চট্টগ্রামের অক্সিজেন কুয়াইশ সড়কে ম্যানুয়ালি কাজ করার জন্য সিডিএকে পরামর্শ দিয়েছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা। সড়কের কোন পাশ দিয়ে পানির লাইন গেছে, সেটির নকশাও তাদের সরেজমিনে গিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবুও তারা এত বড় ভুল করেছে, যার মাশুল গুনতে হচ্ছে নগরবাসীকে। শহরের অধিকাংশ এলাকায় চার দিন ধরে পানির জন্য হাহাকার চলছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘অক্সিজেন কুয়াইশ সড়কের পাশ দিয়ে ৪৮ ইঞ্চি ব্যাসের পানি সরবরাহের পাইপ এসেছে। সিডিএকে এ বিষয়ে আগেই জানানো হয়েছে। ওয়াসার একজন নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিনে গিয়ে পানির পাইপ সড়কের কোন পাশ দিয়ে কীভাবে গেছে তা লেআউটসহ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। সড়কের ওই অংশে তাদের ম্যানুয়ালি কাজ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়। তারা ওই সড়কে ম্যানুয়ালি কাজ করলে পাইপ কোথায় আছে তা সহজেই খুঁজে পেতেন। এখন হ্যামার ড্রিল করতে গিয়ে পাইপ ফেটে ফেলেছে।’
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শহরে সংস্থাটি দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। তার মধ্যে ২৮ কোটি লিটার পানি আসে এই পাইপ দিয়ে। চার দিন ধরে এই পাইপ দিয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে শহরের অধিকাংশ এলাকায় পানির জন্য হাহাকার চলছে।
সিডিএ এবং ওয়াসার একাধিক প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, মূলত অদক্ষ ঠিকাদার নিয়োগের কারণেই এ সংকট তৈরি হয়েছে। দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ঠিকাদাররা কোথায় কোন কাজ কীভাবে করতে হবে, তা জানেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা প্রয়োজনে কাজের ধরন পরিবর্তন করে কাজ সম্পন্ন করেন। এখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কম খরচে হ্যামার ড্রিল মেশিন দিয়ে কাজ করতে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করে ফেলেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের জন্য সিডিএর নিয়োজিত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আহমেদ মঈনুদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’
সেনাবাহিনী নিয়োজিত প্রকল্প পরিচালক-৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লে. কর্নেল ফেরদৌসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সিডিএ ‘চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কুয়াইশ এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছিল। ভেকু মেশিনের ড্রিলের আঘাতে পাইপ ফুটো হওয়ার পর থেকে ওই লাইন দিয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।