সিলেটের কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আফসার উদ্দিন আহমদকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দকারী কানাইঘাট উপজেলা বিএনপি সভাপতি মামুন রশিদকে শোকজ করা হয়েছে। রবিবার (১১ মে) রাতে তাকে শোকজ করে সিলেট জেলা বিএনপি।
শোকজ নোটিশে বলা হয়, ‘কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে আপনার দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকেও সম্প্রতি আপনি এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, যা সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি দলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং তা দলীয় আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নীতিমালার পরিপন্থী। আপনার এ ধরনের অবস্থানকে সংগঠনের বিরুদ্ধে কার্যত বিরুদ্ধাচরণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কেন আপনার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে (সর্বশেষ ১৯ মে ২০২৫) লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হলো।’
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে এবং এই জবাবের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গঠনতন্ত্র অনুসারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে বলা হয়।
এর আগে রবিবার (১১ মে) দুপুরে কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের চটিগ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে যেতে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় এলাকার মসজিদে গেলে কিছু বিক্ষুব্ধ মানুষ তাকে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশিদের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বসে বেশ কিছু সময় কথাবার্তা হয়। এসময় সেখানে এলাকার লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগ নেতাকে রাস্তায় মারধরের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তখন ঘটনার পেছনে বিএনপি নেতা মামুন রশিদ জড়িত বলে জানা যায়। এরপরপরই কানাইঘাট উপজেলা বিএনপি সভাপতি মামুন রশিদকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।
শাকিলা ববি/মাহফুজ