চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদী থেকে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তারই চার সহপাঠীকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকালে নগরীর চান্দগাঁও থানার হামিদচর এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম রাহাত খান (১২)। সে চান্দগাঁও থানার পূর্ব ফরিদেরপাড়া এলাকার লিয়াকত আলীর ছেলে।
জানা গেছে, রাহাত চান্দগাঁও সানোয়ারা বালক উচ্চবিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়ন জুনিয়র ক্রিকেট দলের সদস্য। মঙ্গলবার সকালে স্কুলে যায় রাহাত। সেদিন স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। বুধবার সকালে হামিদচর এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার স্টেশনে জানান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে নদী থেকে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্কুলছাত্র রাহাতের চাচা মো. রুবেল বলেন, ‘এক মাস আগে বন্ধুদের সঙ্গে একটি ছোটখাটো ঝগড়ার পর তার মা গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। ভাবা হয়েছিল, ঘটনা সেখানেই শেষ। কিন্তু বাস্তবতা নির্মম। ১৩-১৪ জন স্কুলের বন্ধু মঙ্গলবার স্কুল ছুটি শেষে রাহাতকে বেড়ানোর কথা বলে হামিদচরে নিয়ে যায়। সেখানে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়। রাতভর খোঁজার পর সকালে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়।’
নিহতের বাবা লিয়াকত আলী বলেন, ‘ওয়াহিদসহ কয়েকজন আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি তাদের কঠিন বিচার চাই।’
চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ বলেন, ‘ছেলেটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন বা অস্বাভাবিক কিছু দেখা যায়নি। মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানা যাবে। ছেলেটি কাদের সঙ্গে স্কুল থেকে বেরিয়েছিল, কোথায় গিয়েছিল, সবকিছু তদন্ত করা হচ্ছে।’
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতের চার সহপাঠীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে।’