বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। বিভাগের বিভিন্ন জেলায় চলতি বছরে মৃত্যু না হলেও ডায়রিয়ায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকসংকটের কারণে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত বুধবার বেলা আড়াইটা থেকে বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১৪৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে একজনের। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন বরিশালে ২৫ জন, পটুয়াখালীতে ১৫ জন, ভোলা ও ঝালকাঠিতে একজন করে, পিরোজপুরে ৭ জন এবং বরগুনায় ৮৭ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৫ হাজার ২০৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) বেলা আড়াইটা থেকে থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২৫৭ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৪৮ জন, পটুয়াখালীতে ৩৫ জন, ভোলায় ৫৫ জন, পিরোজপুরে ৪৬ জন, বরগুনায় ২৬ জন এবং ঝালকাঠিতে ৪৭ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৭৩৯ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এদের মধ্যে কারোরই মৃত্যু হয়নি।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. মনিরুজ্জামান শাহিন বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসকসংকটের কারণে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। হাসপাতালের বেশির ভাগ রোগীই ডেঙ্গুর সঙ্গে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।’
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘বর্তমানে বরিশালে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গুর চেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সব ধরনের সাপোর্ট থাকলেও চিকিৎসকসংকট রয়েছে। এ সংকটের মধ্যেও আমরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সব ধরনের রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইন মজুত রয়েছে। রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য সব সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া আছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে আলাদা ইউনিট করে চিকিৎসা দেওয়ার কথাও বলা আছে।’