খামারে গরু প্রবেশ করায় বিষাক্ত ভিক্সল নামক এসিড গরুর শরীরে স্প্রে করে ঝলসে দিয়েছেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার কেওড়া ইউনিয়নের পূর্ব তারুলী গ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী জাফর আহমেদের কর্মচারীরা।
গত ২৭ মে ৫টি গরুর সঙ্গে অমানবিক এ কাজ করা হয়। ২৮ মে (বুধবার) বিকালে ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী জানান, জাফর আহমেদ ঢাকায় বনশ্রী এলাকায় বসবাস করেন। নিরীহ পশুর সাথে চরম অমানবিকতা করা হয়েছে। সভ্য জগতে এধরনের নিষ্ঠুরতা কল্পনাও করা যায় না। গরুগুলোর শরীর থেকে চামড়া খসে পড়ার জ্বালায় গরুগুলোকে ছটফট করতে দেখা যায়। যা দেখলে কোন হৃদয়বান মানুষ স্থির থাকতে পারে না। কথা বলতে না পারা প্রাণীগুলোর বোবা কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে গরুর মালিক আ. হালিম ও মাইনুল ইসলাম জানান, “আমরা গরীব মানুষ। কথা বলতে ভয় লাগে। আমরা কিছু বললে তারা টাকা পয়সার জোর খাটিয়ে আমাদের আরও ক্ষতি করবে এবং এলাকায় বসবাস করতে পারব না। আল্লাহ ছাড়া বিচার চাওয়ার মত জায়গা নেই। জাফর সাহেবের ঘেরের খামারী এতোয়ার ও রিমন গরুর শরীরে বিষাক্ত ভিক্সল নামক এসিড স্প্রে করে গরুর শরীর ঝলসে দিয়েছে।”
অভিযুক্ত রিমন ও এতোয়ার বলেন, “গরু ছেড়ে দিয়ে ঘাস খাওয়াতে নিষেধ করার পরও আমাদের ঘেরে প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি করেছে। সেজন্য আমরা বিষাক্ত ভিক্সল গরুর গায়ে স্প্রে করেছি। এতে গরুর চামড়া ছিলে গেছে। তবে এ কাজটি করা আমাদের অন্যায় হয়েছে।”
খামারের মালিক জাফর আহমেদ এর বাড়ির কেয়ারটেকার আসাদুজ্জামান বাবু জানান, “বার বার নিষেধ করার পরও গরু প্রবেশ করায় গরুর গায়ে বিষাক্ত ভিক্সল স্প্রে করা হয়েছে। ফলে গরুর চামড়া খসে গেছে। ঘেরের মালিক জাফর সাহেবের সাথে কথা বলার জন্য ফোন নাম্বার চাইলে তা দিতে সে অস্বীকার করেন এবং বলেন সে অপরিচিত কারও সাথে কথা বলে না। তিনি সাংবাদিকদের এ ঘটনার বিষয়ে সংবাদ প্রচার করতে নিষেধ করেন।”
ওই এলাকার ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য জাহানারা বেগম জানান, এটি অত্যন্ত ঘৃনিত নিম্নমানের কাজ হয়েছে। কোন প্রাণির উপর এরকম অমানবিকতা কখনও গ্রহণযোগ্য না। যারা এ কাজ করেছে তারা খুব বড় ধরনের অপরাধ করেছে। আমি এ কাজের নিন্দা জানাই।
কেওড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেমায়েত উদ্দিন হিমু জানান, “এ ধরনের অপকর্ম পশু প্রাণির সাথে যারা করেছে তাদেরকে কোন রকম ছাড় দেওয়া উচিত হবে না। সাংবাদিকদের কলমের লেখনী দ্বারা ভুক্তভোগী যেন সঠিক বিচার পায় সে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
এবিষয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন মুঠোফোনে জানান, “বিষয়টি খোজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”
সুইট/সিফাত/