ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ‘উমানাথপুর’ গ্রামের জনসংখ্যা ছিল মাত্র চারজন। পুরো গ্রামের মালিক ছিলেন একজন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে আজব এই গ্রাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। অবশেষে বাড়িটি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয়ে গেছে। গত বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়। কিন্তু চার মাস আগেই উমানাথপুর গ্রামের মালিক মো. সিরাজুল হক সরকার বাড়িটি বিক্রি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়িটি কিনেছেন পাশের উদয়রামপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মন্নাছ। তিনি ঢাকায় বড় ছেলে মোস্তফা কামালকে নিয়ে ফলের ব্যবসা করেন। রেজিস্ট্রিসহ তার খরচ পড়েছে ১৭ লাখ টাকা। সবকিছু সম্পন্ন হওয়ার পরদিন আবদুল মন্নাছ তার পরিবারের ৯ জন সদস্যকে নিয়ে বাড়িতে ওঠেন।
এ বিষয়ে বাড়িটির আগের মালিক সিরাজুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমার এত বড় বাড়ির প্রয়োজন নেই। এই গ্রামে আমার আরও একটি বাড়ি রয়েছে। সেখানেই স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছি।’
বাড়িটি কিনে নেওয়া আবদুল মন্নাছের ছেলে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বাড়িটি আমার বাবা ১৫ লাখ টাকায় কিনেছেন। রেজিস্ট্রিসহ খরচ পড়েছে ১৭ লাখ টাকা। যেদিন সবকিছু সম্পন্ন হয় তার পরদিনই তিন ভাই, মা ও বাবাকে নিয়ে ওই বাড়িতে উঠেছি। এখন এই বাড়িতে আমাদের সদস্য সংখ্যা ৯ জন। বাড়িটি কেনায় তারা সবাই খুশি। কারণ এটা শুধু বাড়িই নয়, পুরো একটা গ্রামের পরিচয়।’
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি বাড়ি নিয়ে পুরো একটি গ্রামের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
বাড়িটির আগের মালিক সিরাজুল হক সরকার স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক হিসেবে কাজ করেন। ইউনিয়ন পরিষদসহ সব স্থানে কাগজে-কলমে এ বাড়িকে ঘিরেই লেখা হয় একটি গ্রামের পরিচয়। উপজেলার উত্তর দিকে গ্রামটির অবস্থান। এই গ্রামের পশ্চিমে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ। উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রামটির কাগজপত্রে মৌজার নাম উমানাথপুর। গ্রামটির উত্তরে রামগোবিন্দপুর, দক্ষিণে হরিপুর, পূর্বে উদয়রামপুর এবং পশ্চিমে রামগোবিন্দপুর ও হরিপুর গ্রাম। মো. সিরাজ সরকারের নামে ২৫ শতক জমির ওপর বাড়িটি অবস্থিত।
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এ জমিতে সিরাজুল সরকার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। যেখানে রয়েছে দুটি বসতঘর, একটি গোয়ালঘর, একটি ছোট পুকুর, একটি টয়লেট ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। অন্যের জমির আলপথ দিয়ে এই বাড়িতে প্রবেশ করতে হয়।