গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় একটি মসজিদে সুদ-ঘুষ ও জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে বয়ান দেওয়ায় ইমামের চাকরি হারিয়েছেন হাফেজ মো.হামিদুল ইসলাম নামে এক মসজিদের ইমাম।
সম্প্রতি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চিকনী সরকার পাড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজের আগে বাংলা খুতবা বয়ান দিয়ে তিনি চাকরি হারিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান।
তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা আমাকে জানায়নি। তবে আমি লোকমুখে শুনেছি। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।
হাফেজ মো.হামিদুল ইসলাম চার বছর ধরে চিকনী সরকার পাড়া জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পান করে আসছেন। তিনি একই উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের চাঁদ করিম গ্রামের মজমল মিয়ার ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুমার নামের বাংলা খুৎবায় তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশে জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে বয়ান দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কতিপয় কিছু মুসল্লি। পরে মুসল্লিদের তোপের মুখে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।
এ বিষয়ে হাফেজ মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত চার বছর আগে সাদুল্লাপুর উপজেলার চিকনী সরকার পাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগদান করি। এরই ধারাবাহিকতায় মুসল্লিদের উদ্দেশে জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে বয়ান দেওয়ায় আমাকে রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে সুদ-ঘুষের বিরুদ্ধে বয়ান দেওয়ায় আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মসজিদটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের এমন আচরণের কারণে আমি ইমামতি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছি।’
চিকনী সরকার পাড়া জামে মসজিদ পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা ছামছুল সরকার বিদ্যুৎ বলেন, ‘আমাদের ইমাম হাফেজ মো. হামিদুল ইসলাম মুসল্লির তোপের মুখে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ইমামের সুদ-ঘুষের বিরুদ্ধে বয়ানকে কেন্দ্র করে আর কোনো ঝামেলা না বাড়ানোই ভালো।
রফিক/মেহেদী/