ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তিস্তা রক্ষায় পরিকল্পিত ড্রেজিং, নির্মিত হবে টেকসই বাঁধ: পানিসম্পদমন্ত্রী পূবাইলে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু এনড্রিককে নিয়ে তাড়াহুড়ো নয় : আনচেলত্তি না ফেরার দেশে কবি আল মুজাহিদী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই বাংলাদেশকে ১৯৭ রানের লক্ষ্য দিল অস্ট্রেলিয়া ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সমালোচনার জবাব দিতে হয় পারফরম্যান্সে: রদ্রিগো ফ্লোরা সিস্টেমসের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চুক্তি সম্পন্ন মাঠে নেইমারের প্রভাব ব্যাখ্যা করলেন দানিলো টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যোগ্যতা এইচএসসি পাস লোডশেডিং বন্ধ হোক ‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’ মন্ত্রীদের আচরণ যা হওয়া উচিত সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ২ শিশুর মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে দখল-দূষণে হারিয়ে যাওয়া শতবর্ষী নয়নের খাল পরিদর্শনে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মেধা পাচার: উন্নয়নের আড়ালে নীরব বিপর্যয় রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি আগুন সন্ত্রাসীর তান্ডবে নির্ঘুম কৃষক, পাচ্ছেন দয়াও বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন নয়্যার নোয়াখালীতে ১৭ বেডের হাম ওয়ার্ডে রোগী ৮৭

নদীবক্ষে ভিন্নরকম পাঠচক্র

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৩৭ এএম
নদীবক্ষে ভিন্নরকম পাঠচক্র
যশোরের ঝিকরগাছার কাটাখালের কপোতাক্ষ নদের মাঝে গত শুক্রবার নৌকায় ভিন্নধর্মী এক পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়। ছবি: খবরের কাগজ

বিভিন্ন পাখির কিচিরমিচির ডাক শোনা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে পানকৌড়ির ডানা ঝাপটানো ছুটে চলা। কানে বাজছে কপোতাক্ষ নদের কলকল জলরাশির মৃদু শব্দ। সঙ্গে রয়েছে নদের দুই পাশের সবুজ প্রকৃতির স্নিগ্ধময় আবেশ।

এমনই এক মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কবি’ উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্র।

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পড়ন্ত দুপুরে যশোরের ঝিকরগাছার কাটাখালের কপোতাক্ষ নদের মাঝে নৌকায় ভিন্নধর্মী এ পাঠচক্রের আয়োজন করে ‘সপ্তাহে একটি বই পড়ি’ নামে সাহিত্য চর্চা সংগঠন।

পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারীরা জানান, ‘কবি’ বইটির পাঠ চলাকালে সদস্যদের মধ্যে উপন্যাসের তিনটি চরিত্র নিতাই, ঠাকুরঝি ও বসন্তের ভালোবাসা নিয়ে নানা মত প্রকাশ পায়। বইয়ের চরিত্রকেন্দ্রিক যুক্তি-আশ্রয়ী রোমান্টিক আলোচনায় উপভোগ্যময় হয়ে ওঠে পাঠচক্র। এ ধরনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট বইয়ের বিষয়বস্তু জানা ও পাঠে আনন্দের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহ্জাহান কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় পাঠচক্র। পাঠ-প্রতিক্রিয়া পর্বে অংশগ্রহণ করেন অভিজিৎ কুমার তরফদার, খাদিজা একরাম এষা, সোনিয়া আফরিন, অপু দেবনাথ, জান্নাতুল ফেরদৌস ইলা, হামিদা হিমু, আনিকা প্রমুখ। প্রতিবেশ অধ্যয়ন সঞ্চালনা করেন মুরাদ হোসেন। 

সালেহা সুলতানা ঊষার কণ্ঠে সংগীত দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। আর শেষ হয় ৫ মিনিটের মেডিটেশন দিয়ে। আলোচনার মাঝে মাঝে রুবাই পাঠ করেন কবি মামুন আজাদ। কবিতা শোনান মনিরা খাতুন এবং লোকোজ গান পরিবেশন করেন স্থানীয় বাউলশিল্পী সোহরাব হোসেন।

‘কবি’ উপন্যাস নিয়ে মনোজ্ঞ আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন যশোর সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোফাজ্জেল হোসেন ও পাঠচক্রের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শাহ্জাহান কবীর।

আলোচনার একপর্যায়ে ‘কবি’ উপন্যাসকেন্দ্রিক রম্য বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন পাঠচক্র সদস্যরা। বিতর্কের বিষয় ছিল ‘বসন্ত নয়, ঠাকুরঝিই ছিল নিতাইয়ের প্রকৃত ভালোবাসা’। পক্ষ দলে অংশগ্রহণ করেন মুরাদ হোসেন, সায়মা আক্তার তৌফা, অভিজিৎ তরফদার ও সোনিয়া আফরিন এবং বিপক্ষ দলে অপু দেবনাথ, সালেহা সুলতানা ঊষা, খাদিজা একরাম এশা ও জান্নাতুল ফেরদৌস ইলা। 

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কবি মামুন আজাদ, সাংবাদিক সালমান হাসান রাজীব ও সংগঠনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও কবি সুমন রেজা। বিতর্কে পক্ষ দল বিজয়ী হন এবং শ্রেষ্ঠ বক্তা হন অভিজিৎ তরফদার।

ভিন্নতর আয়োজন নিয়ে সংগঠনের সভাপতি শাহ্জাহান কবীর বলেন, ‘পাঠচক্রের গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর মধ্যে অনন্য আয়োজন হচ্ছে ‘প্রতিবেশ অধ্যয়ন’। বইয়ের বিষয়ের সঙ্গে মিল রেখে আবহ সৃষ্টির মাধ্যমে পাঠচক্র করার নামই ‘প্রতিবেশ অধ্যয়ন’। সাধারণত ১০টি সাপ্তাহিক পাঠচক্র সম্পন্ন করার পর ‘প্রতিবেশ অধ্যয়ন’র আয়োজন করে সংগঠনটি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাঠচক্রে বই আলোচনার পাশাপাশি থাকে গান, কবিতা আবৃত্তি, স্বরচিত কবিতা পাঠসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। উপস্থিত সবাই পাঠচক্রে পূর্বনির্ধারিত বইয়ের ওপর পাঠ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার সুযোগ পান। কোনো কোনো বইয়ের জন্য প্রধান আলোচকও রাখা হয়। বইটির ওপর বিশদ আলোচনার পাশাপাশি প্রধান আলোচক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।’

শাহজাহান কবীর বলেন, ‘সপ্তাহে একটি বই পড়ি’ বই পড়ার একটি নিত্য আন্দোলনের নাম। উন্নত, কল্যাণকর, নান্দনিক ও উদার চিন্তা-চেতনাসমৃদ্ধ মানুষের সমাজ বিনির্মাণে বই পাঠের বিকল্প নেই। মানবিক ও নান্দনিক মানুষের সমাজ গঠনে কাজ করছি আমরা।’

পূবাইলে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
পূবাইলে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরের পূবাইল চামুড্ডা এলাকায় মোটরসাইকেল ও একটি ড্রাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা ও মা।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-বাইপাস মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আড়াই বছর বয়সী সাফোয়ান হোসেন শেরপুর থানার বাংড়া এলাকার মো. জুয়েল রানার ছেলে।

আহতরা হলেন, শেরপুর থানার বাংড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জুয়েল রানা (৩৬) ও তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার রুপা (৩০)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রামে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন পরিবারটি। সকালে ঢাকা-বাইপাস মহাসড়কের পূবাইল থানাধীন চামুড্ডা এলাকায় পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি ড্রাম্প ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। 

এসময় মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে আরোহী তিনজনই গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই শিশু সাফোয়ান হোসেনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, ঢাকা-বাইপাস মহাসড়কের চামুড্ডা এলাকায় মোটরসাইকেল ও ড্রাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে এক শিশু নিহত হয়েছে এবং তার বাবা-মা আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পলাশ/আমান

ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত
অবকাশের আনন্দে কক্সবাজার সৈকতজুড়ে ভ্রমণপিপাসুদের উচ্ছ্বাস। ছবি: খবরের কাগজ

সাপ্তাহিক ছুটির দিন। নেই কোনো টানা সরকারি ছুটি। তবুও নগরজীবনের ক্লান্তি আর ব্যস্ততা ঝেড়ে একটু প্রশান্তির খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছেন দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে। মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি, সাগরের গর্জন আর মনোরম আবহাওয়ায় সৈকতজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে পর্যটকেরা সাগরের সঙ্গে মিতালী করে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পুরো সমুদ্রসৈকত। কেউ সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতেছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউবা বিচবাইক, ঘোড়ায় চড়া কিংবা ওয়াটার বাইকে (জেটস্কি) রোমাঞ্চ উপভোগ করছেন। দীর্ঘ তিন কিলোমিটার সৈকতজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য আর উচ্ছ্বাসের এক অনন্য দৃশ্য।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক শরীফুল শাহীন খবরের কাগজকে বলেন, 'ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম হয়। তাই ছুটির দিনে কক্সবাজারে চলে এসেছি। আবহাওয়া চমৎকার, সমুদ্রও বেশ শান্ত। পরিবার নিয়ে দারুণ সময় কাটছে।'

রাজবাড়ী থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাবিনা আলতাফ খবরের কাগজকে বলেন, 'কক্সবাজারে এর আগেও এসেছি, তবে এবার আবহাওয়া অনেক বেশি উপভোগ্য মনে হচ্ছে। সমুদ্রের বাতাস আর পরিবেশ মনকে ভীষণ প্রশান্ত করেছে।'

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার খবরের কাগজকে বলেন, 'বর্তমানে কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যটকদের উপস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। বেশ কিছু হোটেলে ভালো বুকিং রয়েছে। আমরা অতিথিদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি, যাতে কক্সবাজার থেকে তারা সুখকর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে পারেন।'

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবায় সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে সমুদ্র উপভোগ করতে পারছেন।

সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম খবরের কাগজকে বলেন, 'আমাদের কর্মীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকে। পর্যটকদের নিরাপদ জোনে অবস্থান করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করা হয়।'

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন খবরের কাগজকে বলেন, 'পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। সৈকত, হোটেল-মোটেল জোন এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের হয়রানি, অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি পর্যটক কক্সবাজার থেকে নিরাপদ ও সুখকর অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরুন।'

সাগরের ঢেউ, মনোমুগ্ধকর আবহাওয়া আর নিরাপদ পরিবেশ মিলিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কক্সবাজার যেন হয়ে উঠেছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের এক বিশাল মিলনমেলা। স্বস্তি আর প্রশান্তি খুঁজে নিতে পর্যটকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার।

তারেকুর রহমান/থিওটোনিয়াস

টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পুকুরের পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (১৯জুন) দুপুরে উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের নাল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, রিপন চৌধুরীর ছেলে আব্দুর রহমান (১২) এবং একই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ফয়সাল (৭)। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯জুন) সকালে দুই শিশু সাইকেল নিয়ে নাল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যায়। খেলার এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের পাশেই পুকুরে গোসল করতে নামে। গোসলের সময় তারা পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করে।

আতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক খবরের কাগজকে জানান, তারা সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। তাদের বাড়ি নাল্লাপাড়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় এর পাশেই। খেলার পর গোসলের সময় সম্ভবত সাত বছরের ফয়সাল পানিতে ডুবে যায়। এরপর সেই ফয়সালকে উদ্ধার করতে ১২ বছরের আব্দুর রহমান যায়। সেখানে উদ্ধার কাজে ব্যর্থ হয়ে দুজনেই পানিতে মারা যান। এরপর পথচারীরা স্থানীয় লোকজনকে অবগত করেন এবং দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'এ ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জুয়েল রানা/থিওটোনিয়াস

মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের নদী উপকূলীয় এলাকায়  আড়ৎ ও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশের পোনা। ৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙ্গাসের পোনা ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ মানছে না নিয়ম নীতি। বড়ো সাইজের পাঙাশ মাছ প্রতিকেজি বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা। আর এই ছোট সাইজের পাঙ্গাসের পোনা বিক্রি হয় মাত্র ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা কেজি। মৎস্য বিভাগ বলছে, লজিস্টিক সাপোর্ট সহ লোকবল সংকটে নদী ও  আড়ৎ-তে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিন চাঁদপুর শহরের ওয়ালে বাজার, পালবাজার, বিপনীবাগ বাজার, মিশন রোড মোড়, বহরিয়া বাজারে এসব পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়াও লালপুর, আনন্দ বাজার, চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, বহরিয়া মৎস্য আড়ত ও হরিণা মাছঘাটে খোলামেলা ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হরিণা মাছঘাটে দেখা গেল প্রতিটি  আড়ৎ-তে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশের পোনা। ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ এসব বিষয়ে কারও মধ্যে ন্যূনতম সচেতনতা নেই। পাশাপাশি সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে পাঙ্গাশের পোনা রক্ষায় কোনো ধরনের অভিযানও নেই।

এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, 'ইলিশের জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা পড়ে। আগে কম ছিলো, এখন বেশি। ইলিশ আর পাঙ্গাশের পোনা আলাদা দরদামে বিক্রি হয়।'

ঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, 'গত বছর এই সময় নদীতে ছোট সাইজের প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাওয়া গেছে। এবার ইলিশ না পাওয়া গেলেও ওইসব জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা বেশি ধরা পড়ছে। জেলেরা নদীতে নেমে যে-সব মাছ পায়, সবই  আড়ৎ-তে এনে বিক্রি করে। তবে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা না ধরাই উত্তম। কারণ বড়ো হলে দাম বেশি।'

এই ঘাট থেকে পাঙ্গাশের পোনা কিনে শহরের বিপনীবাগ বাজারে বিক্রি করেন খুচরা ব্যবসায়ী শাহজাহান। তিনি বলেন, আজকে তিনি হরিণা ঘাট থেকে ৪ কেজি পাঙ্গাশের পোনা ক্রয় করেছেন ৬শ’ টাকা করে। এগুলো শহরে নিয়ে বিক্রি করবেন ৮শ’ টাকা কেজি দরে। এভাবে এই ঘাটে প্রতিদিন কয়েক মণ পাঙ্গাশের পোনা কেনা-বেচা হয়।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙাশ মাছ ধরা সব সময়ের জন্য নিষিদ্ধ। জাটকা রক্ষায় আমরা যেমন : অভিযান করেছি, এখন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আমাদের লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। তারপরেও সদর মৎস্য অফিসকে অভিযান করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা/

শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক
জব্দ চাল ও ইনসেটে আটক ব্যাবসায়ী। ছবি: খবরের আগজ

শেরপুর শহরের একটি রাইস প্রসেসিং মিল থেকে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন ১০০ কেজি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ১২টার দিকে শহরের চাপাতলী এলাকার জেবিন রাইস প্রসেসিং মিলে অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ ও ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটক ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিন (৩২) শহরের কসবা কাঠগড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ৩০ কেজির বস্তায় থাকা বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল অন্য বস্তায় স্থানান্তর করা হচ্ছে- এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ওই মিল থেকে ৩৩ হাজার ১০০ কেজি সরকারি চাল জব্দ এবং ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিনকে আটক করা হয়। অভিযানটির নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল। এর আগেও বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি চাল কারসাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, জব্দ চাল কীভাবে এখানে মজুত করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

শাকিল/নাঈম