ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় কারাবন্দি এক ম্যাজিস্ট্রেট বগুড়ার প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শতাধিক লেবার এমপি-মন্ত্রীর ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে: জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি উত্তেজনা ট্রাম্পের মন্তব্যে চটেছেন মেলোনি প্লেগের জীবাণু আবিষ্কার ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল কুরাসাও এক যুগ পেরোলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি আওয়ামী লীগ কার্যালয় চাঁদাবাজদের আস্তানা! বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে নামছে জাপান-তিউনিসিয়া তারকাসমৃদ্ধ বেলজিয়ামের সামনে সংগঠিত ইরান ২১ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কুকুরেইয়ার ‘জেগে ওঠার ডাক’ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে দুঃসংবাদ শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে আইভরি কোস্টকে হারাল জার্মানি বিশ্বকাপ জয়ে যে দলকে এগিয়ে রাখলেন ইব্রাহিমোভিচ দুই গোল বাতিল, প্রথমার্ধে পিছিয়ে জার্মানি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি জার্মানি, দেখুন একাদশ জোড়া রেকর্ডের সামনে মেসি সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে ধাক্কা বিশ্ব বাবা দিবস আজ ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর ব্রায়ান ব্রোবির জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ এক দিনে দ্রুততম দুই গোল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ উল্লাসের পরদিন ৪০ টন স্মৃতি

মাদারগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভবন আছে সেবা নেই

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৪:৩৬ পিএম
মাদারগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভবন আছে সেবা নেই
১০০ শয্যার মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের একটি কেবিন কবুতরের বাসস্থানে পরিণত হয়েছে। কেবিনের ফ্লোরে কবুতরের বিষ্ঠা পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবরের কাগজ

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা থাকলেও রয়েছে নানামুখী সংকট। একটি তিনতলা ভবনে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পাশেই নতুন চারতলা ভবন নির্মাণ করে হাসপাতালটিকে কাগজে-কলমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু জনবল সংকট ও নতুন ভবনে রোগীদের যাতায়াতের জন্য ঢালু সিঁড়ি না থাকায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ভবনটি কোনো কাজেই আসছে না। চিকিৎসকসহ অন্যান্য সংকট ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মেলান্দহ উপজেলা ও বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির প্রধান ভরসা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তিনতলা বিশিষ্ট একটি ভবন থেকেই পরিচালিত হয় স্বাস্থ্যসেবা। বহির্বিভাগ, আন্তবিভাগ, অপারেশন থিয়েটারসহ প্রায় সবকিছুই রয়েছে এই ভবনে। তবে তিনতলা এ ভবনের পাশেই চারতলা আরেকটি ভবন নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালের ১১ মার্চ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু জনবল বৃদ্ধি না করায় শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি সেবা কার্যক্রম। তাই আগের মতো পুরোনো ভবনেই ৫০ শয্যার বিপরীতেই চলছে রোগী ভর্তি ও পরিচর্যা। হাসপাতালটিতে বর্তমানে কর্মকর্তাসহ ২০ চিকিৎসকের পদ সৃজন থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র সাতজন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও পাঁচজন মেডিকেল অফিসার কর্মরত রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে চারজন মেডিকেল অফিসারই প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন কারণে ছুটিতে ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। তাই বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও আন্তবিভাগে সেবা দিচ্ছেন মাত্র দুইজন চিকিৎসক। ৩১ নার্সের বিপরীতে ২৭ জন কর্মরত রয়েছেন, যা সন্তোষজনক হলেও তিনজন ওয়ার্ডবয়ের জায়গায় নেই একজনও। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো তিনতলা ভবনের নিচতলায় বহির্বিভাগে রোগী ও তাদের স্বজনরা টিকিট কেটে সেবা নিতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছেন। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী সেবা নিয়ে থাকেন। তবে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় কর্মরত চিকিৎসকদের সেবা দিতে বেশ বেগ পেতে হয় এবং রোগীরাও সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট নন। 

বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা ফুল মিয়া (৫০) বলেন, ‘ডাক্তার ওষুধ লিখে দেন, কিন্তু হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেয় না। এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হয়।’

ছয় দিন ধরে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা মাদারগঞ্জ উপজেলার খিলকাটি গ্রামের সাহেব আলী (৬৫) জানান, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, কিন্তু হাসপাতালের বাইরে থেকে এক্স-রে করতে হয়েছে। এখানে যে খাবার দেওয়া হয়, তা খাওয়া যায় না।

কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মেরিনা পারভীন জানান, হাসপাতালে নার্সের সংখ্যা স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু ওয়ার্ডবয় না থাকায় সব সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। ইদানীং রোগী কম হলেও প্রায়ই রোগীর চাপ বেড়ে যায়, তখন হিমশিম খেতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু রায়হান বলেন, ‘চিকিৎসকসংকটের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে আমি ও একজন মেডিকেল অফিসার সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের পক্ষে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, আন্তবিভাগে সেবা দেওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। জনবল সংকটের কারণে নতুন চারতলা ভবনের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা বগুড়ার প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
বগুড়ার প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ
বগুড়ার মহাস্থানগড়ে ঘর তৈরি জন্য ভিত্তি তৈরির কাজ চলছে। ছবি: খবরের কাগজ

বগুড়ায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা মহাস্থানগড়ে হাইকোর্টের রায় ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা করে নির্মিত হচ্ছে রাস্তাসহ নানা ধরনের স্থায়ী অবকাঠামো। প্রাচীন অবকাঠামো ভেঙে রাস্তা ও ঘর নির্মাণের বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও নির্মাণকাজ বন্ধে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাস্থান মাজারসংলগ্ন এলাকায় ইটের তৈরি একটি রাস্তা তিন মাস আগে নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার মাজার চত্বর এলাকায় ঘর নির্মাণ চলছে। বগুড়ায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে গত ১৭ জুন জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে জানানো হলেও জেলা প্রশাসন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে অবকাঠানো নির্মাণ হচ্ছে তাই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

১৯৬৮ সালের সংশোধিত পুরাকীর্তি আইনে বলা হয়েছে–তালিকাভুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ধ্বংস, অঙ্গহানি, এমনকি নিদর্শনে আঁচড় কাটাও দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আড়াই হাজার বছরের পুরোনো মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটে মাজারসংলগ্ন এলাকা খনন করে রাস্তা এবং ঘর নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

মহাস্থান মাজারসংলগ্ন এলাকায় নতুন ঘর তৈরির কাজ তদারকি করছেন স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি জানান, মাজারভক্ত নারী-পুরুষের জন্য এ ঘর তৈরির কাজে সহযোগিতা করছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন আর আর্থিক সহযোগিতা করছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

কত টাকা ব্যয়ে এই ঘর তৈরি হচ্ছে–প্রশ্নের উত্তরে সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘সেটি আমার জানা নেই, তবে যতটুক জেনেছি পুরো টাকাই সংগ্রহ করে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।’ এ ছাড়া মাজারে মিষ্টি বিক্রেতা মো. মাসুদ মিয়া জানান, প্রায় তিন মাস আগে মাজারসংলগ্ন এলাকায় রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। কত টাকায় রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে মাসুদ মিয়া বলেন, ‘আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে এ তথ্য নেই। তবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম টাকা দিয়েছেন এতটুকুই জানি। রাস্তাটি নির্মাণ করায় উপকার হয়েছে। বৃষ্টির সময় এ রাস্তায় চলাফেরা করতে খুব কষ্ট হতো, কিন্তু এখন আর সেই সমস্যা নেই।’

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্মকর্তারা জানান, সংরক্ষিত এ প্রত্নস্থলে যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার কথা থাকলেও এখানে সেটি করা হয়নি। অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, এ ছাড়া মানা হয়নি পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইনও।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে হাইকোর্টের নির্দেশ ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে প্রত্নস্থলে অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বাইরে গিয়ে কোনো অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ নেই। তাই হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ অবকাঠামো তৈরির কাজ বন্ধ করা হবে।’ কিন্তু গতকাল শনিবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ চলছে এবং কাজ বন্ধ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। 

গত শতাব্দীর শেষ দিকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের প্রত্নতাত্ত্বিকরা মহাস্থানগড়ের এই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় খনন করে প্রায় ২ হাজার ৪০০ বছরে পুরোনো মাটির চুলাসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নিদর্শন পান। মৌর্যপূর্ব, মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন ও মুসলিম শাসনামলের নানা ধরনের নির্দেশনার ভান্ডার এই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা। এখানে আগে খনন করে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের চেষ্টা করলে উচ্চ আদালত সেটি বন্ধের নির্দেশ দেন। ওই মামলার রায়ে ২০১২ সালে হাইকোর্ট প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকাটি রক্ষায় বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। ওই রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকাটি রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে স্থানীয় প্রশাসন।

নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা
ছবি: হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা

কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্কের টিকা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা। জেলার চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে টিকা না থাকায় সবাইকে যেতে হচ্ছে সদর জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও রয়েছে প্রতিষেধকের সংকট। ফলে অনেক রোগীকে বাইরে থেকে চড়া দামে টিকা কিনতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সরবরাহ কম থাকায় জেলার স্বাস্থ্যসেবায় চাপ বাড়ছে, পাশাপাশি বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বরের পর থেকে সরকারিভাবে জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন আসেনি। শুধু ব্যক্তি উদ্যোগ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য এক হাজার ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হয়েছে। অথচ গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ২৯৭ জন কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগী টিকা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার মাসে ৪ হাজার ৬৫৩ জন রোগী সদর জেনারেল হাসপাতালের টিকা বিভাগে জলাতঙ্কের টিকার জন্য নাম লিপিবদ্ধ করেছেন। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১ হাজার একজন, ফেব্রুয়ারিতে ৬৬০ জন, মার্চে ৭০৭ জন, এপ্রিলে ১৭৭০ জন এবং মে মাসে ১৪১৫ জন মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সরবরাহ না থাকায় বেশির ভাগ রোগীকেই নিজ খরচে টিকা নিতে হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে টিকা নিতে আসা রোগীরা জানান, প্রতিদিন অনেক রোগী টিকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেককে নিজ খরচে টিকা কিনতে হচ্ছে। বিনামূল্যের এই টিকা বাইরে থেকে প্রতি ডোজ প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তি ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে। উপজেলা হাসপাতালে টিকা না থাকায় রোগীদের সদর হাসপাতালে আসতে হচ্ছে। এতে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের টিকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত (ইনচার্জ) সিনিয়র স্টাফ নার্স শিবানি বিশ্বাস বলেন, ‘র‌্যাবিস টিকার সরকারি সরবরাহ পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ। কিন্তু আক্রান্তদের ডোজ প্রদান জরুরি। এমন অবস্থায় রোগীরা টিকা সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। রোগীর চাপ বেশি থাকলে তিনজনকে একত্রিত হয়ে ভ্যাকসিন কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ একটি ভ্যাকসিনে তিনটি ডোজ থাকে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে যখনই যে পরিমাণ ভ্যাকসিনের সরবরাহ আসছে, তা রোগীদের মধ্যে বণ্টন করা হচ্ছে। তবে টিকা না পেয়ে অনেক সময় রোগীর স্বজনরা নার্সদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

টিকা সংরক্ষণাগারের ভাণ্ডার রক্ষক নোমান ভূইয়া জানান, গত বছরের ২২ নভেম্বর থেকে সরকারি সরবরাহের র‌্যাবিস টিকা আসা বন্ধ রয়েছে। অনুদানের ২৩৯টি ভ্যাকসিন আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়ের জন্য মজুত রয়েছে। সে হিসেবে মাত্র ৯৫৬ জন তা পাবেন। অথচ গত এপ্রিল মাসেই নতুন ও পুরোনো রোগী মিলিয়ে ৬ হাজার ৭১১ টিকা আক্রান্তদের দেওয়া হয়েছে। যার বেশির ভাগই রোগীরা নিজেরাই সংগ্রহ করেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট শুরু হয় ২০২৫ সালের আগস্টে। তখন ৪০০০ ভায়াল চাহিদার বিপরীতে আসে মাত্র ৪০০ ভায়াল। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ কমতে থাকে। দীর্ঘদিন সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকার পর এ মাসের শুরুতে কিছু ভ্যাকসিন আসা শুরু হয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় কম।

নারায়ণগঞ্জে জলাতঙ্ক (র‌্যাবিস) টিকার তীব্র সংকট নিয়ে সিভিল সার্জন মুশিয়ার রহমান জানান, জেলা পর্যায়ে টিকার সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী ডোজ পাওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে চাহিদামতো বরাদ্দ পেলেই সদর হাসপাতালের সংকট কেটে যাবে। পাশাপাশি চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খানপুর ৩০০ শয্যার হাসপাতালেও টিকা সরবরাহের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই এই সংকটের সমাধান হবে। টিকা সংগ্রহে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে কুকুর বা অন্য প্রাণীর কামড়ের শিকার রোগীদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। কোনো রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন, এমন অভিযোগ নেই।

ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর
মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম (৪৪) নামে মসজিদের এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শনিবার (২০ জুন) রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা।

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রামর পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। তিনি ত্রিশাল উপজেলার ৬ নম্বর ত্রিশাল ইউনিয়নের চিকনা মনোহর এলাকার হাসেন আলী শেখবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব।

ভুক্তভোগী শিশুটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। তবে পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল উপজেলার একটি গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করত। শিশুর বাবা মাছের একটি প্রজেক্টে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি প্রতিদিন চিকনা মনোহর এলাকায় হাসেন আলী শেখবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামের কাছে পবিত্র কোরআন শিখতে যায়। মেয়ের সঙ্গে ৫ ও ৬ বছরের আরও দুই ছেলে শিশু পবিত্র কোরআন শিখতো। মেয়েটিকে দেরীতে ছুটি দিত ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম। কিন্তু অপর দুই শিশুকে তাড়াতাড়ি ছুটি দেওয়া হতো। এতে মেয়েটির মায়ের সন্দেহ হলে বিষয়টি নিয়ে স্বামীর সাথে আলোচনা করলে স্বামী তা বিশ্বাস করে না।

প্রতিদিনের মতো শনিবার (২০ জুন) মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামের কাছে কোরআন শিখতে যায় মেয়েটি। মেয়ে বাড়ীতে আসতে দেরী হওয়ায় মেয়ের মা এদিন বিকেল তিনটায় মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে মেয়ে ও ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পায়। মেয়েকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখে মেয়ের মায়ের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে আটক করে। 

আরও জানা গেছে, মেয়েটির মায়ের ডাক-চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত লোকজন মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে মারধর করে এবং মসজিদের ভিতরে তালাবদ্ধ রেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে হেফাজতে নেয় এবং মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়ের বক্তব্য শুনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ সার্ভিসে পাঠানোর পরামর্শ দেন এবং মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

শিশুটির মা বলেন, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে ময়মনসিংহ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এসএন

ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন
আহত এসিল্যান্ড সাকিব হাছান খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

ছুটিতে গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বেড়াতে এসে সশস্ত্র ডাকাত দলের হামলায় আহত হয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁনসহ অন্তত ছয়জন।

ডাকাত দলটি একটি বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট শেষে ফেরার পথে  এ হামলা চালায়।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনার এখনো কোন মামলা হয়নি। 

পুলিশ জানায়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন ছুটিতে নিজ বাড়ি উপজেলার  ধন্দী গ্রামের  অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সাকিব হাছান খাঁন মুকুল (৩৮), রাজিব (৩২), রুবেল (৩৬), ফারুক (৩২) ও ডালিয়া (৩৩)-কে গুরুতর আহত করে। আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।

পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার বর্ণনায় শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন খবরের কাগজকে বলেন, রাতে খাবার শেষে পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজন বাড়ির পাশের বাজারের দোকানে যাচ্ছিলাম। পথে সশস্ত্র ডাকাত দলের সদস্যরা প্রথম টচ লাইন জ্বালিয়ে আমাদের দেখে। মুহুর্তের মধ্যেই অতর্কিত হামলা চালায়। ডাকাতরা প্রায় ১৪ জনের একটি দল ছিলো। হামলার সময় স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে তাদের উপর হামলা শুরু করে। স্থানীয় আরো দুইজন লোক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশংকা জনক বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় মামলা হয়নি জানিয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিন্তু এখনো ডাকাতদের  শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ তদন্ত চলমান রেখেছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)আসাদুর রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয়দের তথ্য মতে ডাকাতেরা লুটের মালপত্রসহ যাওয়ার পথে সামনে যাকে সামনে পেয়েছে, তাকে কুপিয়ে পালিয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন গলায় ও বুকে আঘাত পেয়েছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আড়াইহাজারের বাড়ি ফিরেছেন। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।

এদিকে হামলার আগে পার্শ্ববর্তী রাইনাদী-আতাদী এলাকার সুমন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ডাকাত দলের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে বলে জানান স্থানীয়রা৷  দুটি ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। তবে স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাত চক্রকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

বিল্লাল হোসাইন/এসএন 

বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী
ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম এলাকা থেকে বম সম্প্রদায়ের অসুস্থ এক নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উদ্ধারের পর তাকে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।  

আইএসপিআর জানিয়েছে, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত রামকিল বম (৭৪) শনিবার (২০ জুন) আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে খবর পেয়ে মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনসেবার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করে। বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার বিকেলে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ওই নারীকে দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আইএসপিআর জানায়,  বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন এবং জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আলমগীর হোসেন/রিফাত/