স্বামী ও শ্বশুরের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন বৃষ্টি আক্তার (২৭) নামের এক গৃহবধূ। এই ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে নিহতের পরিবার মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছে।
সোমবার (৩০ জুন) রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মকিমপুর গ্রামে ঘটে মর্মান্তিক এ ঘটনা। বৃষ্টি রেখে গেছেন চার বছর বয়সী কন্যা তায়েবা ও ১৪ মাস বয়সী ছোট মেয়ে তাহিয়াকে।
পরদিন মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে নিহতের ভাই মো. সুমন মাহমুদ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন বৃষ্টির স্বামী সাদ্দাম হোসেন ও শ্বশুর মো. মোজাম মিয়া।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই বৃষ্টি তার স্বামী সাদ্দামের পরকীয়ার প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এর জেরে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল নির্যাতন। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশ হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার রাত ৯টার দিকে সাদ্দামের ফোনে এক নারীর কল আসায় বৃষ্টি জিজ্ঞাসা করলে সাদ্দাম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ ও চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় তার পিতা মোজাম মিয়াও ছেলের পক্ষ নিয়ে বৃষ্টিকে অপমান করেন। সাদ্দাম একপর্যায়ে বৃষ্টিকে বলেন, ‘ফাঁস দিয়ে বা বিষ খেয়ে মরতে পারিস না?’ এই কথা বলেই তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান।
পরে বৃষ্টি ঘরের ভেতরে কীটনাশক পান করেন। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে প্রথমে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বৃষ্টির।
বৃষ্টির ভাই মো. সুমন মাহমুদ বলেন, ‘আমার বোনকে নিয়মিত মারধর ও মানসিক নির্যাতন করত সাদ্দাম ও তার বাবা। সোমবার যা হয়েছে, সেটি সরাসরি আত্মহত্যায় প্ররোচনা। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আমান উল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’
আসাদ জামান/