ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু এনড্রিককে নিয়ে তাড়াহুড়ো নয় : আনচেলত্তি না ফেরার দেশে কবি আল মুজাহিদী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই বাংলাদেশকে ১৯৭ রানের লক্ষ্য দিল অস্ট্রেলিয়া ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সমালোচনার জবাব দিতে হয় পারফরম্যান্সে: রদ্রিগো ফ্লোরা সিস্টেমসের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চুক্তি সম্পন্ন মাঠে নেইমারের প্রভাব ব্যাখ্যা করলেন দানিলো টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যোগ্যতা এইচএসসি পাস লোডশেডিং বন্ধ হোক ‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’ মন্ত্রীদের আচরণ যা হওয়া উচিত সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ২ শিশুর মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে দখল-দূষণে হারিয়ে যাওয়া শতবর্ষী নয়নের খাল পরিদর্শনে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মেধা পাচার: উন্নয়নের আড়ালে নীরব বিপর্যয় রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি আগুন সন্ত্রাসীর তান্ডবে নির্ঘুম কৃষক, পাচ্ছেন দয়াও বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন নয়্যার নোয়াখালীতে ১৭ বেডের হাম ওয়ার্ডে রোগী ৮৭ কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা

ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণির চারা রংপুরে নিষিদ্ধ গাছের চারা বিক্রির হিড়িক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৫, ০৯:৪৩ এএম
রংপুরে নিষিদ্ধ গাছের চারা বিক্রির হিড়িক
রংপুর নগরীর ঘাঘট এলাকার এক নার্সারিতে ইউক্যালিপটাস গাছ। ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা। গাছ লাগানোর মৌসুমে দেশীয় ফলদ ও ঔষধি গাছের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এসব গাছের চারা।

সম্প্রতি সরকার পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। গত ১৫ মে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন-১ অধিশাখা এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তিপর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে আগ্রাসী প্রজাতির এ গাছগুলোর পরিবর্তে দেশীয় বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ রোপণ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছ অতিরিক্ত পানি শোষণ করে মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। পাতায় থাকা টক্সিন মাটি বিষাক্ত করে তোলে। তবে দ্রুত বড় হওয়ায় লাভের আশায় কৃষকরা এসব গাছের চারা কিনছেন। 

রংপুরের বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, পীরগঞ্জ, বুড়িরহাট, পালিচড়া, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, হাতিবান্ধা ও নীলফামারীর সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাটবাজারে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে।

পালিচড়া হাটে গাছ বিক্রি করতে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কেউ বাধা দেয়নি। তাই বিক্রি করছি। সরকার নিষেধ করলে আর বিক্রি করব না।’

স্থানীয় নার্সারি মালিকদের অভিযোগ, প্রশাসন শুধু চারা গণনা করছে, কিন্তু বিক্রি বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কেউ বলেও না, তাই তারাও গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বুড়িরহাটের শান্তা নার্সারির মালিক সাজু মিয়া বলেন, ‘শুধু শুনি এই গাছ রোপণ করা যাবে না। কিন্তু কেউ বাধা দেয় না। কেউ কিছু বলে না, সে জন্য আমরা এ গাছের চারা রোপণ করে বিক্রি করি।’

রংপুর মহানগর নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান মাসুদ বলেন, ‘আমরা নার্সারি মালিকদের নিষেধ করেছি। কিন্তু অনেকেই মানছেন না। প্রশাসনের নজরদারি দরকার।’

বন বিভাগ জানায়, এখন পর্যন্ত এই গাছ কেটে ফেলার নির্দেশনা আসেনি। তবে নিষিদ্ধ চারাগুলোর হিসাব করা হচ্ছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে ইউক্যালিপটাস গাছের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭৬টি এবং আকাশমণি গাছের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬১০টি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এই অঞ্চলে ইউক্যালিপটাস গাছের চারা রয়েছে ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২৩০টি এবং আকাশমণি গাছের চারা ৭ লাখ ১২ হাজার ৩২০টি।

জেলাভিত্তিক হিসাবে রংপুরে ইউক্যালিপটাসের চারা রয়েছে ২২ লাখ ৫ হাজার ৯৮০টি, গাইবান্ধায় ১৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭৭০টি, কুড়িগ্রামে ১৬ লাখ ৫ হাজার ৬৩০টি, লালমনিরহাটে ১২ লাখ ৪ হাজার ৮৫০টি এবং নীলফামারীতে ৪ লাখ ৬০ হাজারটি। অন্যদিকে, রংপুরে আকাশমণি চারা রয়েছে ৪৭ হাজার ৪৪৫টি, গাইবান্ধায় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৪০০টি, কুড়িগ্রামে ৮ হাজার ২৫০টি, লালমনিরহাটে ৫০ হাজার ৪৭০টি এবং নীলফামারীতে ২ লাখ ৯১ হাজার ৭৫০টি।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চারার ক্ষতিপূরণের জন্য এখনো সম্পূর্ণ বরাদ্দ হয়নি। তবে প্রণোদনার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়ে নিষিদ্ধ চারা মুক্ত ঘোষণা করা হবে।’

পরিবেশবাদী সংগঠন রিভাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘চারা উৎপাদনের পরে এই নিষেধাজ্ঞা এসেছে। নার্সারি মালিকদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে চারাগুলোর সম্পর্ক রয়েছে। সরকার চাইলে তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে সহায়তা করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এসব গাছ কেটে ফেলা পরিবেশের জন্য কল্যাণকর হবে।’

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিষিদ্ধ গাছের চারাসংক্রান্ত তথ্য পেয়েছি। কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এখনো এসব গাছ কেটে ফেলার নির্দেশনা পাইনি।’

ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত
অবকাশের আনন্দে কক্সবাজার সৈকতজুড়ে ভ্রমণপিপাসুদের উচ্ছ্বাস। ছবি: খবরের কাগজ

সাপ্তাহিক ছুটির দিন। নেই কোনো টানা সরকারি ছুটি। তবুও নগরজীবনের ক্লান্তি আর ব্যস্ততা ঝেড়ে একটু প্রশান্তির খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছেন দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে। মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি, সাগরের গর্জন আর মনোরম আবহাওয়ায় সৈকতজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে পর্যটকেরা সাগরের সঙ্গে মিতালী করে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পুরো সমুদ্রসৈকত। কেউ সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতেছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউবা বিচবাইক, ঘোড়ায় চড়া কিংবা ওয়াটার বাইকে (জেটস্কি) রোমাঞ্চ উপভোগ করছেন। দীর্ঘ তিন কিলোমিটার সৈকতজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য আর উচ্ছ্বাসের এক অনন্য দৃশ্য।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক শরীফুল শাহীন খবরের কাগজকে বলেন, 'ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম হয়। তাই ছুটির দিনে কক্সবাজারে চলে এসেছি। আবহাওয়া চমৎকার, সমুদ্রও বেশ শান্ত। পরিবার নিয়ে দারুণ সময় কাটছে।'

রাজবাড়ী থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাবিনা আলতাফ খবরের কাগজকে বলেন, 'কক্সবাজারে এর আগেও এসেছি, তবে এবার আবহাওয়া অনেক বেশি উপভোগ্য মনে হচ্ছে। সমুদ্রের বাতাস আর পরিবেশ মনকে ভীষণ প্রশান্ত করেছে।'

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার খবরের কাগজকে বলেন, 'বর্তমানে কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যটকদের উপস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। বেশ কিছু হোটেলে ভালো বুকিং রয়েছে। আমরা অতিথিদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি, যাতে কক্সবাজার থেকে তারা সুখকর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে পারেন।'

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবায় সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে সমুদ্র উপভোগ করতে পারছেন।

সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম খবরের কাগজকে বলেন, 'আমাদের কর্মীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকে। পর্যটকদের নিরাপদ জোনে অবস্থান করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করা হয়।'

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন খবরের কাগজকে বলেন, 'পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। সৈকত, হোটেল-মোটেল জোন এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের হয়রানি, অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি পর্যটক কক্সবাজার থেকে নিরাপদ ও সুখকর অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরুন।'

সাগরের ঢেউ, মনোমুগ্ধকর আবহাওয়া আর নিরাপদ পরিবেশ মিলিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কক্সবাজার যেন হয়ে উঠেছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের এক বিশাল মিলনমেলা। স্বস্তি আর প্রশান্তি খুঁজে নিতে পর্যটকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার।

তারেকুর রহমান/থিওটোনিয়াস

টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পুকুরের পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (১৯জুন) দুপুরে উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের নাল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, রিপন চৌধুরীর ছেলে আব্দুর রহমান (১২) এবং একই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ফয়সাল (৭)। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯জুন) সকালে দুই শিশু সাইকেল নিয়ে নাল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যায়। খেলার এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের পাশেই পুকুরে গোসল করতে নামে। গোসলের সময় তারা পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করে।

আতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক খবরের কাগজকে জানান, তারা সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। তাদের বাড়ি নাল্লাপাড়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় এর পাশেই। খেলার পর গোসলের সময় সম্ভবত সাত বছরের ফয়সাল পানিতে ডুবে যায়। এরপর সেই ফয়সালকে উদ্ধার করতে ১২ বছরের আব্দুর রহমান যায়। সেখানে উদ্ধার কাজে ব্যর্থ হয়ে দুজনেই পানিতে মারা যান। এরপর পথচারীরা স্থানীয় লোকজনকে অবগত করেন এবং দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'এ ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জুয়েল রানা/থিওটোনিয়াস

মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের নদী উপকূলীয় এলাকায়  আড়ৎ ও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশের পোনা। ৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙ্গাসের পোনা ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ মানছে না নিয়ম নীতি। বড়ো সাইজের পাঙাশ মাছ প্রতিকেজি বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা। আর এই ছোট সাইজের পাঙ্গাসের পোনা বিক্রি হয় মাত্র ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা কেজি। মৎস্য বিভাগ বলছে, লজিস্টিক সাপোর্ট সহ লোকবল সংকটে নদী ও  আড়ৎ-তে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিন চাঁদপুর শহরের ওয়ালে বাজার, পালবাজার, বিপনীবাগ বাজার, মিশন রোড মোড়, বহরিয়া বাজারে এসব পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়াও লালপুর, আনন্দ বাজার, চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, বহরিয়া মৎস্য আড়ত ও হরিণা মাছঘাটে খোলামেলা ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হরিণা মাছঘাটে দেখা গেল প্রতিটি  আড়ৎ-তে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশের পোনা। ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ এসব বিষয়ে কারও মধ্যে ন্যূনতম সচেতনতা নেই। পাশাপাশি সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে পাঙ্গাশের পোনা রক্ষায় কোনো ধরনের অভিযানও নেই।

এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, 'ইলিশের জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা পড়ে। আগে কম ছিলো, এখন বেশি। ইলিশ আর পাঙ্গাশের পোনা আলাদা দরদামে বিক্রি হয়।'

ঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, 'গত বছর এই সময় নদীতে ছোট সাইজের প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাওয়া গেছে। এবার ইলিশ না পাওয়া গেলেও ওইসব জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা বেশি ধরা পড়ছে। জেলেরা নদীতে নেমে যে-সব মাছ পায়, সবই  আড়ৎ-তে এনে বিক্রি করে। তবে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা না ধরাই উত্তম। কারণ বড়ো হলে দাম বেশি।'

এই ঘাট থেকে পাঙ্গাশের পোনা কিনে শহরের বিপনীবাগ বাজারে বিক্রি করেন খুচরা ব্যবসায়ী শাহজাহান। তিনি বলেন, আজকে তিনি হরিণা ঘাট থেকে ৪ কেজি পাঙ্গাশের পোনা ক্রয় করেছেন ৬শ’ টাকা করে। এগুলো শহরে নিয়ে বিক্রি করবেন ৮শ’ টাকা কেজি দরে। এভাবে এই ঘাটে প্রতিদিন কয়েক মণ পাঙ্গাশের পোনা কেনা-বেচা হয়।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙাশ মাছ ধরা সব সময়ের জন্য নিষিদ্ধ। জাটকা রক্ষায় আমরা যেমন : অভিযান করেছি, এখন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আমাদের লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। তারপরেও সদর মৎস্য অফিসকে অভিযান করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা/

শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক
জব্দ চাল ও ইনসেটে আটক ব্যাবসায়ী। ছবি: খবরের আগজ

শেরপুর শহরের একটি রাইস প্রসেসিং মিল থেকে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন ১০০ কেজি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ১২টার দিকে শহরের চাপাতলী এলাকার জেবিন রাইস প্রসেসিং মিলে অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ ও ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটক ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিন (৩২) শহরের কসবা কাঠগড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ৩০ কেজির বস্তায় থাকা বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল অন্য বস্তায় স্থানান্তর করা হচ্ছে- এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ওই মিল থেকে ৩৩ হাজার ১০০ কেজি সরকারি চাল জব্দ এবং ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিনকে আটক করা হয়। অভিযানটির নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল। এর আগেও বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি চাল কারসাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, জব্দ চাল কীভাবে এখানে মজুত করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

শাকিল/নাঈম

সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ
ছবি: খবরের কাগজ

মাঠে বল গড়ানোর অনেক আগে থেকেই স্টেডিয়ামমুখী মানুষের ঢল। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে গ্যালারিতে প্রবেশ করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম (সাগরিকা) এখন উৎসবের নগরী। ঘরের মাঠে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টিম বাংলাদেশের লড়াই দেখতে গ্যালারি এখন দর্শকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ।

​শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার, ফেস্টুন আর লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে আসতে শুরু করেন দর্শকরা। ম্যাচ শুরু হতেই গ্যালারি থেকে আসা গগনবিদারী স্লোগান আর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সাগরিকা অঞ্চল। বন্দরনগরীর দর্শকদের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও অকুণ্ঠ সমর্থন মাঠে ক্রিকেটারদের বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে  ব্যাটারদের চাপে রাখার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশের বোলাররা। আর মাঠের প্রতিটা ভালো ডেলিভারি ও ফিল্ডিংয়ের কৃতিত্ব দর্শকরা উদযাপন করছেন করতালির মাধ্যমে।​ সাগরিকার এই চেনা গর্জন ও দর্শকদের বিপুল উপস্থিতি মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে আরও একধাপ এগিয়ে রাখবে এবং শেষ পর্যন্ত একটি রোমাঞ্চকর জয় উপহার দেবে-এমনটাই প্রত্যাশা চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমীদের।

প্রায় ২০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার চট্টগ্রাম বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরেছিলো স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ম্যাচ হারলে হবে সিরিজ পরাজয়। তাই জেতার জন্য লড়ছে বাংলাদেশ।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ক্রিকেট দেখতে আসা রফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, আজ বাংলাদেশকে অবশ্যই জিততে হবে। শুরু থেকে সুন্দর খেলা উপভোগ করছি। আশা করছি দ্বিতীয় ম্যাচ জিতবে প্রিয় দল।

চট্টগ্রামের ক্রীড়া সাংবাদিক নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, বেশ জমেছে এ টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রতিটি ওভারে দর্শকদের উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে সব সময় উত্তেজনা থাকে। এবারে চট্টগ্রামের ম্যাচেও তাই দেখা যাচ্ছে। 

আবদুস সাত্তার/থিওটোনিয়াস