ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় কলেজ প্রশাসন ছাত্রদের আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশ দিলেও ছাত্ররা হল ছাড়ছেন না।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৮টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু কলেজে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১২টা পর্যন্ত গুটিকয়েক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই হলে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলমান এবং আগামী ২৭ জানুয়ারি স্নাতকোত্তর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা শুরু হবে। এ কারণে তারা হলে ছাড়ছেন না। এ ছাড়াও হল ছাড়লে হামলাকারীরা হল দখল করতে পারে বলে জানান তারা।
এদিকে শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রশাসনের কাছে হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশসহ মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা, আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং হলে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, হলের সিট নতুনভাবে নবায়ন করে বৈধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বরাদ্দ করা এবং সিট নবায়নের ফি কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
পল্লী কবি জসিমউদ্দিন হলে থাকা রামীম, রাকিবসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সকাল ৮টা থেকে গুটি কয়েক সাধারণ শিক্ষার্থী ভয়-আতঙ্কে হল ত্যাগ করেছেন। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী হলে রয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কেউই হল ছাড়বেন না।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী নির্দেশনা মেনেই হল ছেড়ে বাড়ি গেছে। অন্যরাও চলে যাবে।’
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হলের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে হল ত্যাগ করছেন। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।’
এর আগে রবিবার বিকেল ৫টার দিকে হলের সিট বরাদ্দের নবায়ন ইস্যুতে ময়মনসিংহের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আশিকুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কামরুজ্জামান/তাওফিক/