নড়াইলের কালিয়ায় কাঞ্চনপুর গ্রামে সংঘর্ষ-পরবর্তী সহিংসতায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্য গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ৩০টি পরিবার। হামলার ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না শিশুরা। তবে অন্য পক্ষের দাবি এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের তরিকুল ইসলামের স্ত্রী লিজা খানম বলেন, ‘বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দিয়েছে। ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র হলেও ভয়ে স্কুলে পাঠাতে পারছি না।’
এমন পরিস্থিতির শিকার শুধু লিজা খানমই নন। গ্রামের অনেক নারী জানান, পুরুষরা না থাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে যাচ্ছে। হামলার ভয়েই তারা এলাকা ছেড়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল কাঞ্চনপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মিলন মোল্যার পক্ষের সঙ্গে পিকুল শেখ ও আফতাব মোল্যার পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পিকুল শেখের পক্ষের ফরিদ মোল্যা নিহত হন। এ ঘটনায় মিলনদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়। ওই রাতেই আসামি পক্ষের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাল্টা আফতাব মোল্যার পক্ষের লোকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকতেই গত ২৯ এপ্রিল আফতাব পক্ষের একজনের বাড়ির পাশ থেকে ফরিদ হত্যা মামলার ১৮ নম্বর আসামি রফিকুল ইসলামের লাশ উদ্ধার হয়। তার মা আফতাব পক্ষের বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় আফতাব পক্ষের লোকজনের ঘরবাড়িতে হামলা শুরু হয়। লিজা খানমসহ অনেকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়।
আফতাব পক্ষের অভিযোগ, মিলন পক্ষ মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে। রফিকুলের লাশ উদ্ধারের পর দুবার হামলা হয়েছে। পানি খাওয়ার টিউবওয়েল, মোটর, এমনকি পুকুরের মাছ পর্যন্ত লুট করে নেওয়া হয়েছে। এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
আফতাব পক্ষের রাশেদা বেগম বলেন, ‘আমার বাড়িতে দুই দফা ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। ঘরের কোনো জিনিস নেই। টিউবওয়েল খুলে নিয়ে গেছে।’ অপর ভুক্তভোগী রেবেকা বেগম বলেন, ‘প্রতিপক্ষ অস্ত্র ঠেকিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। বাড়ির মালামাল, এমনকি পুকুরের মাছও নিয়ে গেছে।’
অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিলন মোল্যার পক্ষের হুমায়ুন মোল্যা বলেন, ‘ফরিদ মারা যাওয়ার পর আফতাবদের লোকজন আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছিল, আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। রফিকুলের লাশ উদ্ধারের পর আফতাব পক্ষের লোকজন নিজেরাই বাড়ি থেকে মালামাল সরিয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর বা লুটপাট আমাদের কেউ করেনি। তাদের করা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।’
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার পর একাধিক মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে। অভিযোগ পেলে যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত।