মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রথমবারের মতো মৌরি মসলার আবাদ হয়েছে। ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ইস্তা গ্রামে এই আবাদ করেছেন কৃষক আনিসুর রহমান। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তিনি এই আবাদ করেছেন। তিনি নিজের ১০ শতক জমিতে মৌরির আবাদ করেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ওই জমিতে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সাইনবোর্ডে উল্লেখ আছে—ফসলের নাম মৌরি, জাত বারী-১, কৃষকের নাম আনিসুর রহমান, প্রদর্শনীর তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০২৪, জমির পরিমাণ ১০ শতক, গ্রাম ইস্তা।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে মসলার চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর অনেক টাকা আমদানিতে ব্যয় হয়। এই ব্যয় কমাতে কৃষি মন্ত্রণালয় মসলার উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় সব ধরনের মসলা উৎপন্ন হচ্ছে। তবে তা যথেষ্ট নয়। তাই মাঠপর্যায়ে মসলার আবাদ শুরু হয়েছে। ঈশ্বরদীতে ইতোমধ্যে কালোজিরা, ধনিয়া, তেজপাতার চাষ শুরু হয়েছে। তবে মৌরির আবাদ এই প্রথম শুরু হয়েছে। কৃষক আনিসুর রহমানই ইস্তা গ্রামে এই আবাদ করেন।
তিনি বলেন, ‘কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথমবার মৌরি আবাদ করেছি। বারী-১ জাতের বীজ সরবরাহ করা হলে ডিসেম্বরের শুরুতে তা রোপণ করি। ফলন ভালো হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ১০ শতক জমিতে শ্রমিক ও পানির খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। ফসল ওঠার পর লাভের হিসাব বোঝা যাবে। তবে তিনি আশাবাদী।
প্রদর্শনীর দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার রায় বলেন, ‘কৃষককে বীজ ও সার প্রকল্প থেকে দেওয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই প্রদর্শনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ফলন ভালো হবে। প্রতি বিঘায় ৪ থেকে পাঁচ মণ ফলন পাওয়া যেতে পারে।’
তিনি জানান, বাজারে মৌরির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষক লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, ‘মসলার ঘাটতি কমাতে কৃষি বিভাগ মসলার আবাদে গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, প্রতি বছর মসলার আমদানিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়।’
তিনি আরও জানান, ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারী-১ জাত উদ্ভাবন করেছে। সেই জাতের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। ইস্তা গ্রামের কৃষক তা আবাদ করেছেন। সহযোগিতা করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার রায়।’
তিনি বলেন, ‘ফলন আশানুরূপ হয়েছে। কৃষক লাভবান হবেন বলে আমরা আশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে উপজেলায় মৌরির আবাদ বাড়ানো হবে।’