বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি আর ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানিতে সিলেট বিভাগের সকল নদনদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। তবে এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ধলাই নদ, সারিগোয়াইন, ডাউকি ও সারি নদীতে পানি বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে সারিগোয়াইন, ডাউকি ও সারি নদীর পানি। চলমান বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে রাতের মধ্যেই এসব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেটের তিন উপজেলায় বন্যার শঙ্কা আছে বলে জানিয়েছে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাহাড়ি এই ঢলের কারণে বিগত বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনের মধ্যে আবারও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আছে ধলাই নদ, গোয়াইনঘাট উপজেলায় সারি গোয়াইন ও ডাউকি নদী এবং জৈন্তাপুর উপজেলায় আছে সারি নদী।
ছবি: খবরের কাগজ
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট কার্যালয়ের তথ্য মতে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদের কোনো বিপৎসীমা নেই। তবে গতকাল (বৃহস্পতিবার) এই নদের পানি ছিল ৭.২৩ সেন্টিমিটার। আজ শুক্রবার বেলা তিনটায় এই নদের পানি ছিল ১০.৪২ সেন্টিমিটার। গোয়াইনঘাট উপজেলার সারিগোয়াইন নদীর ডেঞ্জার লেভেল (বিপৎসীমা) হল ১০.৮২ সেন্টিমিটার। গতকাল এই নদীতে পানি ছিল ৭.৪৫ সেন্টিমিটার। শুক্রবার বেলা তিনটায় এই নদীর পানি ছিল ৯.১৮ সেন্টিমিটার। সারিগোয়াইন নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১.৬৪ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার ডাউকি নদীর ডেঞ্জার লেভেল হল ১৩.০০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই নদীতে পানি ছিল ৭.৬৫ সেন্টিমিটার। শুক্রবার বেলা তিনটায় এই নদীর পানি ছিল ১১.৫২ সেন্টিমিটার। সারি গোয়াইন নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১.৪৮ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। জৈন্তাপুর উপজেলার সারি নদীর ডেঞ্জার লেভেল হল ১২.৩৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই নদীতে পানি ছিল ৮.০৮ সেন্টিমিটার। শুক্রবার বেলা তিনটায় এই নদীর পানি ছিল ১১.৬২ সেন্টিমিটার। সারি নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ০.৭৩ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে।
এদিকে সকাল ১০টার দিকে টানা বর্ষণের ও পাহাড়ি ঢলে ফলে কোম্পানীগঞ্জ ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গেছে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা সাদাপাথর। ঢলের পানিতে অস্থায়ী অবকাঠামো এবং স্থানীয় কয়েকশ’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মালামাল ভাসিয়ে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। ঢল নামার সময় কিছু পর্যটক বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্পটে অবস্থান করছিলেন। তবে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই তারা নিরাপদ স্থানে চলে আসেন। ফলে এই ঘটনায় কোনো পর্যটকের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে অতিবৃষ্টি অব্যাহত থাকার কারণে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে থেকে সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় আগামী দুই দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭৮.৪ মিলিমিটার। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫৩ মিলিমিটার। ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬১ মিলিমিটার এবং ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৯.২ মিলিমিটার।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস খবরের কাগজকে বলেন, সিলেটে বন্যা নির্ভর করে ভারতের বৃষ্টিপাতের ওপর। দেশেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে আবার ভারতেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবার দেশে আগামী তিনদিন বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। যদিও সিলেটের কোনো নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি তারপরও ভারতের পাহাড়ি ঢলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার শঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মেঘালয় হিলসের পানি সারি গোয়াইন, ডাউকি দিয়ে বেশি নামবে। তাই এসব নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষকে বিশেষভাবে সর্তক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, হাওরে কোনো ধান নেই। তাই নদীতে পানি ডেঞ্জার লেভেল অতিক্রম করলেও সেটা দ্রুত হাওরে চলে যাবে। সুরমা নদীর পানি এখনও সেইফ জোনে আছে। আজকে দুপুরে দেখলাম সুরমার পানি দ্রুত নামতেছে। হাওর খালি থাকায় পানি নামার ফ্লো অনেক ভালো।
তিনি আরও বলেন, বন্যা হয় মূলত যখন মানুষের বাড়িঘর স্থাপনা, হাটবাজার ডেঞ্জার লেভেলের নিচে থাকে। বর্ষার সময় পানিতো আসবেই। কিন্তু এই ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। নতুন বাড়িঘর বানানোর সময়, বাজার বানানের সময় উপজেলা লেভেল থেকে ডেঞ্জার লেভেল কোথায়, তা জেনে স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে।
শাকিলা ববি/মাহফুজ