রাজশাহীতে পদ্মা নদীর চরে বিষটোপ দিয়ে অতিথি পাখি শিকারের দায়ে লিটন হোসেন নামে এক যুবককে তিনদিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে নদী পাড়েই তাকে কারাদণ্ড দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিক জামান। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার নগরের শ্রীরামপুর এলাকায় তাকে আটক করেন নৌ পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা। এ সময় তার কাছ থেকে চারটি মৃত পাতি তিলিহাঁস এবং প্রায় ৩০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক লিটন হোসেন নগরীর শ্রীরামপুর এলাকার মৃত তাজি মণ্ডলের ছেলে।
নৌ পুলিশের রাজশাহী অঞ্চলের পরিদর্শক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, বিষটোপ দিয়ে পাখি শিকারের খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ও বন বিভাগ যৌথ অভিযান চালায়। এসময় লিটনকে চারটি মৃত পাতি তিলিহাঁসসহ আটক করা হয়।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, লিটন রাতে পদ্মার চরে বিষটোপ দেন। এই বিষটোপ খেয়ে পাখি মারা যায়। সকালে লিটন মৃত পাখিগুলো নিয়ে গলা কেটে নগরের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করে। সন্দেহ এড়াতে লিটন মাছ ধরার নাম করে কারেন্ট জাল নিয়ে চরে যেতেন। তার আসল কাজ ছিল বিষটোপে পাখি হত্যা করা।
প্রতিবছর শীত মৌসুমে রাজশাহীর পদ্মা নদীর চরে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসে। শিকারিরা চরে বিষটোপ দিয়ে পাখি শিকার করে। গত ৯ জানুয়ারি শ্রীরামপুর এলাকার এক শিকারির বাড়ি থেকে ৯টি জবাই করা চখাচখি পাখি উদ্ধার করে বন বিভাগ। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারি পালিয়ে যায়।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিক জামান বলেন, রাজশাহী বন বিভাগ বন্যপ্রাণী পরিদর্শক ও নৌ পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে লিটনকে পাখিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে উদ্ধারকরা অবৈধ্য জালগুলোও পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
এনায়েত করিম/মাহফুজ