দেশের সেরা চা পাতা চয়নকারী বা উত্তোলনকারী হয়েছেন চট্টগ্রামের নেপচুন চা-বাগানের জেসমিন আক্তার। শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী শ্রমিক হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার (২০২৩ ও ২০২৪) দেশসেরা হয়েছেন তিনি।
বুধবার (২১ মে) জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টার হাত থেকে পুরস্কার নেবেন তিনি। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি হবে।
জানা গেছে, ১৯৬০ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ২ হাজার ৭০০ একর আয়তনবিশিষ্ট পাহাড়-সমতল এলাকায় গড়ে ওঠে এম এম ইস্পাহানি গ্রুপের নেপচুন চা-বাগান। ২০০৯ সালে বৃক্ষ রোপণে দেশসেরা চা-বাগান এবং ২০২০ সালে গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড মনোনীত হয় এ বাগানটি। দীর্ঘ ৬৫ বছরে নেপচুন চা-বাগান নানা সফলতার পাশাপাশি চা উৎপাদনেও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে চলছে।
২০২২ সালের চা পাতা চয়ন বা উত্তোলনে দেশসেরা চা-শ্রমিক নির্বাচিত হয়েছিলেন নেপচুন চা-বাগানের উপলক্ষ্মী ত্রিপুরা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) দেশের ১৬৮টি চা-বাগানের মধ্যে চা পাতা উত্তোলন বা চয়নে সেরা শ্রমিক নির্বাচিত হয়েছেন জেসমিন আক্তার।
জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমি গত ৪২ বছর ধরে একই বাগানে চা পাতা উত্তোলন করে আজ দেশসেরা হতে পেরে সত্যি আনন্দিত। গত বছর (২০২৪ সালে) আমি ৩৪ হাজার ৯৩৭ কেজি চা পাতা উত্তোলন করতে সক্ষম হই। দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্বামীসহ আমার সংসারের আটজন সদস্য নেপচুন চা-বাগানে কর্মরত।’
নেপচুন চা-বাগানের ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. রিয়াজ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশের ১৬৮টি চা-বাগানের মধ্যে নেপচুন চা-বাগান থেকে টানা তিন বার দেশসেরা চা-শ্রমিক বা পাতা চয়নকারী নির্বাচিত হওয়ায় আমরা আনন্দিত। টানা দ্বিতীয়বারের মতো জেসমিন আক্তার সেরা হয়েছেন। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা চাই জেসমিনের মতো অন্য শ্রমিকরাও সেরা হোক।’
তিনি জানান, সম্প্রতি তিনটি চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে ওপেন চা পাতা উত্তোলন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। হালদাভেলী চা-বাগানে অনুষ্ঠিত ওই প্রতিযোগিতায় ৩০ মিনিটে ১৩ কেজি চা পাতা চয়ন (উত্তোলন) করে জেসমিন আক্তার প্রথম হওয়ার গৌরব চূড়ান্তভাবে ধরে রাখেন।