ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেধা পাচার: উন্নয়নের আড়ালে নীরব বিপর্যয় রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন নয়্যার কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা মধুখালীতে দুইদিনে দুই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর কমল দাদার পাঠশালা এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬ মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা বৃষ্টি মনোমুগ্ধকর খুনি প্রথম কবি দেখা ও কয়েক টুকরো স্মৃতি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪ ‘দোষ সব আমার, খেলোয়াড়দের ওপর থেকে নজর সরান’: প্যারাগুয়ে কোচ শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড মিথ্যার চোরাস্রোত বয়ে যায় আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত, শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রী অনুবাদ হয় না মানুষের স্মৃতির ভেতর অন্ধকারের গান প্রেমের এলিজি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত দুবাইগামী যাত্রীর লাগেজ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ রেকর্ড থেকে ৫ কদম দূরে দিবু মার্তিনেস সমাজবোধ ও জীবনবীক্ষা জুহান্নুস: ফিনল্যান্ডের সেই অনন্য উৎসব, যখন পুরো দেশ চলে যায় প্রকৃতির কোলে জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী হাইতি ম্যাচে পরিবর্তনের আভাস আনচেলত্তির

মাদারীপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ইউপি সদস্যের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ১০:১২ এএম
আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম
মাদারীপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ইউপি সদস্যের মৃত্যু
আহত আশরাফুল আলম। ছবি: খবরের কাগজ

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ইউপি সদস্য বোরহান মোল্লা মারা গেছেন। 

সোমবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

বোরহান মোল্লা মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং সদর উপজেলার চরব্রাহ্মণদী এলাকার মান্নান মোল্লার ছেলে।

স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তারের জেরে চরব্রাহ্মণদী এলাকার শিমুল সরদারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল বোরহান মোল্লার। ব্যক্তিগত কাজ শেষে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ইজিবাইকে করে শহরের পুরান বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পরে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় গেলে বোরহানের ওপর হামলা চালায় শিমুল সরদার ও তার লোকেরা। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠে। বোরহানের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত বোরহানকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে সোমবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকছেদুর রহমান বলেন, ‘বোরহান মোল্লার নিহতের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।’

রফিকুল/পপি/

চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি
শফিউল আজম। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ির ধাক্কায় শফিউল আজম নামের এক বাক প্রতিবন্ধী যুবক ( ৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে চকরিয়া মালুমঘাট থানার আওতাধীন ডুলহাজরা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন হাইওয়ে সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে ডুলহাজরা ডিগ্রি কলেজ থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার উত্তরে হাইওয়ে সড়কের পাশে ওই যুবককে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পুলিশ । ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতগতির কোনো অজ্ঞাত গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

বর্তমানে ওই যুবক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তার নাম শফিউল আজম বলে জানা গেলেও বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বিস্তারিত পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করতে পারেনি হাইওয়ে পুলিশ।

মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, আহত যুবকের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে পিবিআইকে অবহিত করা হয়েছে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো  ব্যক্তি ছবিতে থাকা  যুবকের পরিচয় জেনে থাকেন, তবে অবিলম্বে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা অথবা কক্সবাজার সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি।

রকিবুল হাসান/অন্তরা 

কমল দাদার পাঠশালা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
কমল দাদার পাঠশালা
নিজ বাড়ির উঠানে পিছিয়ে পড়া শিশুদের পড়াচ্ছেন আনসার সদস্য কমল চন্দ্র রায়। ছবি: খবরের কাগজ

নেই কোনো পাকা ভবন বা শ্রেণিকক্ষ। নিজ বাড়ির উঠানে চটের বস্তা বিছিয়ে চলে পাঠদান। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শিশুদের বিনামূল্যে পড়ান আনসার সদস্য কমল চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী লতা রানী রায়।

কমল চন্দ্র রায় দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের আনসার কমান্ডার। সামান্য বেতনের চাকরিতে অভাব-অনটনের সংসার তার। স্ত্রী লতা রানী রায় এইচএসসি পাস। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তাদের ছোট্ট পরিবার। নিজেদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ না পেলেও গ্রামের পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেন এই দম্পতি। সেই স্বপ্ন থেকেই ২০২৩ সালে নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেন ‘কমল দাদার পাঠশালা’। 

বর্তমানে পাঠশালাটিতে বেবি শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছে। শুধু পাঠদানই নয়, প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শিশুদের জন্য বিস্কুট, চানাচুরসহ ছোটখাটো নাশতার ব্যবস্থাও করেন কমল।

কমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের এলাকার অধিকাংশ আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের মানুষ খুবই দরিদ্র। তারা সারা দিন মাঠে-ঘাটে কাজ করেন। শিশুদের দেখভাল করার সময় পান না। অনেক শিশু স্কুলের পড়া ঠিকমতো করতে পারে না। তাই তাদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই এই পাঠশালা শুরু করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অর্থ চাই না। এই শিশুরা শিক্ষিত হোক, সমাজের ভালো মানুষ হোক, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

লতা রানী বলেন, স্বামীর এই মহৎ উদ্যোগে সহযোগিতা করছি। অনেক সময় তিনি আনসারের দায়িত্বে বাইরে থাকেন। তখন আমি নিজেই শিশুদের পড়াই। কেউ দেরি করে বাড়ি ফিরতে না পারলে তাদের অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দিই। শিশুরা পড়াশোনা করছে, ভালো মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে–এটাই আমাদের আনন্দ।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী দীপা বেসরা বলে, তিন বছর ধরে এখানে পড়ছি। এখন স্কুলের পড়া অনেক ভালো বুঝি। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে কমল দাদা আর লতা দিদি শিখিয়ে দেন। আমাদের কোনো টাকা দিতে হয় না। আরেক শিক্ষার্থী সুনীল মুরমু বলে, আগের চেয়ে অনেক ভালো পড়তে পারি।
অভিভাবক সুমিদ্র মুর্মু বলেন, ‘আমরা সারা দিন কৃষি কাজ করি। সন্তানদের দেখার সময় পাই না। কমল দাদা নিজের সন্তানের মতো তাদের পড়াশোনা করান। রাত হলেও নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।’

অভিভাবক শ্যামল মাড্ডি বলেন, ‘আমার দুই সন্তান এখানে পড়ে। তাদের বই-খাতা কিনতেই কষ্ট হয়। সেখানে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। এমন মানুষ সমাজে খুব কম আছে।’

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সমাজে অনেক সামর্থ্যবান মানুষ থাকলেও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের নিয়ে এভাবে ভাবেন না। অথচ একজন আনসার সদস্য নিজের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে শিশুদের পড়াচ্ছেন। কমল চন্দ্র রায়ের এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের মানুষদের সহযোগিতা করা গেলে পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে মূলধারার সঙ্গে আরও দ্রুত সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে উৎসাহিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

দিনাজপুর সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন বলেন, অভাব-অনটনের মধ্যেও কমল ও লতা দম্পতি প্রমাণ করেছেন–মানুষ চাইলে নিজের সামর্থ্যের মধ্যেই সমাজ বদলের বীজ বপন করতে পারে। আর সেই বীজ থেকেই হয়তো একদিন জন্ম নেবে শিক্ষিত, আলোকিত ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একটি নতুন প্রজন্ম।

এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে পিএ আরমান উদ্দিন এবং যুবদল কর্মী তারিকুল হক (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব, এরপর এমপি থেকে বলতে হবে, তিনি এখানে কেন আসছেন? এখানকার এমপি হচ্ছেন আরমান সাহেব। এখানে এমপি কী জন্য আসবেন? এ কথা বলে ফোনের একপ্রান্ত থেকে মন্তব্য করেন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা যুবদল কর্মী তারিকুল হক।

অপরপ্রান্ত থেকে জবাবে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. আরমান উদ্দিন বলেন, এমপিকে তো লোহাগাড়ায় না আসতে বলি, তারপরেও লোকজনের জ্বালায় আসে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাল হওয়া পুরো অডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, লোহাগাড়া উপজেলার পানত্রিশা, পুরানো বিওসি রাজঘাটা ও পুটিবিলা এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে তাদের দু'জনের মধ্যে এসব কথোপকথন হয়েছে।

এদিকে, যুবদল কর্মী তারিকুল হক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। অপরদিকে, এমপির পিএ মো. আরমান উদ্দিনের সঙ্গেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের গোপন সখ্যতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

জানা গেছে, সম্প্রতি স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশা এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় জড়িতরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। পরে পুলিশ সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি শ্যালো মেশিন বিকল করে দেন। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দকে অবগত করেন। এর পরপরই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন অভিযান চালিয়ে বালুগুলো জব্দ করেন।

আরও জানা গেছে, উপজেলার পুরোনো বিওসি রাজঘাটা এলাকার টংকাবতী খালের পাড় কেটে দেদারসে বালু বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় মো. হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাধা দিলে তাকেও মারধরের চেষ্টা করা হয়।

প্রশাসনের তৎপরতায় বর্তমানে সেখান থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। মূলত তারিকুলসহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি রাতের আঁধারে এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে বালুগুলো লুট করে অন্যত্র বিক্রি করে দেন।

জানা গেছে, বিগত কয়েক মাস আগে পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে সরই খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী অভিযান চালিয়ে শ্যালো মেশিন বিকলের পাশাপাশি ডাম্প ট্রাক জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইনে প্যানেল চেয়ারম্যান ইকবালসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন বালুগুলো জব্দ করেন এবং নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করেন।

স্থানীয় একটি সূত্র খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ছড়া ও খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে বেশ কয়েকটি বালুখেকো সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে। তারমধ্যে তারিকুল, হিরু, আদিল, আরমান, ইকবাল, নাজিম, আরিফ, হোসেন এবং তৌহিদসহ আরও একাধিক ব্যক্তি এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। তাদের মধ্যে কেউ সরাসরি বালু উত্তোলন, কেউ বিক্রি আবার কেউ এক্ষেত্রে তদবির বাণিজ্য করে থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে যুবদল কর্মী তারিকুল হকের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে এমপির পিএ মো. আরমান উদ্দিনের ফোনে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, স্থানীয় জনসাধারণ ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে পানত্রিশা নামক জায়গায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি শ্যালো মেশিন বিকল করা হয়েছে। পরবর্তীতে ইউএনও'কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন বালুগুলো জব্দ করেন। এ ছাড়াও বিগত কয়েকমাস আগে পুটিবিলা সরই খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলাও করা হয়।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশা এলাকায় অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালুগুলো জব্দের বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে এক ব্যক্তি রিসিভ করে তিনি (শাহজাহান চৌধুরী এমপি) ব্যস্ত আছেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের (২৫ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর ইস্পাহানি মোড়ের একটি রেস্টুরেন্টে মো. আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায় ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজত খাটানোর অভিযোগ তুলে খোরশেদ আলম নামে এক ব্যবসায়ী সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় বর্তমান সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর পাশে আরমানকে তেমন একটা দেখা যায়নি। বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থেকে আরমান পুনরায় শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা
সীমান্ত রক্ষায় কঠোর অবস্থানে বিজিবি। ছবি: খবরের কাগজ

মেহেরপুর সদর উপজেলার খালপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৪ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে চারজন ব্যক্তিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। এ সময় তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। ফলে পুশইন ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা সীমান্ত এলাকা থেকে সরে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, পুশইনের চেষ্টা করা চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন। তবে তাদের পরিচয়, জাতীয়তা কিংবা কী কারণে তাদের সীমান্তে আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরে সীমান্ত এলাকায় অস্বাভাবিক নড়াচড়া লক্ষ্য করার পর বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করা হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুশইনের আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিজিবি ৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান জানান, শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে বৃষ্টির আগে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ফিরে যায়।

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, 'সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।'

সীমান্তে পুশইনের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।

তারেক হোসেন/থিও

আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত, শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১১ পিএম
আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত, শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

আর্থিক সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চয়তার মুখে বান্দরবানের এক মেধাবী পাহাড়ি শিক্ষার্থী। যার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। 

জানা গেছে, মেধার ভিত্তিতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন ওই শিক্ষার্থী। ভর্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে থাকায় তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন। পরে শিক্ষার্থীর সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়ে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পথ সহজ হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও তার পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগকে তারা প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, সহায়তা পেয়ে শিক্ষার্থী ও তার পরিবার প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।

রিজভী রাহাত/অন্তরা