৪ থেকে ১৫ জনের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী মোটরসাইকেলে মহড়া দিয়ে ওই ঘেরটি জবর দখল করে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ঘেরটি জবর দখলকারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সুমন ফকির বলেন, ওই ঘেরে তার প্রয়াত পিতা ও স্বজনদের বেশ কিছু জমি রয়েছে। তারা তাদের জমিতে ঘের করতে গিয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি মোংলা পৌর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান হোসেনের নামে ওই ঘেরের নতুন দলিল করা হয়েছে বলে জানান। যদিও এমরান হোসেন জানিয়েছেন, ওই ঘেরের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। নাম ভাঙ্গিয়ে তার সুনাম ক্ষুন্ন করা হচ্ছে।
মোংলা থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়ের বিরোধ দেখা পুলিশের কাজ নয়।
পুলিশের মোংলা-রামপাল সার্কেলের এএসপি মুশফিকুর রহমান তুষার বলেন, এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ঘেরটির আসল মালিক কে। পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
রিফাত আল মাহামুদ/মাহফুজ