ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মজুরি বাড়াতে দৌলতপুরে বিড়ি শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু রোগীর বেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, রামুতে তিন নারী আটক ৬ নবজাতকের প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা তোফায়েল আহমেদসহ ১৬ এমপির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব কিছু মানুষের কারণে কেন অপমানিত হবে ১৮ কোটি বাংলাদেশি? ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়ার রিটে যা নির্দেশ দিল হাইকোর্ট মনোযোগ বাড়াতে চাইলে কী খেতে হবে রাঙামাটিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পটুয়াখালীর পৌর পার্ক এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু এবি ব্যাংকের এআই-চালিত ডিজিটাল লোনসেবা ‘এবি ই- লোন’ এর উদ্বোধন বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জু মোল্লা গ্রেপ্তার কুড়িগ্রামে নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বাড়ি সবার সক্রিয় ভূমিকায় রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত হয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদ নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২০ জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সিলেট সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে কড়া সতর্কতা, সন্দেহভাজনদের তথ্য চাইল বিজিবি মায়ের মরদেহ দেখতে যাওয়ার পথেই মেয়ে নিহত চুয়াডাঙ্গায় বিজিবির অভিযানে মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন বদরগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার শার্শায় বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মবিরতিতে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎকরা মেয়েকে অশালীন কথা বলার প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল বাবার ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা সমুদ্রের তলদেশে বিচিত্র এক সুতোয় বাঁধা ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বান্দরবানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা বিতরণ দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয়
Nagad desktop

টাঙ্গাইলে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সবাই বসেন চটে

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৫, ০৯:৫০ এএম
টাঙ্গাইলে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সবাই বসেন চটে
টাঙ্গাইলে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বসে ইফতার করছেন রোজাদাররা। ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলে বিনামূল্যে সবার জন্য ইফতার কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘ত্রিবেণী টাঙ্গাইল’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। গরিব-অসহায়, ভিক্ষুক, পথচারী, গাড়িচালক, ট্রাফিক পুলিশ, টহল পুলিশসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার চার শতাধিক মানুষ প্রতিদিন এ ইফতারে অংশ নিচ্ছেন। শহরের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রথম রোজা থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে ‘ত্রিবেণী টাঙ্গাইলকে’ সহযোগিতা করছে বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি ব্যাচ ১৯৯২।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বিকেল ৪টা থেকে প্রায় ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী নারী-পুরুষ ইফতারি প্রস্তুত করছেন।  সারিবদ্ধভাবে প্লেটে ইফতার রাখার পাশাপাশি প্যাকেট করছেন। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ট্রাফিক পুলিশের জন্য ৩০টি ও টহল পুলিশের জন্য ৩৫টি প্যাকেট সেখান থেকে নেওয়া হয়। সাড়ে ৫টা বাজতেই দলে দলে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আসেন রোজাদাররা। তারা সারিবদ্ধভাবে পাটের তৈরি চটে বসে পড়েন। 

এরপর ডিম, খেজুর, মুড়ি, ছোলা, শরবত, জিলাপি, খিচুড়ি, মাংসসহ ৮-১০টি পদের ইফতার সবার সামনে দেওয়া হয়। ইফতারের কিছুক্ষণ আগে একজন হাফেজ দিয়ে দোয়া পরিচালনা করা হয়। দোয়া শেষে মাইকে সাইরেন বাজতেই সবাই একত্রে ইফতার করেন। দু-চারজন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষও অংশ নেন এই আয়োজনে। সবার উপস্থিতিতে সেখানে একটি উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করে। 

২০১৪ সাল থেকে পরিচালিত হওয়া কার্যক্রমটি টাঙ্গাইলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এরই মধ্যে সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সামর্থ্যহীন অসহায় মানুষসহ এখানে ইফতার করা রোজাদাররা ‘ত্রিবেণী টাঙ্গাইল’ সংগঠনের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এখানে প্রায় প্রতিদিন ইফতার করেন ইসমাঈল হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিনামূল্যের ইফতার কার্যক্রমটি অনেক ভালো লেগেছে। ৮-১০টি পদের ইফতার পেয়ে আমি খুব খুশি। এখানে বিভিন্ন পেশার মানুষ একত্রে ইফতার করেন। সংগঠনটির এমন মহতি কার্যক্রম আমার খুবই ভালো লেগেছে। এই মহতি কাজের জন্য আয়োজকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ 

মিনা বেগম নামে এক বৃদ্ধা বলেন, ‘আমি অসহায় মানুষ। রোজার শুরু থেকেই এখানে ইফতার করছি। বাড়িতে ভালো কিছু দিয়ে ইফতার করতে পারি না। এ আয়োজনটি আমাদের মতো অসহায়দের জন্য অনেক উপকারে আসছে।’

রাবেয়া বেগম নামে আরেক নারী বলেন, ‘আমরা অসহায় মানুষ। শুরু থেকেই এখানে ইফতার করতে আসি। আমি মন থেকে তাদের জন্য দোয়া করি।’

ত্রিবেণী টাঙ্গাইলের সদস্য বিভূতি কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘ত্রিবেণী টাঙ্গাইল ও বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯২ ব্যাচ সম্মিলিতভাবে এ ইফতার আয়োজন করে আসছে। আমাদের এখানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জন ইফতার করেন। পথচারী, গাড়িচালক, ভিক্ষুক, দোকানদারসহ প্রায় সব পেশার মানুষ আসেন। খুবই আনন্দের সঙ্গে তারা ইফতার করেন। আমাদের ইচ্ছে আছে, এ কার্যক্রমটি অব্যাহত রাখার।’
ত্রিবেণী টাঙ্গাইলের সভাপতি বাপ্পি খান বলেন, ‘আমাদের ইফতার আয়োজন ২০১৪ সাল থেকে চলে আসছে। অসহায়, গরিব ও গাড়িচালক ছাড়াও শহরে কেনাকাটা করতে আসা মানুষও ইফতার করতে আসেন। ডিম, কলা, ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, শরবত, জিলাপিসহ প্রায় ১০টি পদ দেওয়া হয়। মাঝেমধ্যে খিচুড়ি-মাংসও দেওয়া হয়। ট্রাফিক পুলিশ ও টহল পুলিশের ৬৫ সদস্যের ইফতার আমরা প্যাকেট করে দিই। এ ছাড়া বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯২ ব্যাচের ৬০ জন রয়েছেন। ১২০ জন মিলে ইফতার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমরা ১২০ জন মিলে অর্থ ব্যয় করি। এটি সবার জন্য একটি বার্তা। আমাদের মতো অন্যান্য জেলায় বিনামূল্যে ইফতার বিতরণের কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন।’

 

মজুরি বাড়াতে দৌলতপুরে বিড়ি শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
মজুরি বাড়াতে দৌলতপুরে বিড়ি শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
ছবি: সংগৃহীত

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন বিড়ি শ্রমিকরা। এ সময় তারা কুষ্টিয়া–প্রাগপুর মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

রবিবার (৭ জুন)  দুপুরে উপজেলার হোসেনাবাদ সেন্টারপাড়া এলাকায় স্থানীয় আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরি লিমিটেডের শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রতি হাজার বিড়ি তৈরিতে ৬১ টাকা হারে মজুরি পাচ্ছেন। বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা মজুরি ৮১ টাকা নির্ধারণের দাবি জানালেও ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ তাতে সম্মতি দেয়নি। এর প্রতিবাদে তারা কর্মবিরতি ভেঙে সড়ক অবরোধে নামেন।

শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম ও টিপু বলেন, সকাল থেকে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চললেও কোনো সমাধান না আসায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে সড়কে অবস্থান নেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ৬১ টাকার মজুরিতে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি।

অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। যাত্রী ও পথচারীদের অনেকেই প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন। দুপুরের তীব্র রোদে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, শ্রমিক ও ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষের মধ্যে মজুরি নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় তারা সড়কে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

তবে এ বিষয়ে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসএন/

রোগীর বেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, রামুতে তিন নারী আটক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
রোগীর বেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, রামুতে তিন নারী আটক
ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে রোগীর ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি তিন নারীর। কক্সবাজারের রামু উপজেলার মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে তাদের দেহে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি।

রবিবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন জোবায়দা (৪০), তইয়েবা (৪০) ও রাজিমা (৫০)। তারা উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ এর বাসিন্দা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

রামু ব্যাটালিয়নের (৩০ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুস সাকীব খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে বিজিবির টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়। এ সময় একটি সন্দেহজনক সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই গাড়ির তিন নারী যাত্রী নিজেদের অসুস্থ রোগী হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাদের কাছে কোনো অবৈধ মালামাল নেই বলে দাবি করেন। তাদের কারও গলায় ঝোলানো ছিল ব্যান্ডেজ, আবার কারও হাত ব্যান্ডেজে মোড়ানো ছিল। তবে আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা আরও বিস্তারিত তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তাদের শরীরের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তিন নারীকে আটক করা হয়।

মেজর মো. নাজমুস সাকীব খান আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


তারেকুর রহমান/এসএন

রাঙামাটিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
রাঙামাটিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি
ছবি: খবরের কাগজ

ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

রববার (৭ জুন) সকাল থেকে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে দুপুরে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন।

এ ছাড়া বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি আইন-২০২৫ পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর, ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিএমডিসি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবিও তাদের ছয় দফার অন্তর্ভুক্ত।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস কমিউনিটির সভাপতি শাফকাতুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইনের দাবি জানানো হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ইন্টার্নশিপ শেষ করে আমরা পোস্টগ্র্যাজুয়েশনের জন্য যে পরীক্ষা দিই, সেখানে প্রতিবারই ১১ হাজার টাকা করে নিবন্ধন ফি দিতে হয়, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।’

রিফাত/

পটুয়াখালীর পৌর পার্ক এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
পটুয়াখালীর পৌর পার্ক এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
পটুয়াখালীতে পার্কের ভেতর থেকে বাবুর্চি সায়েম বেপারীর মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ। ছবি: খবরের কাগজ

পটুয়াখালী শহরের পৌর পার্ক এলাকা থেকে মো. সায়েম বেপারী (২০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৭ জুন) সকালে পার্কের প্রধান গেটসংলগ্ন প্রশাসনিক ভবনের পেছনের একটি টিনের ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

সায়েম বেপারী পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামের মজিবর বেপারীর ছেলে। তিনি বাবুর্চির কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পার্কের প্রধান গেটের পাশে প্রশাসনিক ভবনের পেছনে থাকা ঘরটির ভেতরে কাঠের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় সায়েমের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হাসিবুর রহমান/আজহার/ 

কুড়িগ্রামে নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বাড়ি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
কুড়িগ্রামে নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বাড়ি
কালজানি নদীর তীব্রভাঙনে বাড়িঘর সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে মানুষজন/ছবি: খবরের কাগজ

বর্ষার আগেই কালজানী নদীর ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় গত এক সপ্তাহে শতাধিক বাড়ি বিলীন হয়েছে নদীতে।

দ্রুত ভাঙনরোধ করা না গেলে আরও শতশত বাড়িঘর, আবাদি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের।

উত্তর ধলডাঙ্গা এলাকায় প্রায় ১৪০০ মিটার জুড়ে ভাঙন চলছে। এ এলাকার প্রায় ৮০ টি পরিবার ভিটে হারিয়েছে। দক্ষিণ ঢলডাঙ্গার চিত্র একই রকম।  প্রায় ৩০টির বেশি বাড়ি নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে।

উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের ময়েন উদ্দিন বলেন, জায়গা জমি আর নাই। কেউ তো জায়গা দিতে চায়না। এখনও ঘর তুলতে পারি নাই।

গোলজার হোসেন জানান, আমাদের বাড়ি তিনবার ভাঙা হয়েছে। এবারও যেকোন মুহুর্তে বাড়ি নদীত পড়ে যেতে পারে। নতুন করে ঘর তোলার জায়গা না থাকায় ঘর দূরে নিতে পারছি না।

শনিবার (৬ জুন) ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজীর রহমান ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী বলেন, বর্ষার আগেই যেভাবে ভাঙছে, এলাকাটি থাকবেনা মনে হচ্ছে। গত এক বছরে এক হাজারের মতো পরিবার ভিটে হারিয়েছে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে বলেছিলেন। তদন্ত করে গেছেন। দ্রুত কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভাঙ্গন প্রতিরোধের দাবিতে শনিবার (৬ জুন) বিকেলে নদী পাড়ে শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ করে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। আর যেন নতুন করে কেউ ভাঙনের শিকার না হয় সে ব্যবস্থা করা হবে। ভাঙনরোধে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হবে। প্রাথমিকভাবে দুই হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রয়োজনে আরও বরাদ্দ দেয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ ঢলডাঙ্গায় জরুরী কাজ শুরু হয়েছে। অন্য ভাঙন কবলিত পয়েন্টগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরপর বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।

সিরাজ/আমান