সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পায়রাডাঙ্গা এলাকায় এক ঘের কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে তার পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণসহ নগদ টাকা ও গহনা লুটের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৬ মে) রাত দুইটার দিকে পায়রাডাঙ্গা এলাকার জনৈক রবিউল ইসলামের মাছের ও সোনালী মুরগির সমন্বিত ঘেরের বাসা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের পাঁচ মাসের অন্তঃস্বতা ওই গৃহবধু জানান, তিনি একজন ধর্মান্তরিত নারী। বাপের বাড়ি পাশ্ববর্তী জৈলতলা গ্রামে। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে তিনি সাতক্ষীরার পায়রাডাঙা গ্রামের একটি মাছের ও সোনালী মুরগির সমন্বিত ঘেরে বাসা বানিয়ে কর্মচারি হিসেবে দুজনে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে প্রায় সাত বছর যাবৎ বসবাস করে আসছেন। তার স্বামী ওই মাছের ঘেরের পাহারাদার। স্থানীয় কয়েকজন তাদেরকে বিনা টাকায় মুরগি দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে চাপ সৃষ্টি করতেন। শুক্রবার রাতে তিনি ও তার স্বামী বাসায় শুয়ে ছিলেন। পরে রাত ২টার দিকে চারজন লোক হাতে রাম দা নিয়ে তাদের ঘরে ঢোকে। এ সময় তার স্বামীর হাত, পা ও মুখ বেঁধে ফেলে তারা বাক্সে রাখা তাদের বেতনের ৩৭ হাজার টাকা, ১১ আনা ওজনের এক জোড়া কানের সোনার দুল, ১০ আনা ওজনের একটি সোনার আংটি ও খামারে ব্যবহৃত দুটি দা লুট করেন।
পরে তারা তাকে রান্না ঘরের দরজা খুলতে বাধ্য করে সেখানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। 'এদের মধ্যে তিনি পায়রাডাঙা গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম, রুহুল আমিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন ও লুৎফর রহমানের ছেলে আশরাফুল ইসলামকে চিনতে পেরেছেন। চলে যাওয়ার আগে বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে যান ওই চারজন।'
সাতক্ষীরা সদরের কাশেমপুরের রবিউল ইসলাম জানান, ঘেরের পাহারাদার ও এলাকাবাসীর মাধ্যমে ফোনে খবর পেয়ে তিনি পাহারাদারের স্ত্রীকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর চৌধুরী, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিনুল হক, পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মো. শাহীনুর চৌধুরী জানান, মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনান্থল পরিদর্শন করেছেন। ধর্ষণের কথা ওই নারী ও তার স্বামী তাদেরকে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাজমুল/মেহেদী/