জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির অধ্যাদেশ জারির প্রতিবাদে কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করছেন দেশের বৃহৎ শুল্ক স্টেশন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা। বুধবার (২১ মে) সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এই কর্মসূচি। এতে দুই ঘণ্টা ধরে কোনো ধরনের শুল্কায়ন হয়নি দেশের বৃহৎ এ শুল্ক সেন্টারে। এর আগে গত বৃহস্পতি ও রবিবার কলম বিরতি পালন করেছিলেন কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা। দুই দিন বন্ধ থাকার পর আবার বুধবার অর্ধদিবস কলম বিরতি পালনে স্থবির হয়ে পড়ে। এতে ডেলিভারি না হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট তৈরি হয়।
এদিকে কলম বিরতির কারণে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ব্যাহত হয় আমদানি-রপ্তানি পণ্য শুল্কায়ন কার্যক্রম। এতে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা। দেশের সব কর অঞ্চল, ভ্যাট ও শুল্ক কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।
জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ’ জারির প্রতিবাদে গত ১৫ মে থেকে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় কলম বিরতি পালন করছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা। এতে চট্টগ্রাম কাস্টমসে সেবাগ্রহিতারা একধরনের অলস সময় পার করেন। কয়েকজন আমদানিকারক বলেছেন, কাস্টমস কর্মকর্তাদের এই কলম বিরতি দায়িত্বহীনতার পরিচয়। আন্দোলনের মাধ্যমে তারা দেশের
অর্থনীতির চাকা থামিয়ে দিতে চান। আমরা ব্যবসায়ীরা মাঝখানে ভোগান্তিতে পড়েছি। কাস্টমস কর্মকর্তাদের তো এখানে কোনো লোকসান নেই। তারা বহাল তবিয়তে থাকবেন, বেতনও চলছে। এখন তো নতুন করে আমাদের ওপর চার গুণ পোর্ট ডেমারেজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যে আমরা যথাসময়ে পণ্য খালাস করতে পারছি না, এখানে আমাদের দায় কোথায়? আমরা কি লোকসান দিয়ে ব্যবসা করব? এভাবে কলম বিরতি পালন না করে কাস্টমস কর্মকর্তাদের উচিত, তাদের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দাবি-দাওয়ার বিষয় থাকলে, সেটি সমাধান করা। তাদের কারণে আমরা জিম্মি হয়ে পড়ছি।’
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়াডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, ‘কাস্টমস কর্মকর্তাদের কলমবিরতি কর্মসূচির কারণে সব ধরনের শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এতে বেকায়দায় পড়তে হয় ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের। সকালে কাস্টমস কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরে বসলেও কেউ দাপ্তরিক কাজ করেননি। কাস্টম হাউসের প্রধান স্টেক হোল্ডার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরাও অলস বসেছিলেন। পরে দুপুর ১২টা থেকে আবার কাজ শুরু হয়। এতে চাপে পড়েন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।’ এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র এবং ডেপুটি কমিশনার সাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত থাকায় সাড়া দেননি।