চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। পাশাপাশি হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ইস্যুতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার এ নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি এ নির্দেশনা দেন। তবে বিষয়টি মঙ্গলবার (৯ জুন) জানাজানি হয়েছে।
চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী বলেন, নগর পুলিশের উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারকে (এডিসি) ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত শেষে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
সিএমএমের আদেশে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের বাইরে থেকে আসা বৈধ অ্যাম্বুলেন্স কিংবা স্বজনদের নিজস্ব গাড়ি দিয়ে রোগী বা লাশ পরিবহনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ কাজে জড়িত ব্যক্তিরা গাড়িচালকদের হুমকি, মারধর ও হেনস্তাও করছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির চাঁদাবাজি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বেআইনি বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন ধারায় এবং সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী মামলা করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
পাশাপাশি চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা নিজেদের পছন্দমতো অ্যাম্বুলেন্স, ফ্রিজিং ভ্যান বা অন্য কোনো যানবাহন ব্যবহার করে পরিবহনসেবা নিতে পারেন। কোনো বৈধ গাড়ির প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে একইদিন পৃথক আরেকটি আদেশে চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, লাশ নিয়েও ব্যবসা, সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকাতে ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছেন একই ম্যাজিস্ট্রেট।
চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রকাশিত সংবাদ ও ভিডিওচিত্রে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গকেন্দ্রিক একটি চক্রের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা এবং অবৈধভাবে সাইরেন ও নীল বাতি ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি ও সড়ক পরিবহন আইনের বিভিন্ন ধারায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে পর্যবেক্ষণ দেন আদালত। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সিন্ডিকেটের মূল হোতা, চাঁদাবাজ, হামলাকারী ও ভুয়া অ্যাম্বুলেন্সের মালিকদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করতে হবে। হাসপাতাল চত্বরে বাইরের কোনো বৈধ অ্যাম্বুলেন্স বা স্বজনদের নিজস্ব গাড়ি প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে না।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, মর্গ, বহির্বিভাগ ও অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ গ্রহণে অভিযোগ কেন্দ্র বা হেল্পলাইন চালুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকায় স্থায়ী পুলিশি নিরাপত্তা চৌকি স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য বলা হয়েছে।
এসএন/