বরিশাল নগরীর কোথাও অনুমতি মিলছে না বর্ষবরণ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে বৈশাখীর মেলার। বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে নগরীতে কোথাও বৈশাখী মেলা আয়োজনের অনুমতি দিচ্ছে না প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ফলে বরিশালে উদীচী ৪৩তমসহ ‘চাঁদের হাট’ ও শব্দাবলি গ্রুপ থিয়েটারের বৈশাখী মেলা হচ্ছে না। অন্যদিকে সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলার কথা বিবেচনায় চারুকলাও তাদের মঙ্গল শোভাযাত্রার আকার সীমিত করেছে। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ‘খেলাঘর আসর’ বরিশাল জেলা কমিটির আয়োজনের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান নিয়ে। তবে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলার অনুমতি না দিলেও যেকোনো শোভাযাত্রা সফল করতে পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার।
উদীচীর বরিশাল শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ দাশমুন্সি বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এ বছরও উদীচী ও বরিশাল নাটকের যৌথ উদ্যোগে নতুন বছরকে বরণ করার সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এ জন্য আমরা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বরাবর বৈশাখী মেলার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি। এখন পর্যন্ত অনুমতি পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের অনুমতিক্রমে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হবে। কোনো পক্ষ কিংবা গোষ্ঠীর বাধা না এলে ব্রজমোহন বিদ্যালয় মাঠে সকালে প্রভাতি অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৩৮৯ সাল থেকে বরিশাল নগরীর কালীবাড়ি রোডের ব্রজমোহন বিদ্যালয় মাঠে বর্ষবরণ উপলক্ষে প্রভাতি অনুষ্ঠান ও তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ এক দিনের জন্য বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহারের মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন।’ এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বৈশাখী আয়োজন নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে বরাবরের মতো এ বছরেও চারুকলা বরিশালের আয়োজনে থাকছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মঙ্গল শোভাযাত্রার আঙ্গিক সীমিত করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী তারা তাদের প্রস্তুতি নিয়েছে।
চারুকলা বরিশালে সভাপতি অধ্যাপক দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, ‘৩৪ বছর ধরে বৃহত্তর আঙ্গিকে বরিশালে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করে আসছে চারুকলা। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে শুধু ঐতিহ্য ধরে রাখতে সীমিত আকারে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হবে।’
এদিকে ‘খেলাঘর আসর’ বরিশাল জেলা শাখার আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই দিন একই সময়ে অশ্বিনী কুমার হলে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তারা।
জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তৌসিক আহমেদ রাহাত বলেন, ‘বর্ষবরণ উপলক্ষে প্রতিবছর সকাল ৭টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল প্রাঙ্গণে খেলাঘর আসরের আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করে আসছে। পহেলা বৈশাখ সকালে ভাইবোনদের রাখি পরানো, লোকজ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোচনা সভার অনুষ্ঠানে কথা রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ওই দিন সিটি করপোরেশন আয়োজনে অশ্বিনী কুমার হলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করবে। এ অবস্থায় খেলাঘরের আয়োজন নিয়ে একটা আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।’
তবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা এবং সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ নিয়ে গত সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতি সভা করেছে তারা। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পহেলা বৈশাখ সকাল ৯টায় সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করা হবে এবং বেলস্ পার্কে (সাবেক বঙ্গবন্ধু উদ্যান) সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এ বছর বাংলা নববর্ষে নগরীতে কোনো মেলার আয়োজন করতে দেওয়া হবে না। তবে যেকোনো শোভাযাত্রা সফলের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহায়তা করা হবে।’