রাজশাহীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর দুই নেতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রূপ নেয় হাতাহাতিতে। এতে একজন নেতা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অপর নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সব দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার (২৫ জুন) রাত ১১টার দিকে নগরের রাণীবাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এই হাতাহাতির ঘটনাটি ঘটে। রেস্তোরাঁটির মালিক এনসিপির রাজশাহী জেলা সমন্বয়ক কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী রাশেদুল ইসলাম।
আহত নেতার নাম ফিরোজ আলম। তিনি এনসিপির রাজশাহী জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ও নগরের খড়খড়ি এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ উঠেছে, একই পদে থাকা আরেক যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলাম সাজু (কাটাখালী, রাজশাহী) তার বুকে লাথি মারেন। ঘটনার পর ফিরোজকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
ফিরোজ আলমের স্ত্রী সাথী খাতুন জানান, তার স্বামী কিছুটা সুস্থ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শে এখনো কথা বলা থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
এনসিপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয় কিছু বিষয় নিয়ে ওই রাতে রেস্তোরাঁয় প্রধান সমন্বয়কারীর উপস্থিতিতে এক সভা চলছিল। তখন কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নাহিদুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরোজ আলমকে আঘাত করেন। উপস্থিত অন্য নেতারা তাকে নিবৃত্ত করেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অভিযুক্ত নাহিদুল ইসলাম সাজু বলেন, ‘ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির ফল। এখন আমরা একসঙ্গে আছি, সমস্যা মিটে গেছে।’
তবে ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি নাহিদুল ইসলাম সাজুর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে। একই সঙ্গে তাকে সাময়িকভাবে সব পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব (পশ্চিম) সাঈদ উদ্দিন সিয়াম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘নাহিদুল ইসলাম সাজুর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে, কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না।’
এ বিষয়ে জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। একইভাবে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদও ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এনায়েত করিম/মাহফুজ