খুলনায় নদী পারাপারে বিভিন্ন খেয়াঘাটের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ‘সাপে-নেউলে’ সম্পর্ক ছিল জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের। ঘাট বন্দোবস্ত (ইজারা) দিতে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেয়। ঘাট পরিচালনায় দ্বৈত প্রশাসন সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও অচলাবস্থা দেখা দেয়।
এসব বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ দাপ্তরিক চিঠি দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে। তবে ৫ আগস্টের পর বিআইডব্লিউটিএ অধিকাংশ ঘাট দখলে নেয়। তারা নিজেদের মতো করে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে যাত্রী পারাপারের রাজস্ব আদায় করছে। এতে জেলা পরিষদ নীরবতা পালন করলেও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নতুন করে বিআইডব্লিউটিএর বিরোধ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে রূপসা ও কাছারি ঘাট দখলের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা।
জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই খুলনা শহরের সঙ্গে নদীপথে বিভিন্ন উপজেলার যোগাযোগে রূপসা খেয়াঘাট, কাস্টমঘাট, জেলখানাঘাট, দৌলতপুর বাজার খেয়াঘাট, বার্মাশীল, নগরঘাট/রেলিগেটঘাট ও স্টিমারঘাট খেয়াঘাট নিয়ে মালিকানার দ্বন্দ্বে মুখোমুখি অবস্থান নেয় কেসিসি ও জেলা পরিষদ। পাল্টাপাল্টি চিঠি বিনিময়ের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সব ঘাট জেলা পরিষদকে নিয়ন্ত্রণ করতে দাপ্তরিক চিঠি দেয়। এই চিঠির পরও রূপসা ঘাট নিয়ে অনড় থাকে কেসিসি। একপর্যায়ে রূপসা ঘাটটি কেসিসির পরিচালনায় দিয়ে বাকি ঘাটগুলো জেলা পরিষদ বরাদ্দ দেয়।
তবে ৫ আগস্টের পর রূপসা ঘাট ও কাছারি ঘাট দখল নেয় বিআইডব্লিউটিএ। এতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি ঘাট দখল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রূপসা ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে রাজস্ব আদায় ও শৃঙ্খলা রক্ষায় মাইকিং করা হচ্ছে। সেখানে সিটি করপোরেশনের লোকজনকে সরিয়ে দিয়ে নতুন ঠিকাদারের কাছে ঘাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক যাত্রীকে নদী পারাপারে নৌকার মাঝিকে চার টাকা ও ঘাটে রাজস্ব বাবদ এক টাকা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এই ঘাট দিয়ে পারাপার হয়।
জানা যায়, বিআইডব্লিউটিএ রূপসা ঘাট ও কাছারি ঘাট দখলে রাখার প্রতিবাদে এরই মধ্যে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা সমাবেশ করেছেন।
কেসিসির রাজস্ব কর্মকর্তা এস কে এম তাছাদুজ্জামান জানান, উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে নগর ভবনে দুই সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে। অন্যদিকে প্রতিবাদ সমাবেশে কেসিসির প্রশাসক ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার বলেন, কেসিসি ও বিআইডব্লিউটিএর মধ্যে যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছে, তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে। কেসিসিকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে জনগণের কল্যাণে কাজে যোগদান করার আহ্বান জানান।