পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮ কর্মকর্তা কর্মচারীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরা রূপপুর প্রকল্পের কর্মরত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) কর্মকর্তা-কর্মচারী।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. জাহেদুল হাছান স্বাক্ষরিত ই-মেইলে বরখাস্তের অফিস আদেশ পাঠানো হয়।
বুধবার (১৪ মে) তা কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যেককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ৮ মে এনপিসিবিএল- এর ১৮ জন কর্মকর্তা কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
৮ বরখাস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন-কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক ইকতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিপ্লব ও শামীম আহমেদ, ঊর্ধ্বতন সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মনির, সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হোসেনুজ্জামান খাঁন, সরকারি ব্যবস্থাপক মো. গোলাম আজম, টেকনিশিয়ান রিয়াজউদ্দিন ও মো. ইসমাইল হোসেন।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বুধবার বিকেলে রূপপুর প্রকল্পের সাইট অফিস ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, রূপপুরের ৮ কর্মকর্তা কর্মচারীকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাকরিবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সাময়িক বরখাস্তের পর গ্রিনসিটি কার্যালয়ে সিকিউরিটি এন্ড ফিজিক্যাল প্রটেকশন সার্ভিসেস বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ই-মেইল পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, এনপিসিবিএল-এ শৃঙ্খলাবিরোধী বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন বা কর্তব্য অবহেলা করেছেন বা অসদাচরণ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে বিধায় আপনার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। তার কারণ ও ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগ চান কিনা তা ১০-কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ প্রদান করা হলো। পাশাপাশি সার্ভিস রেগুলেশন ২০২৫ প্রবিধান ৪৪.১ অনুযায়ী আপনাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে ঈশ্বরদীর রূপপুরে কোম্পানির প্রায় ১ হাজার ৮০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ২৮ এপ্রিল আন্দোলন শুরু করেন। ৬ মে তারা ঈশ্বরদী শহরে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন। পরদিন ৭ মে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে কোম্পানির অফিসে তারা অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেন। এতে এনপিসিবিএল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি ও কোম্পানির আইন মেনে চলার চিঠি দেয়। না মানায় পরদিন ৮ মে কোম্পানির ১৮ জনকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। এভাবে একই ঘটনার দায়ে বুধবার থেকে ৮ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর হোসেন/মাহফুজ