প্রায় ছয় মাস হলো বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ১৮২ নম্বর বারইখালী সুতালড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। তবে কাজের ধীরগতির কারণে এখন পর্যন্ত নতুন ভবন দৃশ্যমান হয়নি। অথচ গত বছরের আগস্টে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। ঠিকসময় কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়রা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করছেন। তবে মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী বলছেন, ঠিকাদারের গাফিলতি নয়, নির্মাণসামগ্রী আনা-নেওয়ায় সমস্যার কারণে কাজ দেরিতে শুরু হয়েছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, চাহিদাভিত্তিক নতুন জাতীয়করণ করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) আওতায় এ স্কুলের ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এ বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণের কাজ পায় খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চান এন্টারপ্রাইজ।
ভবন নির্মাণকাজ শুরুর কথা ২০২৩ সালের আগস্টে। আর শেষ করার কথা ২০২৪ সালের আগস্টে। কিন্তু কাজের অনুমতির পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চান এন্টারপ্রাইজ ৮ মাস কাজ বন্ধ করে রেখেছিল। গত বছরের শেষের দিকে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো কাজ না করে সময় বাড়ানোর আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।
সম্প্রতি বারইখালী ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ১৮২ নম্বর বারইখালী সুতালড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়েই টিনের চালের জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে ক্লাস ও অফিস করছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলে, ‘ভবনের নির্মাণের বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী এদিক সেদিক ফেলে রাখা হয়। এতে আমাদের অনেক সহপাঠী বিভিন্ন সময়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। সে জন্য তারা স্কুলে আসতে চায় না। একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের ক্লাসে হাঁটু পর্যন্ত পানি হয়ে যায়। এতে ক্লাস করা যায় না। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের স্কুলের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনর রশীদ বলেন, ‘একবছর আগে ভবন নির্মাণ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। সে জন্য এখনো ঝুঁকি নিয়ে টিনের চালের জরাজীর্ণ কক্ষে পাঠদান করাচ্ছি, অফিস করছি। একটু বৃষ্টি হলেই প্রতিটি ক্লাস পানিতে ভরে যায়। শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনেক ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা না গেলে বর্ষা মৌসুমে আরও দুর্ভোগে পড়তে হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা সোবাহান বলেন, ‘এই স্কুলের সঙ্গে অনেক স্কুলের কাজ শুরু হয়। সেগুলোর কাজ শেষ হয়ে গেছে। আমাদের এই স্কুলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এই ঠিকাদার ইচ্ছামতো কাজ করেন। যখন মনে চায় তখন এসে কাজ করেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে স্কুল এলাকায় নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় আমাদের ছেলেমেয়েরা দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে।’
মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের স্টিল ব্রিজ এলাকায় একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সে কারণে শুরুর দিকে স্কুলের ভবন নির্মাণের মালামাল আনা নেওয়া করা যায়নি। সে জন্য নির্মাণ প্রায় একবছর পিছিয়ে গেছে। কাজ করতে অনেক সমস্যা হয়েছে। তবে এ সমস্যা এখন আর নেই বললেই চলে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চান এন্টারপ্রাইজকে আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।