চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং রাখাইনে সাহায্য পাঠানোর নামে করিডর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। এ সময় তারা ২৯ মে বন্দর ভবন সম্মুখে বৃহত্তর শ্রমিক সমাবেশের ডাক দেয়।
মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুরে নগরের কোতোয়ালি এলাকায় জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘বন্দরের এনসিটি বাংলাদেশের সবচেয়ে আধুনিক এবং লাভজনক টার্মিনাল। বিগত বছর এ টার্মিনাল থেকে ৫০০ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা হয়েছে এবং গত বছর সক্ষমতার ২৮ শতাংশ বেশি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে। সুতরাং উন্নত ব্যবস্থাপনার অজুহাত তুলে যারা এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণে দিতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য কখনোই ভালো হতে পারে না।
পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল নামে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিনিয়োগ করেনি এবং টার্মিনালও সক্ষমতার মাত্র ১০-১২ শতাংশ ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে মাত্র। সুতরাং বিদেশিদের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিলেই সমস্যার সমাধান হবে, এ বক্তব্য ঠিক নয়। আমরা এ চক্রান্ত চট্টগ্রামের শ্রমিক-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দাঁড়াব।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘রাখাইন ইস্যুকে ঘিরে করিডর দেওয়ার পরিকল্পনা একটি বিপজ্জনক ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। দেশের জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া চলবে না। সব জাতীয় কৌশলগত সম্পদের ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক ও জনগণের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে।’
সমাবেশে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকাল ১০টায় বন্দর ভবনের সামনে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে শ্রমিক সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিলসহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে; সাইফ পাওয়ারটেকের ইজারার মেয়াদ শেষে তা নবায়ন বন্ধ করতে হবে; এনসিটিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে আনতে হবে; এনসিটি পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে রেড সি গেটওয়ের কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে; রাখাইনে করিডর তৈরির নামে ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে; জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক ও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার প্রমুখ।