টানা বৃষ্টি ও ভারতীয় উজানের পানিতে ফেনীর ফুলগাজীতে মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর দুটি স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। চব্বিশের ভয়াবহ বন্যার বছর না পেরোতেই আবারও বাঁধের ভাঙনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দায়সারা কাজকে দুষছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর টেকসই বাঁধ নির্মাণে একটি মেগা প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বণিকপাড়া সহদেব বৈদ্যের বাড়িসংলগ্ন মুহুরী নদীর বাঁধের একটি স্থানে ও গোসাইপুর এলাকায় সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এতে উত্তর বরইয়া, দক্ষিণ বরইয়া, বণিকপাড়া, বসন্তপুর ও জগৎপুর এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে তলিয়ে যায় মাছের ঘের, মুরগির খামার, কৃষিজমিসহ মানুষের ঘরবাড়ি।
ফুলগাজীর সদর ইউনিয়নের উত্তর বরইয়া গ্রামের মোবারক হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছর বন্যা এলে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই দুর্ভোগের শেষ কবে হবে আমাদের জানা নেই? একবারের বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার বন্যার কবলে পড়তে হয় আমাদের।’
একই ইউনিয়নের দক্ষিণ বরইয়া গ্রামের মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বন্যা আসে বন্যা যায়, কিন্তু বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মজবুত ও টেকসই করা হয় না। নামমাত্র কিছু বালু-মাটি দিয়ে বাঁধগুলো বাঁধা হয়। বৃষ্টির সঙ্গে বালি মাটিগুলো সরে যায়। উজানের পানি ধাক্কা দিলে বাঁধগুলো আবার ভেঙে যায়। আমরা চাই টেকসই বাঁধ নির্মাণ হোক।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা থেকে ফুলগাজী তরকারি বাজারসংলগ্ন স্থানে মুহুরী নদীর পানি প্রবেশ করে বাজারের একটি অংশ প্লাবিত হয়। এতে ব্যবসায়ীরা দোকানের মালামাল নিয়ে বিপাকে পড়েন। অনেক ব্যবসায়ীর মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়।
রাশেদুল ইসলাম নামে ফুলগাজী বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখানে প্রতিবছর জুন থেকে আগস্ট মাসে সামান্য বৃষ্টিতেই লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। দোকানের জিনিসপত্র পানিতে ভিজে ক্ষতির মুখে পড়ে। কাউকে কিছু বলেও লাভ হয় না। এসবে এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি।’
এ ছাড়াও পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মনিপুর এলাকায় সিলোনিয়া নদীর পানি বেড়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে মানুষের বাসস্থান ভেসে গেছে। এমন অবস্থার জন্য ভুক্তভোগীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলাকে দায়ী করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘নদী সরু হওয়ায় বৃষ্টির পানি ও উজানের ঢল বহন করার সক্ষমতা হারিয়েছে। বাঁধ ভাঙনের এটাই মূল কারণ। নদী সংস্কার ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৭ হাজার ৪৩০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফুলগাজী, পরশুরামের বন্যার সমস্যা কেটে যাবে।’