ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মুক্তি পেল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ট্র্যাক ‘সির সির’ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ২৪ নেতাকর্মীর নামে মামলা, আটক ৩ টেলিমেডিসিনের গুরুত্ব বর্তমানে বৈধ সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সংসদ সদস্যের পদ ছাড়ছেন কোয়েল বিচার চাইব কার কাছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক আরও ঝলমলে রঙিন হচ্ছে পাহাড়ি শহর ছোংছিংয়ের রাত আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন? নাটোরে স্পিডবোটে মিলল গুলিবিদ্ধ মরদেহ ফ্রিতে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার করবে বিটিভি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিদেশে শ্রমবাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে: অর্থমন্ত্রী নোবিপ্রবির নতুন উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বাজেটে বিড়ির মূল্য ও করহার অপরিবর্তিত থাকবে: অর্থমন্ত্রী ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬ সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রামিসা ও নূরজাহান হত্যা: আমাদের মূল্যবোধের পচন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ ভাঙ্গায় কৃষকদল নেতাকে থানার মধ্যে মারধরের অভিযোগ নড়াইলে স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, ভ্যানচালক গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে দিনের বেলা প্রকাশ্যে যুবককে গুলি, ভিডিও ভাইরাল উখিয়া সীমান্তে সাড়ে ৫ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করল বিজিবি ট্রাম্পের চুক্তি যে কারণে নস্যাৎ করতে চান নেতানিয়াহু ধর্ষক মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু হাইকোর্টে জামিন পেলেও জেলগেটে ফের গ্রেপ্তার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র রুয়েটে আবাসিক হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগে ৪ শিক্ষার্থী আটক গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু দক্ষতার সঙ্গে টিম পরিচালনার কিছু পরামর্শ রূপগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ অভিযান
Nagad desktop

জীবিত ভাইকে ‘জুলাই আন্দোলনে শহিদ’ দেখিয়ে মামলা, আসামি শেখ হাসিনা

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৫, ১০:৫৪ পিএম
আপডেট: ৩১ মে ২০২৫, ১১:২০ পিএম
জীবিত ভাইকে ‘জুলাই আন্দোলনে শহিদ’ দেখিয়ে মামলা, আসামি শেখ হাসিনা
মো. সেলিম যাকে ‘শহিদ’ উল্লেখ করে মামলা করেন তার বড় ভাই। ছবি: খবরের কাগজ

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জীবিত মো. সেলিমকে (৪৮) ‘শহিদ’ দেখিয়ে মামলা করেছেন তারই বড় ভাই মোস্তফা কামাল (৫২)। গত বছরের ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় সেই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সম্প্রতি এ ঘটনায় জানাজানি হওয়ায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়াজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

সেলিম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের ধামর গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছোট ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম মো. সেলিম থাকলেও মামলায় তাকে দুলাল হোসেন ওরফে সেলিম দেখানো হয়েছে। তার বড় তিন ভাই হলেন-হেলাল উদ্দিন, আবুল হোসেন ও মামলার বাদী মোস্তফা কামাল।

গত বছরের ২৭ আগস্ট সেলিমকে নিজের ভাই উল্লেখ করে রাজধানীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন মোস্তফা কামাল। মামলার আরজিতে ৩ আগস্ট বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার শনির আখড়ার কাজলা পেট্রলপাম্পের সামনে ছাত্র-জনতার মিছিলে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে সেলিম মারা যান বলে উল্লেখ করা হয়। তার লাশ উদ্ধার করে রাজধানীর গোপীবাগ এলাকার রামকৃষ্ণ মিশনের (আর কে মিশন রোড) পাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়। মামলায় শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ৪১ জনের নাম উল্লেখ ও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৫০ থেকে ২০০ নেতা-কর্মীকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলার বাদী মোস্তফা কামালের (৫৫) ঠিকানা হিসেবে আর কে মিশন রোড, বদী মেম্বারের বাড়ি, মুগদা, ঢাকা উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ৩০ আগস্ট আদালতের আদেশে যাত্রাবাড়ী থানায় সেলিম হত্যা মামলা রেকর্ড হয়।

 মামলার বাদী মোস্তফা কামাল ওরফে মস্তু যিনি তার ভাই মো. সেলিমকে ‘শহিদ’ দেখিয়ে মামলা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত 

স্থানীয় সূত্রে জানায়, মোস্তফাকে এলাকার মানুষ মস্তু ডাকাত হিসেবে চেনেন। ধামর গ্রামের গোলাপ মিয়া, নীল মামুদ ও রয়েল নামের ১০ বছর বয়সী শিশু হত্যায় তিনি জড়িত। এমন কোনো অপরাধ নেই, তিনি করতেন না। তার ভয়ে এলাকার মানুষ এখনো আতঙ্কিত। ২০০৫ ও ২০১২ সালে মোস্তফার বিরুদ্ধে থানায় দুটি হত্যা মামলা হয়। সর্বশেষ রয়েল হত্যার পর মোস্তফা এলাকা ছাড়েন। ঢাকায় বাস চালিয়ে জীবন চালাচ্ছিলেন।

আরও জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে তাদের বাবা আব্দুল হাকিমের মৃত্যুর পর থেকেই ভাইদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সেলিমের শুধু দুই কন্যাসন্তান থাকায় তার ভাগের সম্পত্তিতে নজর পড়ে বাকি তিন ভাইয়ের। এদিকে দুটি হত্যাসহ চারটি মামলায় জড়িয়ে আর্থিকভাবে নিঃস্ব মোস্তফা কামাল পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেলিমকে নিয়ে মিথ্যা মামলা করেন। মিথ্যা মামলার বিষয়টি জানাজানি হয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে মামলার বাদী মোস্তফা নিরুদ্দেশ হয়ে যান।

‘মৃত’ দেখিয়ে বড় ভাই মামলা করায় সেলিম এখন নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে থানা ও আদালতে দৌড়াচ্ছেন।

ভাইদের অত্যাচারে বছরখানেক আগে বাড়ি ছেড়ে ধামর বেলতলী বাজারে আড়াই শতক জমি কিনে ঘর করে বসবাস করছেন। সেখানে তার একটি দোকান আছে।

বক্তব্য জানতে চাইলে সেলিম বলেন, আমার ভাইয়েরা প্রায় ১৫০ শতক জমি দখল করে রেখেছেন। জমি নিয়েই ভাইদের সঙ্গে বিরোধ। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। আমি বাড়িতে গেলে আমার ভাইয়েরা আমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখান। এ জন্য ভয়ে বাড়িতে যাই না। আমি জীবিত সেটি প্রমাণ করতে দু’বার আদালতেসহ কয়েকবার পুলিশের কাছে গিয়েছি। আমি আমার ভাইদের বিচার চাই।

সেলিমের স্ত্রী হাজেরা খাতুন বলেন, গত ১৫ বছর ধরে মোস্তফা বাড়িতে আসে না। বাড়িতে না এলেও বাকি দুই ভাইকে দিয়ে আমার স্বামীর সম্পত্তি গ্রাস করতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। মূলত আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তিন ভাই এই নাটক সাজিয়েছে।

স্থানীয় মোর্শেদ আলী বলেন, মোস্তফাকে এলাকার মানুষ মস্তু ডাকাত হিসেবে চেনেন। সে একাধিক মামলার আসামি। তাকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।

সেলিমের ভাই হেলাল উদ্দিনের মেয়ে ঝুমি আক্তার বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে মস্তু কাকা বাড়িতে আসেন না। বর্তমানে তিনি রাজধানীতে বসবাস করেন। আমার বাবাকে কেন সাক্ষী করা হয়েছে তা আমাদের জানা নেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগের উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলার বাদী মস্তুর বিরুদ্ধে অন্য মামলা থাকায় তিনি পলাতক। তার মোবাইল বন্ধ, কোথায় আছে, সেটাও জানা যাচ্ছে না। সেলিম মৃত নন, এটা নিশ্চিত করতে আদালতের মাধ্যমে দুই ভাইকে সামনা-সামনি করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হয়েছে। আদালত অনুমতি দিলে সিআইডি ডিএনএ পরীক্ষা করবে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, পারিবারিক বিরোধের কারণেই জীবিত সেলিমকে মৃত দেখিয়ে তার ভাই মামলা করেছেন। মস্তুর নামে দুটি হত্যা, একটি চাঁদাবাজি এবং একটি মারামারির মামলা রয়েছে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/মাহফুজ

 

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক
ছবি: খবরের কাগজ

ঝড়-বৃষ্টির কারণে আধা ঘন্টা বন্ধ থাকার পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৫ টার দিকে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুস সালাম।

এর আগে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ করে শুরু হওয়া প্রবল ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে এই নৌপথে সব ধরনের ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নৌপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা বিবেচনায় সাময়িকভাবে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচল শুরু করা হয়।

ডিজিএম আব্দুস সালাম জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আবারও স্বাভাবিকভাবে পারাপার শুরু হয়েছে।

লঞ্চ চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের ম্যানেজার পান্না লাল নন্দি।

বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১০টি ফেরি ও ১৭টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

আসাদ জামান/রিফাত/

নাটোরে স্পিডবোটে মিলল গুলিবিদ্ধ মরদেহ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
নাটোরে স্পিডবোটে মিলল গুলিবিদ্ধ মরদেহ
ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরের লালপুর উপজেলার চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি স্পিডবোট থেকে আজিজুল হক ওরফে জরু মাস্তান (৩৫) নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আজিজুল হক ওরফে জরু মাস্তান নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের হিজলী পাবনাপাড়া এলাকার আব্দুল শেখের ছেলে।

ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ভোরে রাজশাহী জেলার বাঘা থানা, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা এবং নাটোর জেলার লালপুর থানার সীমান্তবর্তী চরে গোলাগুলির একটি ঘটনা ঘটে। ওই সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ, ভেড়ামারা থানা পুলিশ এবং লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে নাটোর অংশে একটি স্পিডবোটে মরদেহটি পাওয়া গেলে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

কামাল/রিফাত/

ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় মা ও তার স্কুলছাত্রী কন্যাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভুক্তভোগীরা শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার সিকদারপাড়া ডলুনিঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মোহাম্মদ মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু (২৩), কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইত্যা (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), মেহেদী হাসান (২৪) এবং মোহাম্মদ তারেক (২৬)।

পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ জানান, খবর পেয়ে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল গভীর রাতে বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরের মূল দরজা খুলে অন্য সদস্যদের ঢুকতে সহায়তা করে। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। একপর্যায়ে বাড়িতে থাকা এক নারী ও তার দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত কন্যাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ বলেন, “আমার ভাগ্নির শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রকিব জানান, ডাকাতরা প্রথমে গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে এবং পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাট চালায়। এরপর তারা পরিবারের সদস্যদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে পালিয়ে যায়।

সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস বলেন, “প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একদল ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতি সংঘটিত করে এবং ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের ডাক্তারি পরীক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলা দায়েরের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এদিকে, জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি, রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তারেকুর রহমান/এসএন

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ছবি: খবরের কাগজ

প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে এ নৌরুটে সব ধরনের ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুস সালাম ফেরি চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করেই পাটুরিয়া এলাকায় তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে নৌপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

লঞ্চঘাটের ম্যানেজার পান্না লাল নন্দী জানান, প্রচণ্ড ঝড়ের কারণে এ নৌরুটে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে।

ডিজিএম আব্দুস সালাম বলেন, ‘আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু করা হবে।’

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১০টি ফেরি ও ১৭টি লঞ্চ চলাচল করছে।

আসাদ জামান/রিফাত/

ভাঙ্গায় কৃষকদল নেতাকে থানার মধ্যে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ভাঙ্গায় কৃষকদল নেতাকে থানার মধ্যে মারধরের অভিযোগ
আহত কৃষক দল নেতা ফারদিন হাসান উজ্জ্বল। ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফারদিন হাসান উজ্জ্বল নামে এক কৃষক দল নেতাকে থানার মধ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির মোল্লার বিরুদ্ধে। আহত ওই নেতা ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। 

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে একটি মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন উপজেলা কৃষকদল ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

​বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তারা জানান, সোমবার রাতে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারদিন হাসান উজ্জ্বলের প্রতিবেশী আপন মাতুব্বরকে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাকে দেখতে ও খোঁজ নিতে থানায় গেলে ভাঙ্গা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কবির মোল্লা কৃষকদল নেতা উজ্জ্বলকে মারধর করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কবির মোল্লার শাস্তি ও থানা থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

​কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি উকিল মাতুব্বর, উপজেলা ছাত্র দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান মুন্সী, উপজেলা কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন মোল্লাসহ বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

​এ বিষয় ভুক্তভোগী কৃষকদল নেতা ফারদিন হাসান উজ্জ্বল বলেন, "আমি আমার প্রতিবেশীকে খাবার ও ওষুধ দেওয়ার জন্য থানার ভেতরে গিয়েছিলাম। তখন এসআই মো. কবির মোল্লা আমাকে জিজ্ঞেস করেন, 'আপনি কে?' আমি বলি, যাকে ধরে এনেছেন সে আমার এলাকার ভাই হয়। এ কথা শোনার পরপরই তিনি আমাকে মারধর করেন।

​এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান বলেন, গতকাল রাতে আমাদের সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারদিন হাসান উজ্জ্বলের প্রতিবেশীকে পুলিশ আটক করলে উজ্জ্বল তার খোঁজ নিতে যান। সেখানে এসআই কবির মোল্লা তাকে মারধর করেছেন বলে জানতে পেরেছি। বর্তমানে উজ্জ্বল ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহারসহ শাস্তি দাবি করছি।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কবির মোল্লা বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে একটি ঘটনা ঘটেছে। আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি।

তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, গতকাল একটি ঘটনায় ফারদিন হাসান উজ্জ্বল থানায় এলে তার সঙ্গে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তবে কোনো মারধর অভিযোগ সঠিক নয়। 

নয়ন/নাঈম