মাদারীপুররে শিবচর উপজেলায় মাত্র সাড়ে ৪০০ টাকার জন্য ভ্যানচালক মিজান গাজীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় শিবচর থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) আজমীর হোসেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার ভোরে উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের একটি ইটের ভাটাসংলগ্ন ভুট্টাখেত থেকে ভ্যানচালক মিজান গাজী (২০) নামে এ যুবকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে শিবচর থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা মলিনা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সহকারী পুলিশ সুপার মো. আজমীর হোসেন এবং শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখের নেতৃত্বে শুরু হয় মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটন।
সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, ‘নিহতের মা মলিনা বেগম বাদী হয়ে আরিয়ান আহমেদ স্বাধীন ব্যাপারী ও আল আমিনসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করলে আমরা আরিয়ান ও আল আমিনকে গ্রেপ্তার করি। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে হত্যায় জড়িত হান্নান নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে রবিবার ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজেলার শিকদারহাট এলাকার হুমায়ুন শিকদারের ছেলে মো. হান্নান শিকদারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। আরিয়ান আহমেদ স্বাধীন ব্যাপারীর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে কাজ করতেন। মিজানের ভ্যান তারা ব্যবহার করতেন। সেই সুবাদে মিজান গাজী স্বাধীনের কাছে সাড়ে ৪০০ টাকা পেতেন। বেশ কিছুদিন ধরে টাকা চেয়েও না পেয়ে স্বাধীনের সঙ্গে কিছুটা বাগবিতণ্ডা হয় ভ্যানচালক মিজান গাজীর। টাকা না দিতে এবং এর প্রতিশোধ নিতেই ভ্যানচালককে হত্যা করেন তারা। হান্নান পেশায় একজন ইট ভাঙা শ্রমিক এবং মাদকাসক্ত।’
অন্য আসামিদের প্ররোচনায় মাত্র ২ হাজার টাকার বিনিময়ে হান্নান ভ্যানচালক মিজানকে নৃশংসভাবে খুন করেন। ঘটনার দিন ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার পর হান্নানসহ অন্য আসামিরা মিজানকে তার অটোভ্যানসহ ৫০০ টাকায় ভাড়া করে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। শিবচর থানার কাদিরপুর ইউনিয়নের দেলোয়ারের ইটভাটার অদূরে সামাদ মৃধার ভুট্টাখেতের আড়ালে নিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন মিজানকে। একপর্যায়ে মিজান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে গলায় ছুরি চালান আসামি হান্নান।